০৯:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
বিয়ের আনন্দ মুহূর্তেই বিষাদঃ

রামপালে বাস-মাইক্রোবাস সংঘর্ষে বর-কনেসহ নিহত ১৩

হক বার্তা ডেস্ক রিপোর্টঃ
  • আপডেট সময়ঃ ০৮:৪৭:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
  • / ৬ বার পড়া হয়েছে।

বাগেরহাট বিয়েবাড়ির আনন্দ আর স্বজনদের কলকাকলিতে মুখরিত ছিল চারপাশ। দুপুরে ধুমধাম করে বিয়ে শেষ করে নবদম্পতি রওনা হয়েছিলেন বরের বাড়ির উদ্দেশ্যে। কিন্তু সেই যাত্রাই যে জীবনের শেষ যাত্রা হবে, তা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি।

বাগেরহাটের রামপালে নৌবাহিনীর একটি বাস ও বরযাত্রীবাহী মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ঝরে গেছে ১৩টি তাজা প্রাণ। নিহতদের মধ্যে বর ও কনেসহ একই পরিবারের সদস্য রয়েছেন ১২ জন।

‎বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে রামপাল উপজেলার বেলাই ব্রিজ এলাকায় ঘটে এই বিভীষিকাময় দুর্ঘটনা। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মোংলা থেকে ছেড়ে আসা নৌবাহিনীর একটি বাসের সাথে খুলনা থেকে আসা বরযাত্রীবাহী মাইক্রোবাসটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।

‎সংঘর্ষের প্রচণ্ডতায় মাইক্রোবাসটি মুহূর্তেই দুমড়েমুচড়ে রাস্তার পাশে ছিটকে পড়ে। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তিন নারীসহ চারজনের। বিকট শব্দ শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত উদ্ধারকাজে এগিয়ে আসেন এবং পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেন।

 

‎নিহত কনে মার্জিয়া আক্তারের (মিতু) মামা আবু তাহের কান্নায় ভেঙে পড়ে জানান, আজ দুপুরেই খুলনার কয়রা উপজেলার নাকশায় মার্জিয়ার বিয়ে সম্পন্ন হয়েছিল। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে কনেকে নিয়ে বরযাত্রীরা মোংলার শেলাবুনিয়ায় বরের বাড়ির উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন। কিন্তু রামপালের কাছাকাছি পৌঁছাতেই এই ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ঘটে। এতে মার্জিয়া, তার বোন লামিয়া, তাদের নানী এবং বরসহ একই পরিবারের প্রায় সবাই না ফেরার দেশে চলে গেছেন। মুহূর্তেই খুশির পরিবেশ পরিণত হয়েছে বিষাদ আর কান্নার রোলে।

‎বাগেরহাটের কাটাখালী হাইওয়ে থানার ওসি মো. জাফর আহমেদ জানান, নৌবাহিনীর বাসটি মোংলা থেকে আসছিল এবং মাইক্রোবাসটি খুলনা থেকে মোংলার দিকে যাচ্ছিল। বেলাই ব্রিজের কাছে গাড়ি দুটির মুখোমুখি সংঘর্ষে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।

খবর পাওয়ার সাথে সাথেই পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। আহত ও নিহতদের উদ্ধার করে দ্রুত রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

‎রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সুকান্ত কুমার পাল জানান, ঘটনাস্থলেই চারজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গিয়েছিল। অন্যদিকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক মেহেনাজ মোশাররফ জানান, সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সেখানে ৮ জনের মরদেহ আনা হয়েছে। এর মধ্যে ৩ জন শিশু, ৩ জন নারী ও ২ জন পুরুষ ছিলেন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যু হলে মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়ায় ১৩ জনে।

‎এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে হাসপাতালের বাতাস। সড়ক দুর্ঘটনার এমন করুণ পরিণতি আবারো চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল পথের অনিশ্চয়তাকে। পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

 

তথ্যসহায়তাঃমানবজমিন

ট্যাগসঃ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

বিয়ের আনন্দ মুহূর্তেই বিষাদঃ

রামপালে বাস-মাইক্রোবাস সংঘর্ষে বর-কনেসহ নিহত ১৩

আপডেট সময়ঃ ০৮:৪৭:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬

বাগেরহাট বিয়েবাড়ির আনন্দ আর স্বজনদের কলকাকলিতে মুখরিত ছিল চারপাশ। দুপুরে ধুমধাম করে বিয়ে শেষ করে নবদম্পতি রওনা হয়েছিলেন বরের বাড়ির উদ্দেশ্যে। কিন্তু সেই যাত্রাই যে জীবনের শেষ যাত্রা হবে, তা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি।

বাগেরহাটের রামপালে নৌবাহিনীর একটি বাস ও বরযাত্রীবাহী মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ঝরে গেছে ১৩টি তাজা প্রাণ। নিহতদের মধ্যে বর ও কনেসহ একই পরিবারের সদস্য রয়েছেন ১২ জন।

‎বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে রামপাল উপজেলার বেলাই ব্রিজ এলাকায় ঘটে এই বিভীষিকাময় দুর্ঘটনা। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মোংলা থেকে ছেড়ে আসা নৌবাহিনীর একটি বাসের সাথে খুলনা থেকে আসা বরযাত্রীবাহী মাইক্রোবাসটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।

‎সংঘর্ষের প্রচণ্ডতায় মাইক্রোবাসটি মুহূর্তেই দুমড়েমুচড়ে রাস্তার পাশে ছিটকে পড়ে। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তিন নারীসহ চারজনের। বিকট শব্দ শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত উদ্ধারকাজে এগিয়ে আসেন এবং পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেন।

 

‎নিহত কনে মার্জিয়া আক্তারের (মিতু) মামা আবু তাহের কান্নায় ভেঙে পড়ে জানান, আজ দুপুরেই খুলনার কয়রা উপজেলার নাকশায় মার্জিয়ার বিয়ে সম্পন্ন হয়েছিল। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে কনেকে নিয়ে বরযাত্রীরা মোংলার শেলাবুনিয়ায় বরের বাড়ির উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন। কিন্তু রামপালের কাছাকাছি পৌঁছাতেই এই ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ঘটে। এতে মার্জিয়া, তার বোন লামিয়া, তাদের নানী এবং বরসহ একই পরিবারের প্রায় সবাই না ফেরার দেশে চলে গেছেন। মুহূর্তেই খুশির পরিবেশ পরিণত হয়েছে বিষাদ আর কান্নার রোলে।

‎বাগেরহাটের কাটাখালী হাইওয়ে থানার ওসি মো. জাফর আহমেদ জানান, নৌবাহিনীর বাসটি মোংলা থেকে আসছিল এবং মাইক্রোবাসটি খুলনা থেকে মোংলার দিকে যাচ্ছিল। বেলাই ব্রিজের কাছে গাড়ি দুটির মুখোমুখি সংঘর্ষে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।

খবর পাওয়ার সাথে সাথেই পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। আহত ও নিহতদের উদ্ধার করে দ্রুত রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

‎রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সুকান্ত কুমার পাল জানান, ঘটনাস্থলেই চারজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গিয়েছিল। অন্যদিকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক মেহেনাজ মোশাররফ জানান, সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সেখানে ৮ জনের মরদেহ আনা হয়েছে। এর মধ্যে ৩ জন শিশু, ৩ জন নারী ও ২ জন পুরুষ ছিলেন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যু হলে মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়ায় ১৩ জনে।

‎এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে হাসপাতালের বাতাস। সড়ক দুর্ঘটনার এমন করুণ পরিণতি আবারো চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল পথের অনিশ্চয়তাকে। পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

 

তথ্যসহায়তাঃমানবজমিন