১০:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬
৭ দফা নির্দেশনা জারিঃ

‎সরকারি হাসপাতালে ট্রলি-হুইলচেয়ার সিন্ডিকেট নির্মূলে কঠোর সরকারঃ

হক বার্তা ডেস্ক রিপোর্টঃ
  • আপডেট সময়ঃ ০৮:৪৫:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬
  • / ৫ বার পড়া হয়েছে।

দেশের সকল সরকারি হাসপাতালে রোগীদের ভোগান্তি লাঘবে এবং দালাল চক্রের শিকড় উপড়ে ফেলতে জরুরি ভিত্তিতে সাত দফা নির্দেশনা জারি করেছে স্বাস্থ্য প্রশাসন। এখন থেকে দেশের প্রতিটি সরকারি হাসপাতালে হুইলচেয়ার ও ট্রলি সেবা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রদান নিশ্চিত করতে হবে।

 

সোমবার (২ মার্চ) এক বিশেষ অফিস আদেশের মাধ্যমে (স্মারক নং: ৪৫,০০,০০০০,০০০,১৬০.১৮.০০০৩.২৬.২৩৩) এই নির্দেশনা কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

‎স্বাস্থ্য খাতের শৃঙ্খলা ফেরাতে জারিকৃত এই আদেশে মূলত সেবার মানোন্নয়ন এবং দালালদের দৌরাত্ম্য বন্ধের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে:

‎১. বিনামূল্যে সেবা ও দৃশ্যমান তথ্য: হাসপাতালের প্রতিটি প্রবেশপথ ও জরুরি বিভাগের সামনে পর্যাপ্ত সংখ্যক হুইলচেয়ার ও ট্রলি মজুত রাখতে হবে। সাধারণ রোগীরা যেন বিভ্রান্ত না হন, সেজন্য ‘সেবাটি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে’—এই মর্মে বড় হরফে সাইনবোর্ড বা লিখিত নির্দেশনা টাঙানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

‎২. নির্দিষ্ট জনবল ও ইউনিফর্ম: আদেশে বলা হয়েছে, শুধুমাত্র হাসপাতালের নির্ধারিত ইউনিফর্ম পরিহিত সেবাকর্মী বা ওয়ার্ডবয়রাই হুইলচেয়ার ও ট্রলি বহন করবেন। কোনো বহিরাগত ব্যক্তি বা ইউনিফর্মহীন কাউকে এই কাজে যুক্ত হতে দেওয়া হবে না।

‎৩. দালাল নির্মূলে জিরো টলারেন্স ও ভ্রাম্যমাণ আদালত: হাসপাতাল প্রাঙ্গণ দালাল-মুক্ত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কঠোর হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দালালের দৌরাত্ম্য বন্ধে নিয়মিত বিরতিতে পুলিশি অভিযান এবং ভ্রাম্যমাণ আদালত (Mobile Court) পরিচালনার মাধ্যমে তাৎক্ষণিক শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

‎৪. অন্তর্ঘাতী চক্র শনাক্তকরণ: হাসপাতালের ভেতরে যারা দালালের সাথে যোগসাজশ রেখে কাজ করে বা তাদের সহায়তা প্রদান করে, তাদের দ্রুততম সময়ে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে বলা হয়েছে।

‎৫. বখশিশ ও অবৈধ অর্থ আদায় বন্ধ: কোনো সেবার বিনিময়ে রোগীদের কাছ থেকে বখশিশ চাওয়া বা নিয়মবহির্ভূত অর্থ আদায় করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কেউ যদি অর্থ দাবি করে, তবে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলার পাশাপাশি কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

‎ভোক্তা ও রোগীদের জন্য বিশেষ পরামর্শঃ সেবা পেতে সমস্যা হলে কী করবেন?

‎* কোনো কর্মী টাকা দাবি করলে সরাসরি হাসপাতালের পরিচালক (Director) বা তত্ত্বাবধায়কের (Superintendent) কার্যালয়ে অভিযোগ জানান।

* প্রতিটি হাসপাতালে অভিযোগ বক্স বা হেল্পলাইন নম্বর থাকলে সেখানে তথ্য দিন।

* দালালের খপ্পরে না পড়ে সরাসরি হাসপাতালের ইউনিফর্ম পরা কর্মীদের সহায়তা নিন।

 

‎স্বাস্থ্য খাতের বিশেষজ্ঞরা এই পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তারা বলছেন, অনেক সময় মুমূর্ষু রোগীকে গাড়ি থেকে নামানোর পর ট্রলি পেতে দালালের হাতে জিম্মি হতে হয়।

এই নির্দেশনা কঠোরভাবে বাস্তবায়িত হলে সাধারণ মানুষের চিকিৎসা ব্যয় যেমন কমবে, তেমনি হাসপাতালে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

৭ দফা নির্দেশনা জারিঃ

‎সরকারি হাসপাতালে ট্রলি-হুইলচেয়ার সিন্ডিকেট নির্মূলে কঠোর সরকারঃ

আপডেট সময়ঃ ০৮:৪৫:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬

দেশের সকল সরকারি হাসপাতালে রোগীদের ভোগান্তি লাঘবে এবং দালাল চক্রের শিকড় উপড়ে ফেলতে জরুরি ভিত্তিতে সাত দফা নির্দেশনা জারি করেছে স্বাস্থ্য প্রশাসন। এখন থেকে দেশের প্রতিটি সরকারি হাসপাতালে হুইলচেয়ার ও ট্রলি সেবা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রদান নিশ্চিত করতে হবে।

 

সোমবার (২ মার্চ) এক বিশেষ অফিস আদেশের মাধ্যমে (স্মারক নং: ৪৫,০০,০০০০,০০০,১৬০.১৮.০০০৩.২৬.২৩৩) এই নির্দেশনা কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

‎স্বাস্থ্য খাতের শৃঙ্খলা ফেরাতে জারিকৃত এই আদেশে মূলত সেবার মানোন্নয়ন এবং দালালদের দৌরাত্ম্য বন্ধের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে:

‎১. বিনামূল্যে সেবা ও দৃশ্যমান তথ্য: হাসপাতালের প্রতিটি প্রবেশপথ ও জরুরি বিভাগের সামনে পর্যাপ্ত সংখ্যক হুইলচেয়ার ও ট্রলি মজুত রাখতে হবে। সাধারণ রোগীরা যেন বিভ্রান্ত না হন, সেজন্য ‘সেবাটি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে’—এই মর্মে বড় হরফে সাইনবোর্ড বা লিখিত নির্দেশনা টাঙানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

‎২. নির্দিষ্ট জনবল ও ইউনিফর্ম: আদেশে বলা হয়েছে, শুধুমাত্র হাসপাতালের নির্ধারিত ইউনিফর্ম পরিহিত সেবাকর্মী বা ওয়ার্ডবয়রাই হুইলচেয়ার ও ট্রলি বহন করবেন। কোনো বহিরাগত ব্যক্তি বা ইউনিফর্মহীন কাউকে এই কাজে যুক্ত হতে দেওয়া হবে না।

‎৩. দালাল নির্মূলে জিরো টলারেন্স ও ভ্রাম্যমাণ আদালত: হাসপাতাল প্রাঙ্গণ দালাল-মুক্ত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কঠোর হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দালালের দৌরাত্ম্য বন্ধে নিয়মিত বিরতিতে পুলিশি অভিযান এবং ভ্রাম্যমাণ আদালত (Mobile Court) পরিচালনার মাধ্যমে তাৎক্ষণিক শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

‎৪. অন্তর্ঘাতী চক্র শনাক্তকরণ: হাসপাতালের ভেতরে যারা দালালের সাথে যোগসাজশ রেখে কাজ করে বা তাদের সহায়তা প্রদান করে, তাদের দ্রুততম সময়ে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে বলা হয়েছে।

‎৫. বখশিশ ও অবৈধ অর্থ আদায় বন্ধ: কোনো সেবার বিনিময়ে রোগীদের কাছ থেকে বখশিশ চাওয়া বা নিয়মবহির্ভূত অর্থ আদায় করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কেউ যদি অর্থ দাবি করে, তবে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলার পাশাপাশি কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

‎ভোক্তা ও রোগীদের জন্য বিশেষ পরামর্শঃ সেবা পেতে সমস্যা হলে কী করবেন?

‎* কোনো কর্মী টাকা দাবি করলে সরাসরি হাসপাতালের পরিচালক (Director) বা তত্ত্বাবধায়কের (Superintendent) কার্যালয়ে অভিযোগ জানান।

* প্রতিটি হাসপাতালে অভিযোগ বক্স বা হেল্পলাইন নম্বর থাকলে সেখানে তথ্য দিন।

* দালালের খপ্পরে না পড়ে সরাসরি হাসপাতালের ইউনিফর্ম পরা কর্মীদের সহায়তা নিন।

 

‎স্বাস্থ্য খাতের বিশেষজ্ঞরা এই পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তারা বলছেন, অনেক সময় মুমূর্ষু রোগীকে গাড়ি থেকে নামানোর পর ট্রলি পেতে দালালের হাতে জিম্মি হতে হয়।

এই নির্দেশনা কঠোরভাবে বাস্তবায়িত হলে সাধারণ মানুষের চিকিৎসা ব্যয় যেমন কমবে, তেমনি হাসপাতালে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে।