আড়াই দশকের রক্তক্ষয়ী বিরোধের অবসানঃ
বড়পাড়া ঈদগাহ ও কবরস্থানের উন্নয়নে নবদিগন্ত সূচনা করলেন এমপি নুরুল
- আপডেট সময়ঃ ০৯:২৯:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬
- / ৬ বার পড়া হয়েছে।
সুনামগঞ্জ শহরের প্রাচীন বসতি বড়পাড়া এলাকায় দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে চলা একটি পুরোনো ও জটিল সামাজিক বিরোধের অবসান ঘটেছে। বড়পাড়া ঈদগাহ এবং কবরস্থানের জায়গার মালিকানা ও পরিচালনা কমিটি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরাজমান এই দ্বন্দ্বের কারণে দীর্ঘ আড়াই দশক ধরে থমকে ছিল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়ন।
অবশেষে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ীদের দীর্ঘ প্রচেষ্টায় এই বিরোধের শান্তিপূর্ণ নিষ্পত্তি হয়েছে, যা এলাকায় স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বড়পাড়া এলাকায় দুটি প্রভাবশালী পক্ষ গত প্রায় ২৫ বছর ধরে একে অপরের প্রতিপক্ষ হিসেবে অবস্থান করছিল। দ্বন্দ্বের মূল ইস্যু ছিল এলাকার ঈদগাহ ও কবরস্থানের ভূমি স্বত্ব এবং এর নিয়ন্ত্রণকারী কমিটির নেতৃত্ব। এর আগে একাধিকবার জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা এই বিরোধ মেটানোর উদ্যোগ নিলেও কোনো পক্ষই ছাড় দিতে রাজি না হওয়ায় পরিস্থিতি জটিল থেকে জটিলতর হয়।
বছরের পর বছর ধরে চলা এই মামলা-পাল্টা মামলা আর দলাদলির কারণে সাধারণ মুসল্লি ও এলাকাবাসী চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছিলেন।
দুই দশকের বেশি সময় ধরে জিইয়ে থাকা এই বিরোধ মেটাতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম নুরুল এবং বিশিষ্ট ব্যবসায়ী জিয়াউল হক। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার এমপি মহোদয়ের প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় একটি সম্মেলন কক্ষে দুপক্ষকে নিয়ে এক রুদ্ধদ্বার সমঝোতা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
এই মধ্যস্থতায় মূল সমন্বয়কারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট শেরেনুর আলী এবং সুনামগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সিনিয়র সহ-সভাপতি মিনহাজ জুয়েল। দীর্ঘ আলোচনার পর উভয় পক্ষ অতীতের সকল ভেদাভেদ ভুলে এক টেবিলে বসতে এবং যৌথভাবে কাজ করতে সম্মত হয়।
বিরোধ নিষ্পত্তির পরপরই গত বুধবার বিকেলে বড়পাড়া এলাকায় এক উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম নুরুল বড়পাড়া ঈদগাহের নতুন উন্নয়ন কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন এবং কবরস্থানের নিচু জমি মাটি ভরাট কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
উদ্বোধন পরবর্তী আলোচনা সভায় নবনির্বাচিত ঈদগাহ কমিটির সভাপতি ছমির উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমানের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য এডভোকেট নুরুল ইসলাম নুরুল বলেন: “বড়পাড়ার এই বিরোধ শুধু এলাকার নয়, পুরো জেলার জন্য একটি দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা ছিল। আজ আমরা সেই কালো অধ্যায় মুছে ফেলে উন্নয়নের আলোয় প্রবেশ করেছি। এই সম্প্রীতি যেন কেউ নষ্ট করতে না পারে, সেজন্য আমি এলাকাবাসীর দোয়া ও সহযোগিতা চাই।”
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট শেরেনুর আলী বলেন: “দীর্ঘদিন একটি পক্ষের জেদের কারণে এই পবিত্র স্থানগুলোর উন্নয়ন থমকে ছিল। আমাদের এমপি সাহেব এবং জিয়াউল হক ভাইয়ের আন্তরিকতায় আজ বড়পাড়াবাসী এক হয়েছে। আমরা চাই এই আন্তরিকতা অটুট থাকুক।”
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক জামাল উদ্দিন বাকের, জেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন, কবরস্থান কমিটির সভাপতি রেনু মিয়া, ঈদগাহ কমিটির সহ-সভাপতি শফিক মিয়া, নাজিম উদ্দিন, কামরুজ্জামান, কোষাধ্যক্ষ রাসেল আহমেদ, শিক্ষক এনামুল হক, রজব আলীসহ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ এবং এলাকার স্থানীয় মুরুব্বিগণ।
বড়পাড়া এলাকার সাধারণ বাসিন্দারা মনে করছেন, এই সমঝোতার ফলে কেবল অবকাঠামোগত উন্নয়নই নয়, বরং দীর্ঘদিনের সামাজিক অস্থিরতা কমে গিয়ে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন সুদৃঢ় হবে।














