০৪:২৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

গরুর ঘাস কাটা নিয়ে দুই পক্ষের রেষারেষি, সালিসেই হামলা: ইউপি চেয়ারম্যানসহ আহত ২০

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময়ঃ ১১:১১:৫৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬
  • / ৫৫ বার পড়া হয়েছে।

 

হকবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট;

সুনামগঞ্জ ।। ২১ অক্টোবর ২০২৬

 

 

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে গরুর ঘাস কাটাকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের মধ্যে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে মাথায় ইটের আঘাত পেয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন স্থানীয় সরাইল সদর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে সরাইল-নাসিরনগর-লাখাই আঞ্চলিক সড়কের সরাইল উপজেলা সদরের বড্ডাপাড়া এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। দীর্ঘ দেড় ঘণ্টাব্যাপী চলা এই সংঘর্ষে চেয়ারম্যানসহ উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।

 

 

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকালে বড্ডাপাড়া এলাকার আলমগীর হোসেন একটি জমিতে গরুর জন্য ঘাস কাটতে যান। এ সময় একই গ্রামের ফারুক মিয়া ও হুমায়ুন মিয়ার সঙ্গে ঘাস কাটা নিয়ে তার বাগ্‌বিতণ্ডা ও একপর্যায়ে হাতাহাতি হয়। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই দু’পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছিল।

 

উত্তপ্ত পরিস্থিতি প্রশমিত করতে মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উভয় পক্ষকে নিয়ে একটি সালিস বৈঠকে বসেন। তবে বৈঠক চলাকালেই কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে দু’পক্ষের লোকজনের মধ্যে পুনরায় বিরোধ চরমে পৌঁছায়। একপর্যায়ে সালিস ভেঙে গেলে উভয় পক্ষের লোকজন রাতের অন্ধকারে টর্চলাইট জ্বালিয়ে এবং দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সরাইল-নাসিরনগর-লাখাই আঞ্চলিক সড়কে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

 

দীর্ঘ দেড় ঘণ্টাব্যাপী ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপে পুরো বড্ডাপাড়া এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় আঞ্চলিক সড়কটিতে সব ধরনের যানবাহন চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় এবং দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। সংঘর্ষ থামানোর চেষ্টা করতে গিয়ে মাথায় ইটের আঘাতে গুরুতর আহত হন সরাইল সদর ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল জব্বার (৪৮)। আহতদের উদ্ধার করে সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

 

পরবর্তীতে খবর পেয়ে সরাইল থানা পুলিশ রাত আটটার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।

 

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুর কাদের ভূঁইয়া জানান, “সংবাদ পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এ সহিংস ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।”

 

এ ঘটনায় এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে এবং অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে।

ট্যাগসঃ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

গরুর ঘাস কাটা নিয়ে দুই পক্ষের রেষারেষি, সালিসেই হামলা: ইউপি চেয়ারম্যানসহ আহত ২০

আপডেট সময়ঃ ১১:১১:৫৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬

 

হকবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট;

সুনামগঞ্জ ।। ২১ অক্টোবর ২০২৬

 

 

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে গরুর ঘাস কাটাকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের মধ্যে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে মাথায় ইটের আঘাত পেয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন স্থানীয় সরাইল সদর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে সরাইল-নাসিরনগর-লাখাই আঞ্চলিক সড়কের সরাইল উপজেলা সদরের বড্ডাপাড়া এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। দীর্ঘ দেড় ঘণ্টাব্যাপী চলা এই সংঘর্ষে চেয়ারম্যানসহ উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।

 

 

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকালে বড্ডাপাড়া এলাকার আলমগীর হোসেন একটি জমিতে গরুর জন্য ঘাস কাটতে যান। এ সময় একই গ্রামের ফারুক মিয়া ও হুমায়ুন মিয়ার সঙ্গে ঘাস কাটা নিয়ে তার বাগ্‌বিতণ্ডা ও একপর্যায়ে হাতাহাতি হয়। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই দু’পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছিল।

 

উত্তপ্ত পরিস্থিতি প্রশমিত করতে মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উভয় পক্ষকে নিয়ে একটি সালিস বৈঠকে বসেন। তবে বৈঠক চলাকালেই কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে দু’পক্ষের লোকজনের মধ্যে পুনরায় বিরোধ চরমে পৌঁছায়। একপর্যায়ে সালিস ভেঙে গেলে উভয় পক্ষের লোকজন রাতের অন্ধকারে টর্চলাইট জ্বালিয়ে এবং দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সরাইল-নাসিরনগর-লাখাই আঞ্চলিক সড়কে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

 

দীর্ঘ দেড় ঘণ্টাব্যাপী ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপে পুরো বড্ডাপাড়া এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় আঞ্চলিক সড়কটিতে সব ধরনের যানবাহন চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় এবং দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। সংঘর্ষ থামানোর চেষ্টা করতে গিয়ে মাথায় ইটের আঘাতে গুরুতর আহত হন সরাইল সদর ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল জব্বার (৪৮)। আহতদের উদ্ধার করে সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

 

পরবর্তীতে খবর পেয়ে সরাইল থানা পুলিশ রাত আটটার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।

 

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুর কাদের ভূঁইয়া জানান, “সংবাদ পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এ সহিংস ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।”

 

এ ঘটনায় এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে এবং অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে।