০৭:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

অবশেষে ধোপাজান নদী থেকে অবাধে বালু উত্তোলন বন্ধ ঘোষণা

হক বার্তা ডেস্ক রিপোর্টঃ
  • আপডেট সময়ঃ ১১:৩৯:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ নভেম্বর ২০২৫
  • / ১১৮ বার পড়া হয়েছে।

‎আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় সুনামগঞ্জের ইজারাবিহীন ধোপাজান (চলতি) নদী থেকে অবাধে বালু উত্তোলন বন্ধের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। আজ রোববার জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় এ ঘোষণা দেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া।

‎

‎সভায় ধোপাজান নদী থেকে অবাধে বালু উত্তোলন নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষ। তাঁরা বালু লুট বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান।

‎

‎

‎জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া সভায় বলেন, সকালে জেলা কোর কমিটির সভায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর পক্ষ থেকে ধোপাজান নদীতে বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কার কথা জানানো হয়। তাই আজ থেকে এই নদীতে বালু উত্তোলন বন্ধ থাকবে।

‎

‎সভায় জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মো. আবদুল হক বলেন, এখানে বিটি বালু উত্তোলনের নামে কোটি কোটি টাকার বালু লুট হচ্ছে। এ কারণে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সুনামগঞ্জের রাজনৈতিক নেতাদের বদনাম হচ্ছে। এভাবে প্রকাশ্যে বালু লুট চলতে দেওয়া যায় না।

‎

‎জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়ার সভাপতিত্বে এবং অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সুনজিত চন্দের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় পুলিশ সুপার মো. তোফায়েল আহাম্মেদ, সুনামগঞ্জে বিজিবির ২৮ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এ কে এম জাকারিয়া কাদির, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও সুনামগঞ্জের পাবলিক প্রসিকিউটর মল্লিক মো. মইন উদ্দীন, জেলা জামায়াতের আমির তোফায়েল আহমদ খান প্রমুখ বক্তব্য দেন।

‎

‎বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) করা এক মামলার পর ২০১৮ সাল থেকে নদীটির ইজারা বন্ধ রয়েছে। এরপরও বিভিন্ন সময়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন হয়েছে। বিশেষ করে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে প্রকাশ্যে বালু লুট শুরু হয়। টানা আড়াই মাসে প্রায় ১০০ কোটি টাকার বালু লুট হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

‎

‎গত আগস্টে ‘লিমপিড ইঞ্জিনিয়ারিং’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) এক কোটি ২১ লাখ ঘনফুট বালু (বিটি বালু) উত্তোলনের অনুমতি দেয়। প্রতিষ্ঠানটি সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের চলমান কাজে এই বালু ব্যবহার করবে বলে জানানো হয়।

‎

‎তবে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরবর্তী সময়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়, ধোপাজান নদীতে বিটি বালু নেই; এখানে সিলিকা বালু রয়েছে, যা উন্নতমানের। এখন এভাবে বালু তোলার অনুমতি দিলে এলাকায় আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটতে পারে।

‎

 

 

সুত্রঃপ্রথমআলো

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

অবশেষে ধোপাজান নদী থেকে অবাধে বালু উত্তোলন বন্ধ ঘোষণা

আপডেট সময়ঃ ১১:৩৯:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ নভেম্বর ২০২৫

‎আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় সুনামগঞ্জের ইজারাবিহীন ধোপাজান (চলতি) নদী থেকে অবাধে বালু উত্তোলন বন্ধের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। আজ রোববার জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় এ ঘোষণা দেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া।

‎

‎সভায় ধোপাজান নদী থেকে অবাধে বালু উত্তোলন নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষ। তাঁরা বালু লুট বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান।

‎

‎

‎জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া সভায় বলেন, সকালে জেলা কোর কমিটির সভায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর পক্ষ থেকে ধোপাজান নদীতে বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কার কথা জানানো হয়। তাই আজ থেকে এই নদীতে বালু উত্তোলন বন্ধ থাকবে।

‎

‎সভায় জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মো. আবদুল হক বলেন, এখানে বিটি বালু উত্তোলনের নামে কোটি কোটি টাকার বালু লুট হচ্ছে। এ কারণে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সুনামগঞ্জের রাজনৈতিক নেতাদের বদনাম হচ্ছে। এভাবে প্রকাশ্যে বালু লুট চলতে দেওয়া যায় না।

‎

‎জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়ার সভাপতিত্বে এবং অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সুনজিত চন্দের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় পুলিশ সুপার মো. তোফায়েল আহাম্মেদ, সুনামগঞ্জে বিজিবির ২৮ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এ কে এম জাকারিয়া কাদির, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও সুনামগঞ্জের পাবলিক প্রসিকিউটর মল্লিক মো. মইন উদ্দীন, জেলা জামায়াতের আমির তোফায়েল আহমদ খান প্রমুখ বক্তব্য দেন।

‎

‎বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) করা এক মামলার পর ২০১৮ সাল থেকে নদীটির ইজারা বন্ধ রয়েছে। এরপরও বিভিন্ন সময়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন হয়েছে। বিশেষ করে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে প্রকাশ্যে বালু লুট শুরু হয়। টানা আড়াই মাসে প্রায় ১০০ কোটি টাকার বালু লুট হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

‎

‎গত আগস্টে ‘লিমপিড ইঞ্জিনিয়ারিং’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) এক কোটি ২১ লাখ ঘনফুট বালু (বিটি বালু) উত্তোলনের অনুমতি দেয়। প্রতিষ্ঠানটি সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের চলমান কাজে এই বালু ব্যবহার করবে বলে জানানো হয়।

‎

‎তবে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরবর্তী সময়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়, ধোপাজান নদীতে বিটি বালু নেই; এখানে সিলিকা বালু রয়েছে, যা উন্নতমানের। এখন এভাবে বালু তোলার অনুমতি দিলে এলাকায় আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটতে পারে।

‎

 

 

সুত্রঃপ্রথমআলো