০৪:০২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

তাহিরপুরে ঘুষ ও চেকের ভাগ নিয়ে বিরোধ, অফিস সহকারীর হামলায় কর্মকর্তা আহতের অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময়ঃ ০৪:০৫:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
  • / ৬১ বার পড়া হয়েছে।

 

 

হকবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট;

সুনামগঞ্জ ।। ১৩ অক্টোবর ২০২৬ 

 

 

সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা আফজাল হোসেনের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগে জানা গেছে, একই অফিসের সহকারী সাইফুল ইসলামের লাঠির আঘাতে কর্মকর্তার মাথা ফেটে গেছে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ে এই নজিরবিহীন হামলার ঘটনা ঘটে।

 

ঘটনার পর আহত কর্মকর্তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তবে ঘটনার কারণ নিয়ে কর্মকর্তা ও অভিযুক্ত কর্মচারীর মধ্যে দুটি বিপরীতমুখী বক্তব্য পাওয়া গেছে।

 

কর্মকর্তা ও কর্মচারীর মুখোমুখি বক্তব্য⏬

⏩ মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার দাবি (ঘুষের কৈফিয়ত চাওয়ায় হামলা):

উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা আফজাল হোসেন জানান, অফিস সহকারী সাইফুল ইসলাম স্থানীয় বাসিন্দা হওয়ার সুবাদে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার অপব্যবহার করে আসছিলেন এবং নিয়মিত অফিসে উপস্থিত হতেন না। সম্প্রতি সাইফুল পার্শ্ববর্তী গ্রামের কয়েকজন নারীকে সরকারি ক্ষুদ্র ঋণ পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে জনপ্রতি ১,০০০ টাকা করে ঘুষ গ্রহণ করেন।

 

বিষয়টি জানতে পেরে কর্মকর্তা নিজে সংশ্লিষ্ট গ্রামে সরেজমিনে গিয়ে তদন্ত করেন এবং ঘুষ গ্রহণের সত্যতা পান। মঙ্গলবার সকালে তিনি কার্যালয়ে সাইফুলকে ডেকে এ বিষয়ে কৈফিয়ত চান। এতে সাইফুল ক্ষিপ্ত হয়ে গালিগালাজ শুরু করেন এবং একপর্যায়ে লাঠি দিয়ে আঘাত করে কর্মকর্তার মাথা ফাটিয়ে দেন।

 

⏩অভিযুক্ত অফিস সহকারীর পাল্টা দাবি (চেকের লভ্যাংশ কেন্দ্র করে বিতর্ক):

অন্যদিকে অভিযুক্ত অফিস সহকারী সাইফুল ইসলাম তাঁর বিরুদ্ধে আনা ঘুষ গ্রহণ ও হামলার অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, গত দিন ‘কন্যাশিশু দিবস’ উপলক্ষে কয়েকজন নারীকে দেওয়া একটি চেকের লভ্যাংশ বা ভাগ চাইতে কর্মকর্তা আফজাল হোসেন সকালে বীরনগর গ্রামে গিয়েছিলেন।

 

সাইফুল জানান, সেখানে গিয়ে কর্মকর্তা তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও দুর্নাম ছড়াচ্ছেন জানতে পেরে তিনি অফিসে এসে এর প্রতিবাদ জানান। তখন কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে কর্মকর্তা নিজেই তাঁকে মারতে উদ্যত হন। এ সময় অসাবধানতাবশত চেয়ারের সাথে পা আটকে মাটিতে পড়ে গিয়ে কর্মকর্তা মাথায় আঘাত পান।

 

প্রশাসনিক তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থা;

একজন সরকারি কর্মকর্তার কার্যালয়ে ঢুকে এভাবে হামলার ঘটনায় পুরো উপজেলা প্রশাসনে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পরপরই প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শুরু করেছে স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন।

 

তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিপামনী দেবী ঘটনাটির সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ভুক্তভোগী মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা বিষয়টি তাঁকে লিখিত ও মৌখিকভাবে অবহিত করেছেন। ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর অভিযুক্ত অফিস সহকারীর বিরুদ্ধে সরকারি চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী কঠোর বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ট্যাগসঃ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

তাহিরপুরে ঘুষ ও চেকের ভাগ নিয়ে বিরোধ, অফিস সহকারীর হামলায় কর্মকর্তা আহতের অভিযোগ

আপডেট সময়ঃ ০৪:০৫:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

 

 

হকবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট;

সুনামগঞ্জ ।। ১৩ অক্টোবর ২০২৬ 

 

 

সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা আফজাল হোসেনের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগে জানা গেছে, একই অফিসের সহকারী সাইফুল ইসলামের লাঠির আঘাতে কর্মকর্তার মাথা ফেটে গেছে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ে এই নজিরবিহীন হামলার ঘটনা ঘটে।

 

ঘটনার পর আহত কর্মকর্তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তবে ঘটনার কারণ নিয়ে কর্মকর্তা ও অভিযুক্ত কর্মচারীর মধ্যে দুটি বিপরীতমুখী বক্তব্য পাওয়া গেছে।

 

কর্মকর্তা ও কর্মচারীর মুখোমুখি বক্তব্য⏬

⏩ মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার দাবি (ঘুষের কৈফিয়ত চাওয়ায় হামলা):

উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা আফজাল হোসেন জানান, অফিস সহকারী সাইফুল ইসলাম স্থানীয় বাসিন্দা হওয়ার সুবাদে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার অপব্যবহার করে আসছিলেন এবং নিয়মিত অফিসে উপস্থিত হতেন না। সম্প্রতি সাইফুল পার্শ্ববর্তী গ্রামের কয়েকজন নারীকে সরকারি ক্ষুদ্র ঋণ পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে জনপ্রতি ১,০০০ টাকা করে ঘুষ গ্রহণ করেন।

 

বিষয়টি জানতে পেরে কর্মকর্তা নিজে সংশ্লিষ্ট গ্রামে সরেজমিনে গিয়ে তদন্ত করেন এবং ঘুষ গ্রহণের সত্যতা পান। মঙ্গলবার সকালে তিনি কার্যালয়ে সাইফুলকে ডেকে এ বিষয়ে কৈফিয়ত চান। এতে সাইফুল ক্ষিপ্ত হয়ে গালিগালাজ শুরু করেন এবং একপর্যায়ে লাঠি দিয়ে আঘাত করে কর্মকর্তার মাথা ফাটিয়ে দেন।

 

⏩অভিযুক্ত অফিস সহকারীর পাল্টা দাবি (চেকের লভ্যাংশ কেন্দ্র করে বিতর্ক):

অন্যদিকে অভিযুক্ত অফিস সহকারী সাইফুল ইসলাম তাঁর বিরুদ্ধে আনা ঘুষ গ্রহণ ও হামলার অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, গত দিন ‘কন্যাশিশু দিবস’ উপলক্ষে কয়েকজন নারীকে দেওয়া একটি চেকের লভ্যাংশ বা ভাগ চাইতে কর্মকর্তা আফজাল হোসেন সকালে বীরনগর গ্রামে গিয়েছিলেন।

 

সাইফুল জানান, সেখানে গিয়ে কর্মকর্তা তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও দুর্নাম ছড়াচ্ছেন জানতে পেরে তিনি অফিসে এসে এর প্রতিবাদ জানান। তখন কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে কর্মকর্তা নিজেই তাঁকে মারতে উদ্যত হন। এ সময় অসাবধানতাবশত চেয়ারের সাথে পা আটকে মাটিতে পড়ে গিয়ে কর্মকর্তা মাথায় আঘাত পান।

 

প্রশাসনিক তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থা;

একজন সরকারি কর্মকর্তার কার্যালয়ে ঢুকে এভাবে হামলার ঘটনায় পুরো উপজেলা প্রশাসনে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পরপরই প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শুরু করেছে স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন।

 

তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিপামনী দেবী ঘটনাটির সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ভুক্তভোগী মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা বিষয়টি তাঁকে লিখিত ও মৌখিকভাবে অবহিত করেছেন। ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর অভিযুক্ত অফিস সহকারীর বিরুদ্ধে সরকারি চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী কঠোর বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।