ধেয়ে আসছে প্রাক-মৌসুমি বৃষ্টিবলয় ‘গোধূলি’:
ঢাকাসহ সারাদেশে কালবৈশাখী ও শিলাবৃষ্টির পূর্বাভাস
- আপডেট সময়ঃ ০৯:৪৫:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬
- / ৭ বার পড়া হয়েছে।
তপ্ত চৈত্রের খরতাপ আর ভ্যাপসা গরমে যখন জনজীবন ওষ্ঠাগত, ঠিক তখনই স্বস্তির পরশ নিয়ে প্রকৃতিতে নামছে বছরের প্রথম প্রাক-মৌসুমি বৃষ্টিবলয় ‘গোধূলি’।
আজ শুক্রবার (১৩ মার্চ) রাত থেকেই দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল দিয়ে এই বৃষ্টিবলয়টি সক্রিয় হতে শুরু করবে। বেসরকারি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ সংস্থা ‘বাংলাদেশ আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ দল’ (বিডব্লিউওটি) জানিয়েছে, এর প্রভাবে দেশের প্রায় অর্ধেক এলাকায় কালবৈশাখী ঝড়, বজ্রপাত এবং শিলাবৃষ্টির প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়াবিদদের তথ্যমতে, আজ শুক্রবার রাতে সিলেট, রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগ দিয়ে এই বৃষ্টিবলয়টি বাংলাদেশে প্রবেশ করবে। মূলত ১৩ মার্চ থেকে ১৭ মার্চ পর্যন্ত এটি সারা দেশে সক্রিয় থাকবে, যার মধ্যে ১৬ মার্চ পর্যন্ত এর তীব্রতা থাকবে সবচেয়ে বেশি। আগামী ১৮ মার্চ উপকূলীয় এলাকা দিয়ে এই মেঘমালা বাংলাদেশ ত্যাগ করতে পারে। প্রায় পাঁচ দিনব্যাপী এই প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া দেশের আবহাওয়া পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তন আনবে।
সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়বে যে এলাকায়
এই আংশিক বৃষ্টিবলয়টি মূলত দেশের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলীয় জেলাগুলোতে বেশি প্রভাব ফেলবে।
সর্বাধিক সক্রিয় অঞ্চল: সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগ সম্পূর্ণভাবে এই বলয়ের অধীনে থাকবে। এ ছাড়া ঢাকা বিভাগের উত্তর-পূর্বাংশ, চট্টগ্রাম বিভাগের উত্তরাংশ এবং রংপুর বিভাগের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাংশে এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি অনুভূত হবে।
মাঝারি সক্রিয় অঞ্চল: ঢাকা ও রংপুর বিভাগের অবশিষ্টাংশসহ রাজশাহী এবং খুলনা বিভাগের উত্তরাঞ্চলে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি ও ঝড়ের সম্ভাবনা রয়েছে।
কম সক্রিয় অঞ্চল: বরিশাল বিভাগ এবং খুলনা ও চট্টগ্রামের দক্ষিণপ্রান্তের জেলাগুলোতে বৃষ্টির সক্রিয়তা তুলনামূলক কম থাকতে পারে।
বৃষ্টিবলয় চলাকালীন বায়ুমণ্ডলের অস্থিরতার কারণে ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে কালবৈশাখী ঝড় বয়ে যেতে পারে। সেই সঙ্গে মাঝারি থেকে তীব্র বজ্রপাত এবং বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। এই সময়ে উত্তর বঙ্গোপসাগর সামান্য উত্তাল থাকতে পারে, তাই মৎস্যজীবীদের সাবধানে চলাচলের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
চৈত্রের এই বৃষ্টি দেশের কৃষি খাতের জন্য আশীর্বাদ হয়ে আসছে। বিডব্লিউওটির মতে, দেশের প্রায় ২৫-৩৫ শতাংশ এলাকার সেচের চাহিদা এই বৃষ্টিতে পূরণ হতে পারে, যা বোরো ধানসহ রবি শস্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী। টানা কয়েকদিন আকাশ মেঘলা থাকায় উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে আবহাওয়া বেশ আরামদায়ক থাকবে। তবে দক্ষিণাঞ্চলে বৃষ্টির বিরতিতে সাময়িক ভ্যাপসা গরম অনুভূত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
অধিক বৃষ্টিপাতের কারণে সিলেট বিভাগের পাহাড়ি এলাকাগুলোতে ভূমিধসের কিছুটা ঝুঁকি রয়েছে। তবে আবহাওয়া পর্যবেক্ষকরা নিশ্চিত করেছেন যে, এই বৃষ্টিবলয়ের কারণে বর্তমানে দেশে কোনো বন্যার আশঙ্কা নেই।
দীর্ঘ কয়েকদিনের গুমোট গরমের পর ‘গোধূলি’র এই আগমন জনজীবনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে কালবৈশাখীর সময় সবাইকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।




















