দেশের সব প্রধান তেল ডিপোতে সেনাবাহিনী মোতায়েন
জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে কঠোর সরকার
- আপডেট সময়ঃ ০৮:৫৯:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬
- / ৪ বার পড়া হয়েছে।
দেশের জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখতে এবং রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার (কেপিআই) নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিশেষ পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। সোমবার (৯ মার্চ) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক জরুরি আদেশে দেশের প্রধান তেল ডিপোগুলোতে সেনাবাহিনী মোতায়েনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
জ্বালানি সংকটের গুজব ও ডিলারদের আকস্মিক বাড়তি চাহিদাকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত বিশৃঙ্খলা রোধে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
জ্বালানি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েকদিন ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানে জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট ও সরবরাহে ধীরগতির খবর পাওয়া যাচ্ছে। বিপণন কোম্পানিগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ডিলাররা হঠাৎ করেই স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি চাহিদা প্রদান করছেন। এর ফলে ডিপোগুলো থেকে তেল সরবরাহে চাপ বাড়ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে।
বিশেষ করে চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় অবস্থিত প্রধান স্থাপনা এবং দেশের উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের জ্বালানি হাবে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। রাষ্ট্রীয় সম্পদের সুরক্ষা এবং জনগণের নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতেই জরুরি ভিত্তিতে সেনাবাহিনী মোতায়েনের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, দেশের আটটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সেনাবাহিনীর নজরদারি ও নিরাপত্তা জোরদার করা হবে। এলাকাগুলো হলো:
* চট্টগ্রাম: পতেঙ্গাস্থ জ্বালানি তেল বিপণন কোম্পানিগুলোর প্রধান স্থাপনা।
* নারায়ণগঞ্জ: গোদনাইল ও ফতুল্লা ডিপো (ঢাকার জ্বালানি সরবরাহের প্রধান কেন্দ্র)।
* খুলনা ও সিরাজগঞ্জ: দৌলতপুর এবং বাঘাবাড়ি ডিপো (যা উত্তরাঞ্চলের কৃষি ও শিল্পে জ্বালানি যোগায়)।
* দিনাজপুর ও বরিশাল: পার্বতীপুর এবং বরিশাল ডিপো।
জ্বালানি তেলের ডিপোগুলো জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা বা Key Point Installation (KPI) হিসেবে স্বীকৃত। মন্ত্রণালয়ের বার্তায় বলা হয়েছে, এই স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়া মানে পুরো দেশের যোগাযোগ ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থবির হয়ে পড়া। তাই কোনো ধরনের ঝুঁকি না নিয়ে পেশাদার সশস্ত্র বাহিনীর মাধ্যমে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এদিকে জ্বালানি বিভাগ সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছে, দেশে পর্যাপ্ত জ্বালানি তেলের মজুদ রয়েছে। মূলত অসাধু ব্যবসায়ীদের মজুদদারি রোধ এবং ডিলারদের বর্ধিত চাহিদা সামাল দিতেই এই প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সেনাবাহিনী মোতায়েনের পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন এবং বিপণন কোম্পানিগুলোর কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে তদারকি সেল গঠন করার প্রক্রিয়াও চলছে।
সোমবারের এই নির্দেশনায় সশস্ত্র বাহিনী বিভাগকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে, যা খুব দ্রুত কার্যকর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।




















