সিলেটে ‘রূপের ফাঁদে’ সর্বস্ব লুটঃ
দুই নারীসহ ভয়ংকর ‘হানিট্র্যাপ’ ব্ল্যাকমেইল চক্রের ৪ সদস্য গ্রেপ্তার
- আপডেট সময়ঃ ১০:০২:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬
- / ৩৩ বার পড়া হয়েছে।
সিলেট নগরীতে নারীদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করার এক রোমহর্ষক ঘটনার রহস্য উন্মোচন করেছে কোতোয়ালী থানা পুলিশ।
তথাকথিত ‘হানিট্র্যাপ’ বা বিউটি ট্র্যাপের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে নির্জন স্থানে ডেকে নিয়ে নগ্ন ভিডিও ধারণ এবং ইলেকট্রিক শক দিয়ে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে দুই নারীসহ এই চক্রের চার সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
শনিবার ভোরে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করার পাশাপাশি এক অপহৃত যুবককেও উদ্ধার করা হয়।
শিকার ধরার কৌশল ও নারকীয় নির্যাতনঃ
অনুসন্ধানে জানা যায়, এই চক্রটি দীর্ঘ দিন ধরে সিলেট শহর ও আশপাশের এলাকায় সুকৌশলে তাদের জাল বিস্তার করে আসছিল। গত বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) কোতোয়ালী থানাধীন মেন্দিবাগ এলাকা থেকে মাহমুদুল হাসান রিফাত ও তার বন্ধু মাহফুজ আলীকে টার্গেট করে এই চক্রের সদস্যরা। কৌশলে তাদের একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে যতরপুর এলাকার ‘নবপুষ্প-১১৩’ নম্বর বাসার ৫ম তলার একটি গোপন কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়।
সেখানে নিয়ে যাওয়ার পর শুরু হয় পৈশাচিক নির্যাতন। ধারালো অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ভিকটিমদের ওপর ইলেকট্রিক শক প্রয়োগ করা হয়। নির্যাতনের এক পর্যায়ে চক্রের দুই নারী সদস্য জেসমিন ও তানহাকে ব্যবহার করে ভিকটিমদের জোরপূর্বক বিবস্ত্র করা হয় এবং সেই নগ্ন ও অশ্লীল দৃশ্য মোবাইল ফোনে ভিডিও করা হয়।
এই ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে পরিবারের কাছে ১০ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে অপরাধীরা।
পুলিশের ঝটিকা অভিযান ও সরঞ্জাম উদ্ধারঃ
প্রাভিক অবস্থায় প্রাণ বাঁচাতে ভিকটিম মাহমুদুল হাসান রিফাত তার আত্মীয়-স্বজনদের মাধ্যমে ৯০ হাজার টাকা জোগাড় করে দিলেও মুক্তি পাননি।
পুরো ঘটনায় ভিকটিমের পরিবারের মনে সন্দেহ দানা বাঁধলে তারা তাৎক্ষণিকভাবে কোতোয়ালী থানা পুলিশের শরণাপন্ন হন। অভিযোগ পাওয়ার পরপরই সিলেটের পুলিশ প্রশাসন নড়েচড়ে বসে।
তথ্য প্রযুক্তির নিখুঁত ব্যবহারের মাধ্যমে অপহৃতদের অবস্থান শনাক্ত করে শনিবার ভোর ৪টার দিকে চালানো হয় ঝটিকা অভিযান। অভিযানে ঘটনাস্থল থেকে ভিকটিমকে উদ্ধার করার পাশাপাশি হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয় চক্রের চার সদস্যকে। এ সময় তাদের হেফাজতে থাকা একটি প্রাইভেট কার, একটি সিএনজি অটোরিকশা এবং অপরাধে ব্যবহৃত পাঁচটি মোবাইল ফোন সেট জব্দ করা হয়।
আইনের জালে অপরাধী চক্রঃ
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন কানাইঘাট থানার আজিজুল হকের মেয়ে তানজিলা আক্তার ওরফে রাবেয়া বেগম তানহা (২৭), গোয়াইনঘাট এলাকার আব্দুল জলিল (৩০), মিরাবাজার এলাকার জাহাঙ্গীর আলমের মেয়ে জেসমিন আক্তার (২২) এবং মোগলাবাজারের গঙ্গানগর এলাকার মো. জায়েদ আহমদ (৩৫)।
সিলেট মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম কর্মকর্তা মো. মনজুরুল আলম এই অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান যে, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালী থানায় পর্ণোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই চক্রের সাথে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। অপরাধীদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
নগরবাসীকে সতর্ক করে পুলিশ জানায়, অপরিচিত কারো আহ্বানে বা প্রলোভনে পড়ে নির্জন স্থানে যাতায়াত না করাই শ্রেয়। কোনো ধরনের ব্ল্যাকমেইল বা হুমকির শিকার হলে ভয় না পেয়ে দ্রুত নিকটস্থ থানাকে অবহিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
তথ্যসহায়তাঃসিলেটভিউ24













