০৪:৩৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

নারী ও শিশুর সুরক্ষায় নির্যাতনের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অপরিহার্য

হকবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময়ঃ ০১:৪৮:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬
  • / ৩৩ বার পড়া হয়েছে।

 

 

হকবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট;

সুনামগঞ্জ ।। ১২ অক্টোবর ২০২৬

 

নারী ও শিশুর প্রতি ক্রমবর্ধমান সহিংসতা রোধে দ্রুত তদন্ত, কার্যকর বিচার এবং আইনের কঠোর প্রয়োগের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, অপরাধ দমনে ‘জিরো টলারেন্স’ বা শূন্য সহনশীলতা নীতি বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই।

 

সোমবার (১২ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে শিশু একাডেমি মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক ও জাতীয় কন্যাশিশু দিবসের এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

 

বিদ্যালয়ে ও সামাজিক মাধ্যমে সুরক্ষার ওপর জোর;

 

অনুষ্ঠানে কন্যাশিশুর সার্বিক নিরাপত্তা প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি বলেন, শুধুমাত্র ঘরের ভেতর নয়, বরং বিদ্যালয় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে কন্যাশিশুর পরিপূর্ণ সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। আধুনিক যুগে সাইবার নিরাপত্তা এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের অপব্যবহার রোধে সমাজ ও রাষ্ট্রকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

 

 

শিশুবিয়ে রোধে সরকারি উদ্যোগ;

শিশুবিয়ে একটি বড় সামাজিক ব্যাধি উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি জানান, এই অভিশাপ থেকে সমাজকে মুক্ত করতে সরকার নানামুখী পদক্ষেপ হাতে নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে:

*দারিদ্র্য দূরীকরণ কর্মসূচি জোরদার করা

*অবৈতনিক শিক্ষা ও উপবৃত্তি কার্যক্রম সম্প্রসারণ

*সামাজিক সুরক্ষা বেষ্টনী শক্তিশালী করা

*জন্মনিবন্ধন কঠোরভাবে যাচাই করা

*কন্যাশিশুর উচ্চশিক্ষার সুযোগ আরও বৃদ্ধি করা

*অভিভাবকদের সচেতনতা ও পারিবারিক অনুশাসন ।

 

কুমিল্লার শিক্ষার্থী তাজমিন হত্যা মামলার প্রসঙ্গ টেনে উদ্বেগ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, সমাজ ও রাষ্ট্র এগিয়ে গেলেও কিছু ক্ষেত্রে আমরা পিছিয়ে পড়ছি। সন্তানদের প্রতি সার্বক্ষণিক নজর রাখা অভিভাবকদের প্রধান দায়িত্ব। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, কুমিল্লার মেয়েটি তিন দিন ধরে বাসার বাইরে থাকা সত্ত্বেও অভিভাবকদের মধ্যে পর্যাপ্ত উদ্বেগ দেখা যায়নি—যা গভীর চিন্তার বিষয়।

 

 

সমাজ কতটা অনিরাপদ হয়ে উঠেছে তার চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, “যখন স্কুলের বাইরে মায়েরা পেপার বিছিয়ে সন্তানকে নিরাপদভাবে ঘরে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য অপেক্ষা করেন, তখনই বোঝা যায় আমাদের সমাজ কতটা অনিরাপদ হয়ে উঠেছে।”

 

 

এই পরিস্থিতি পরিবর্তনে সামাজিকভাবে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি পারিবারিক মূল্যবোধ ও নৈতিক শিক্ষা ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপ্রধান। অনুষ্ঠানে সরকারের নীতিনির্ধারক, শিশু অধিকারকর্মী এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগসঃ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

নারী ও শিশুর সুরক্ষায় নির্যাতনের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অপরিহার্য

আপডেট সময়ঃ ০১:৪৮:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

 

 

হকবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট;

সুনামগঞ্জ ।। ১২ অক্টোবর ২০২৬

 

নারী ও শিশুর প্রতি ক্রমবর্ধমান সহিংসতা রোধে দ্রুত তদন্ত, কার্যকর বিচার এবং আইনের কঠোর প্রয়োগের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, অপরাধ দমনে ‘জিরো টলারেন্স’ বা শূন্য সহনশীলতা নীতি বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই।

 

সোমবার (১২ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে শিশু একাডেমি মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক ও জাতীয় কন্যাশিশু দিবসের এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

 

বিদ্যালয়ে ও সামাজিক মাধ্যমে সুরক্ষার ওপর জোর;

 

অনুষ্ঠানে কন্যাশিশুর সার্বিক নিরাপত্তা প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি বলেন, শুধুমাত্র ঘরের ভেতর নয়, বরং বিদ্যালয় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে কন্যাশিশুর পরিপূর্ণ সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। আধুনিক যুগে সাইবার নিরাপত্তা এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের অপব্যবহার রোধে সমাজ ও রাষ্ট্রকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

 

 

শিশুবিয়ে রোধে সরকারি উদ্যোগ;

শিশুবিয়ে একটি বড় সামাজিক ব্যাধি উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি জানান, এই অভিশাপ থেকে সমাজকে মুক্ত করতে সরকার নানামুখী পদক্ষেপ হাতে নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে:

*দারিদ্র্য দূরীকরণ কর্মসূচি জোরদার করা

*অবৈতনিক শিক্ষা ও উপবৃত্তি কার্যক্রম সম্প্রসারণ

*সামাজিক সুরক্ষা বেষ্টনী শক্তিশালী করা

*জন্মনিবন্ধন কঠোরভাবে যাচাই করা

*কন্যাশিশুর উচ্চশিক্ষার সুযোগ আরও বৃদ্ধি করা

*অভিভাবকদের সচেতনতা ও পারিবারিক অনুশাসন ।

 

কুমিল্লার শিক্ষার্থী তাজমিন হত্যা মামলার প্রসঙ্গ টেনে উদ্বেগ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, সমাজ ও রাষ্ট্র এগিয়ে গেলেও কিছু ক্ষেত্রে আমরা পিছিয়ে পড়ছি। সন্তানদের প্রতি সার্বক্ষণিক নজর রাখা অভিভাবকদের প্রধান দায়িত্ব। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, কুমিল্লার মেয়েটি তিন দিন ধরে বাসার বাইরে থাকা সত্ত্বেও অভিভাবকদের মধ্যে পর্যাপ্ত উদ্বেগ দেখা যায়নি—যা গভীর চিন্তার বিষয়।

 

 

সমাজ কতটা অনিরাপদ হয়ে উঠেছে তার চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, “যখন স্কুলের বাইরে মায়েরা পেপার বিছিয়ে সন্তানকে নিরাপদভাবে ঘরে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য অপেক্ষা করেন, তখনই বোঝা যায় আমাদের সমাজ কতটা অনিরাপদ হয়ে উঠেছে।”

 

 

এই পরিস্থিতি পরিবর্তনে সামাজিকভাবে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি পারিবারিক মূল্যবোধ ও নৈতিক শিক্ষা ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপ্রধান। অনুষ্ঠানে সরকারের নীতিনির্ধারক, শিশু অধিকারকর্মী এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।