জাহাজ ‘জ্বালিয়ে দেওয়ার’ হুমকি
খামেনি হত্যার প্রতিশোধে ইরান কঠোর: হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন ট্যাঙ্কারে ড্রোন হামলা
- আপডেট সময়ঃ ০৮:১৪:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬
- / ৪ বার পড়া হয়েছে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি তেল পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার দাবি করেছে ইরান। দেশটির পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়েছে, এই জলপথ দিয়ে কোনও জাহাজ চলাচলের চেষ্টা করলে তা ‘জ্বালিয়ে দেওয়া’ হবে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে সোমবার এই তথ্য জানিয়েছে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল।
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) প্রধান কমান্ডারের উপদেষ্টা ইব্রাহিম জব্বারি বলেন, হরমুজ প্রণালি এখন বন্ধ। যদি কেউ এটি অতিক্রম করার চেষ্টা করে, তবে বিপ্লবী গার্ড ও নৌবাহিনীর বীরেরা সেই জাহাজগুলোতে আগুন ধরিয়ে দেবে।
শনিবার থেকেই এই রুটটি বন্ধের কথা জানিয়ে আসছিল আইআরজিসি। তবে সোমবারের এই বক্তব্যকে এখন পর্যন্ত ইরানের পক্ষ থেকে আসা সবচেয়ে কঠোর হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধের দাবি করলেও যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ভিন্ন তথ্য দিয়েছে। ফক্স নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন সামরিক বাহিনীর মতে প্রণালিটি এখনও সচল রয়েছে।
এদিকে সোমবার সকালেই আইআরজিসি দাবি করেছে, তারা হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি তেল ট্যাঙ্কারে হামলা চালিয়েছে। এক বিবৃতিতে তারা জানায়, আমেরিকান মিত্রদের অন্যতম ট্যাঙ্কার আথে নোভা দুটি ড্রোন হামলার শিকার হওয়ার পর এখনও জ্বলছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পাল্টা জবাব হিসেবে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি তেহরানের।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে বর্তমান শাসনব্যবস্থা উৎখাতের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বড় ধরনের হামলা চালায়। ওই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি নিহত হন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের পরমাণু কর্মসূচি এবং বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন-পীড়নের জেরে হামলার হুমকি দিয়ে আসছিলেন।
এই হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরান ইসরায়েলসহ কাতার, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো মার্কিন ঘাঁটি থাকা দেশগুলোতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের মোট তেল চাহিদার প্রায় ২০ শতাংশ পরিবাহিত হয়। সৌদি আরব, ইরান, ইরাক ও আমিরাতের মতো বড় উৎপাদকদের জন্য এটিই প্রধান পথ। ইরান এই পথ বন্ধের হুমকি দেওয়ার পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম এক লাফে ১৩ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে, যা ২০২৫ সালের জানুয়ারির পর সর্বোচ্চ।
বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরু হলে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়তে পারে এবং অঞ্চলটি চরম অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে।
তথ্যসহায়তাঃবাংলাট্রিবিউন










