০৩:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসার নামে অমানবিকতাঃ

স্টাফ রিপোর্টারঃ
  • আপডেট সময়ঃ ১১:০২:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬
  • / ২০২ বার পড়া হয়েছে।

সুনামগঞ্জের প্রধান চিকিৎসাসেবা কেন্দ্র ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালে অসহায় ও অভিভাবকহীন রোগীদের প্রতি চরম উদাসীনতা ও দায়িত্বজ্ঞানহীনতার অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে অভিভাবকহীন ও দরিদ্র রোগীরা সেখানে সুচিকিৎসার বদলে অবহেলার শিকার হচ্ছেন বলে স্থানীয় সমাজকর্মীরা অভিযোগ তুলেছেন। 

সম্প্রতি ‘আজাদ’ নামের এক নিঃস্ব রোগীর সাথে ঘটে যাওয়া অমানবিক ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জেলাজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।

মুমূর্ষু রোগীর করুণ দশাঃ

‎ভুক্তভোগী আজাদ নোয়াখালী বাজার এলাকার একজন অতি সাধারণ ও পরিশ্রমী মানুষ। সহায়-সম্বলহীন এই ব্যক্তির থাকার ঘরটিও করে দিয়েছিলেন এক প্রবাসীর বন্ধু ও স্থানীয়রা। জানা গেছে, গত রমজান মাস থেকেই তিনি তীব্র পেটের পীড়ায় ভুগছিলেন। ২৬ রমজানের দিকে তাকে প্রথমবার হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও যথাযথ চিকিৎসা ছাড়াই দায়সারাভাবে ছাড়পত্র দিয়ে বিদায় করে কর্তৃপক্ষ। এরপর থেকে তিনি আর উঠে দাঁড়াতে পারেননি; খাবার গ্রহণ করলেই বমি হওয়ার কারণে তার শরীর এখন কঙ্কালসার।

‎হাসপাতালের সিঁড়িতে পড়ে ছিলেন রোগীঃ

‎গত ১০ এপ্রিল গুরুতর অবস্থায় আজাদ মিয়া পুনরায় হাসপাতালে ভর্তি হতে এলেও সেখানে তার পাশে দাঁড়ানোর মতো কোনো স্বজন ছিল না।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় চা বিক্রেতার বর্ণনা মতে, হাসপাতালের ৪তলার সিঁড়িতে ওঠার সময় মাথা ঘুরে পড়ে যান এই অসুস্থ ব্যক্তি। দীর্ঘক্ষণ সেখানে পড়ে থাকলেও হাসপাতালের কোনো কর্মী তাকে উদ্ধারে এগিয়ে আসেনি। পরে এক চা বিক্রেতা তার মোবাইলের শেষ কল লিস্ট থেকে সমাজকর্মী মোঃ আম্মারকে বিষয়টি জানালে তারা হাসপাতালে ছুটে যান।

চিকিৎসা দিতে অনীহা ও অবহেলাঃ

‎সমাজকর্মী আম্মার তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার বিবরণ দিয়ে বলেন, “আমরা গিয়ে দেখি তাকে একটি সিটে ফেলে রাখা হয়েছে। ভর্তি থাকলেও কোনো ডাক্তার বা নার্স তার খোঁজ নিচ্ছিলেন না। তিনি ব্যথায় কাতরাচ্ছিলেন কিন্তু কোনো প্রাথমিক ওষুধও দেওয়া হয়নি। পরে আমরা জোর করে নার্স স্টেশনে কথা বলে বাইরে থেকে ইনজেকশন ও স্যালাইন কিনে এনে তার শরীরে প্রয়োগের ব্যবস্থা করি।”

‎বিনা চিকিৎসায় রিলিজ-এক চরম অমানবিকতাঃ

‎সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনাটি ঘটে আজ ১১ এপ্রিল সকালে। রোগীর শারীরিক অবস্থা এতটাই সংকটাপন্ন যে তিনি দাঁড়ানোর মতো শক্তিতে নেই, এমনকি পানি ছাড়া কিছুই খেতে পারছেন না—এমন অবস্থায় কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই তাকে হাসপাতাল থেকে ‘রিলিজ’ বা ছাড়পত্র দিয়ে দেওয়া হয়।

অভিযোগ উঠেছে, অভিভাবক না থাকায় এবং ঝক্কি এড়াতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে বের করে দেওয়ার পথ বেছে নেয়।

‎পরবর্তীতে তাকে বাইরে একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়া হলে সেই চিকিৎসক জানান, রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক এবং তাকে দ্রুত সিলেটে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠাতে হবে।

‎স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের এই অব্যবস্থাপনা ও দায়িত্বহীনতার বিরুদ্ধে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে দরিদ্র ও অসহায় রোগীদের ক্ষেত্রে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিশ্চিত করতে সিভিল সার্জনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন জেলাবাসী।

 

 

 

তথ্যসহায়তাঃফেসবুক

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসার নামে অমানবিকতাঃ

আপডেট সময়ঃ ১১:০২:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬

সুনামগঞ্জের প্রধান চিকিৎসাসেবা কেন্দ্র ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালে অসহায় ও অভিভাবকহীন রোগীদের প্রতি চরম উদাসীনতা ও দায়িত্বজ্ঞানহীনতার অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে অভিভাবকহীন ও দরিদ্র রোগীরা সেখানে সুচিকিৎসার বদলে অবহেলার শিকার হচ্ছেন বলে স্থানীয় সমাজকর্মীরা অভিযোগ তুলেছেন। 

সম্প্রতি ‘আজাদ’ নামের এক নিঃস্ব রোগীর সাথে ঘটে যাওয়া অমানবিক ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জেলাজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।

মুমূর্ষু রোগীর করুণ দশাঃ

‎ভুক্তভোগী আজাদ নোয়াখালী বাজার এলাকার একজন অতি সাধারণ ও পরিশ্রমী মানুষ। সহায়-সম্বলহীন এই ব্যক্তির থাকার ঘরটিও করে দিয়েছিলেন এক প্রবাসীর বন্ধু ও স্থানীয়রা। জানা গেছে, গত রমজান মাস থেকেই তিনি তীব্র পেটের পীড়ায় ভুগছিলেন। ২৬ রমজানের দিকে তাকে প্রথমবার হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও যথাযথ চিকিৎসা ছাড়াই দায়সারাভাবে ছাড়পত্র দিয়ে বিদায় করে কর্তৃপক্ষ। এরপর থেকে তিনি আর উঠে দাঁড়াতে পারেননি; খাবার গ্রহণ করলেই বমি হওয়ার কারণে তার শরীর এখন কঙ্কালসার।

‎হাসপাতালের সিঁড়িতে পড়ে ছিলেন রোগীঃ

‎গত ১০ এপ্রিল গুরুতর অবস্থায় আজাদ মিয়া পুনরায় হাসপাতালে ভর্তি হতে এলেও সেখানে তার পাশে দাঁড়ানোর মতো কোনো স্বজন ছিল না।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় চা বিক্রেতার বর্ণনা মতে, হাসপাতালের ৪তলার সিঁড়িতে ওঠার সময় মাথা ঘুরে পড়ে যান এই অসুস্থ ব্যক্তি। দীর্ঘক্ষণ সেখানে পড়ে থাকলেও হাসপাতালের কোনো কর্মী তাকে উদ্ধারে এগিয়ে আসেনি। পরে এক চা বিক্রেতা তার মোবাইলের শেষ কল লিস্ট থেকে সমাজকর্মী মোঃ আম্মারকে বিষয়টি জানালে তারা হাসপাতালে ছুটে যান।

চিকিৎসা দিতে অনীহা ও অবহেলাঃ

‎সমাজকর্মী আম্মার তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার বিবরণ দিয়ে বলেন, “আমরা গিয়ে দেখি তাকে একটি সিটে ফেলে রাখা হয়েছে। ভর্তি থাকলেও কোনো ডাক্তার বা নার্স তার খোঁজ নিচ্ছিলেন না। তিনি ব্যথায় কাতরাচ্ছিলেন কিন্তু কোনো প্রাথমিক ওষুধও দেওয়া হয়নি। পরে আমরা জোর করে নার্স স্টেশনে কথা বলে বাইরে থেকে ইনজেকশন ও স্যালাইন কিনে এনে তার শরীরে প্রয়োগের ব্যবস্থা করি।”

‎বিনা চিকিৎসায় রিলিজ-এক চরম অমানবিকতাঃ

‎সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনাটি ঘটে আজ ১১ এপ্রিল সকালে। রোগীর শারীরিক অবস্থা এতটাই সংকটাপন্ন যে তিনি দাঁড়ানোর মতো শক্তিতে নেই, এমনকি পানি ছাড়া কিছুই খেতে পারছেন না—এমন অবস্থায় কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই তাকে হাসপাতাল থেকে ‘রিলিজ’ বা ছাড়পত্র দিয়ে দেওয়া হয়।

অভিযোগ উঠেছে, অভিভাবক না থাকায় এবং ঝক্কি এড়াতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে বের করে দেওয়ার পথ বেছে নেয়।

‎পরবর্তীতে তাকে বাইরে একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়া হলে সেই চিকিৎসক জানান, রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক এবং তাকে দ্রুত সিলেটে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠাতে হবে।

‎স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের এই অব্যবস্থাপনা ও দায়িত্বহীনতার বিরুদ্ধে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে দরিদ্র ও অসহায় রোগীদের ক্ষেত্রে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিশ্চিত করতে সিভিল সার্জনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন জেলাবাসী।

 

 

 

তথ্যসহায়তাঃফেসবুক