০২:৩৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৯ মার্চ ২০২৬
‎সুনামগঞ্জে অবৈধ পেট্রোল মজুতঃ

বৈধ লাইসেন্সবিহীন ব্যবসার দায়ে পেট্রোল ব্যবসায়ীর জেল ও জরিমানা

নিজস্ব সংবাদদাতাঃ
  • আপডেট সময়ঃ ০৯:৫৩:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬
  • / ৪ বার পড়া হয়েছে।

‎সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার গৌরারং ইউনিয়নে বিপুল পরিমাণ পেট্রোল অবৈধভাবে মজুত করার দায়ে এক ব্যবসায়ীকে ছয় মাসের কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। 

আজ রোববার (৮ মার্চ) বিকেলে ইউনিয়নের আহমেদাবাদ পয়েন্টে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করা হয়।

 

‎জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আহমেদাবাদ পয়েন্টের একটি সাধারণ মুদি দোকানে কোনো প্রকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা বা বৈধ লাইসেন্স ছাড়াই দাহ্য পদার্থ পেট্রোল মজুত ও বিক্রি করা হচ্ছে- এমন একটি সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রশাসনের কাছে পৌঁছায়। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নজরে আনা হলে জননিরাপত্তার স্বার্থে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

‎বিকেল আনুমানিক সাড়ে তিনটায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট জনাব মোহাম্মদ সোয়াদ সাত্তার চৌধুরী-র নেতৃত্বে চৌধুরী ট্রেডার্সে অভিযান চালানো হয়।

 

‎অভিযান চলাকালে দেখা যায়, ওই দোকানের স্বত্বাধিকারী মোঃ সোহেল চৌধুরী (৩৫) (পিতা- মৃত গিয়াস চৌধুরী, গ্রাম: আহমেদাবাদ) তার দোকানে কোনো প্রকার বৈধ অনুমোদন ছাড়াই ১১ ব্যারেল (প্রতি ব্যারেল=২০০ লিটার) পেট্রোল অবৈধভাবে মজুত করে রেখেছেন।

 

‎ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় সাধারণ মুদি দোকানের আড়ালে এভাবে দাহ্য পদার্থ মজুত রাখায় বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড বা প্রাণহানির ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল বলে ভ্রাম্যমাণ আদালত মন্তব্য করেন।

‎পেট্রোল বিক্রির সপক্ষে কোনো বৈধ কাগজপত্র বা বিস্ফোরক অধিদপ্তরের ছাড়পত্র দেখাতে না পারায় সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী আদালত তাকে দোষী সাব্যস্ত করেন। ভ্রাম্যমাণ আদালত তাৎক্ষণিকভাবে নিম্নোক্ত রায় প্রদান করেন:

‎ * কারাদণ্ড: দণ্ডপ্রাপ্ত সোহেল চৌধুরীকে ০৬ (ছয়) মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।

‎ * অর্থদণ্ড: ১০,০০০ (দশ হাজার) টাকা নগদ জরিমানা করা হয়, যা আসামি তাৎক্ষণিকভাবে পরিশোধ করেন।

 

‎অভিযান পরিচালনাকারী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ সোয়াদ সাত্তার চৌধুরী জানান, “লাইসেন্স ছাড়া বিস্ফোরক ও দাহ্য পদার্থ মজুত রাখা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার মতো কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের এই জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত থাকবে।”

 

অভিযান শেষে সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও পুলিশি কার্যক্রম নিয়ে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রতন শেখ বলেন: “গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জেলা প্রশাসনের পরিচালিত এই অভিযানে আমরা সার্বিক নিরাপত্তা ও আইনগত সহায়তা প্রদান করেছি। জনবসতিপূর্ণ এলাকায় কোনো প্রকার অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা বা বৈধ লাইসেন্স ছাড়া পেট্রোলের মতো দাহ্য পদার্থ মজুত করা একটি মারাত্মক অপরাধ, যা যেকোনো সময় বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড বা প্রাণহানির কারণ হতে পারতো। দণ্ডিত আসামিকে ইতোমধ্যেই পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং বিজ্ঞ আদালতের রায় অনুযায়ী তাকে জেলখানায় প্রেরণের আইনানুগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অবৈধ মজুতদারদের বিরুদ্ধে আমাদের নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

 

‎জরিমানার অর্থ পরিশোধ করা হলেও কারাদণ্ডাদেশ কার্যকর করার লক্ষ্যে দণ্ডিত সোহেল চৌধুরীকে পুলিশি পাহারায় সুনামগঞ্জ জেলা কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

স্থানীয় সচেতন মহল প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

‎সুনামগঞ্জে অবৈধ পেট্রোল মজুতঃ

বৈধ লাইসেন্সবিহীন ব্যবসার দায়ে পেট্রোল ব্যবসায়ীর জেল ও জরিমানা

আপডেট সময়ঃ ০৯:৫৩:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬

‎সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার গৌরারং ইউনিয়নে বিপুল পরিমাণ পেট্রোল অবৈধভাবে মজুত করার দায়ে এক ব্যবসায়ীকে ছয় মাসের কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। 

আজ রোববার (৮ মার্চ) বিকেলে ইউনিয়নের আহমেদাবাদ পয়েন্টে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করা হয়।

 

‎জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আহমেদাবাদ পয়েন্টের একটি সাধারণ মুদি দোকানে কোনো প্রকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা বা বৈধ লাইসেন্স ছাড়াই দাহ্য পদার্থ পেট্রোল মজুত ও বিক্রি করা হচ্ছে- এমন একটি সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রশাসনের কাছে পৌঁছায়। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নজরে আনা হলে জননিরাপত্তার স্বার্থে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

‎বিকেল আনুমানিক সাড়ে তিনটায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট জনাব মোহাম্মদ সোয়াদ সাত্তার চৌধুরী-র নেতৃত্বে চৌধুরী ট্রেডার্সে অভিযান চালানো হয়।

 

‎অভিযান চলাকালে দেখা যায়, ওই দোকানের স্বত্বাধিকারী মোঃ সোহেল চৌধুরী (৩৫) (পিতা- মৃত গিয়াস চৌধুরী, গ্রাম: আহমেদাবাদ) তার দোকানে কোনো প্রকার বৈধ অনুমোদন ছাড়াই ১১ ব্যারেল (প্রতি ব্যারেল=২০০ লিটার) পেট্রোল অবৈধভাবে মজুত করে রেখেছেন।

 

‎ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় সাধারণ মুদি দোকানের আড়ালে এভাবে দাহ্য পদার্থ মজুত রাখায় বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড বা প্রাণহানির ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল বলে ভ্রাম্যমাণ আদালত মন্তব্য করেন।

‎পেট্রোল বিক্রির সপক্ষে কোনো বৈধ কাগজপত্র বা বিস্ফোরক অধিদপ্তরের ছাড়পত্র দেখাতে না পারায় সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী আদালত তাকে দোষী সাব্যস্ত করেন। ভ্রাম্যমাণ আদালত তাৎক্ষণিকভাবে নিম্নোক্ত রায় প্রদান করেন:

‎ * কারাদণ্ড: দণ্ডপ্রাপ্ত সোহেল চৌধুরীকে ০৬ (ছয়) মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।

‎ * অর্থদণ্ড: ১০,০০০ (দশ হাজার) টাকা নগদ জরিমানা করা হয়, যা আসামি তাৎক্ষণিকভাবে পরিশোধ করেন।

 

‎অভিযান পরিচালনাকারী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ সোয়াদ সাত্তার চৌধুরী জানান, “লাইসেন্স ছাড়া বিস্ফোরক ও দাহ্য পদার্থ মজুত রাখা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার মতো কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের এই জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত থাকবে।”

 

অভিযান শেষে সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও পুলিশি কার্যক্রম নিয়ে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রতন শেখ বলেন: “গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জেলা প্রশাসনের পরিচালিত এই অভিযানে আমরা সার্বিক নিরাপত্তা ও আইনগত সহায়তা প্রদান করেছি। জনবসতিপূর্ণ এলাকায় কোনো প্রকার অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা বা বৈধ লাইসেন্স ছাড়া পেট্রোলের মতো দাহ্য পদার্থ মজুত করা একটি মারাত্মক অপরাধ, যা যেকোনো সময় বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড বা প্রাণহানির কারণ হতে পারতো। দণ্ডিত আসামিকে ইতোমধ্যেই পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং বিজ্ঞ আদালতের রায় অনুযায়ী তাকে জেলখানায় প্রেরণের আইনানুগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অবৈধ মজুতদারদের বিরুদ্ধে আমাদের নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

 

‎জরিমানার অর্থ পরিশোধ করা হলেও কারাদণ্ডাদেশ কার্যকর করার লক্ষ্যে দণ্ডিত সোহেল চৌধুরীকে পুলিশি পাহারায় সুনামগঞ্জ জেলা কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

স্থানীয় সচেতন মহল প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।