প্রতিমন্ত্রী ‘ইশরাকের’ অস্ত্র হাতে অভিযান, আইনের ব্যত্যয় হলে ব্যবস্থা: ডিএমপির ডিবি প্রধান
- আপডেট সময়ঃ ০৩:৫১:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৬ বার পড়া হয়েছে।
হকবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট;
সুনামগঞ্জ ।। ১৮ অক্টোবর ২০২৬
রাজধানীর পুরান ঢাকার গেণ্ডারিয়ায় আগ্নেয়াস্ত্র হাতে নিয়ে মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন। এই ঘটনাটি ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানানো হয়েছে। এ নিয়ে কোনো আইনি ব্যত্যয় ঘটে থাকলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রোববার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা জানান ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম।
ঘটনা পর্যবেক্ষণ করছে পুলিশ;
প্রতিমন্ত্রীর এমন কর্মকাণ্ড নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ডিবিপ্রধান মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, “বিষয়টি এখনও মূল্যায়নের সময় আসেনি। আপনারা মিডিয়ায় যা দেখেছেন, আমরাও তা দেখেছি। ইতোমধ্যে স্থানীয় উপ-পুলিশ কমিশনারকে (ডিসি) পুরো ঘটনাটি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।”
তিনি আরও যোগ করেন, “প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে যদি দেখা যায় এখানে আইনের কোনো ব্যত্যয় বা লঙ্ঘন হয়েছে, তবে ডিএমপি অবশ্যই আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে।”
তবে একজন প্রতিমন্ত্রী আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে পুলিশের ভূমিকা পালন করতে পারেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে অতিরিক্ত কমিশনার এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল ভিডিও;
এর আগে শনিবার (১৮ অক্টোবর) বিকেলে নিজের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে গেণ্ডারিয়া এলাকায় পরিচালিত মাদকবিরোধী অভিযানের বেশ কয়েকটি ভিডিও চিত্র প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। ভিডিওগুলোর ক্যাপশনে লেখা ছিল—‘ইশরাকের অ্যাকশন: মাদক আস্তানা গুঁড়িয়ে বিক্রেতাদের পুলিশে সোপর্দ’।
প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, প্রতিমন্ত্রী এক হাতে হ্যান্ডমাইকের মাউথপিস এবং অপর হাতে একটি পিস্তল নিয়ে গাড়ি থেকে নেমেই একদল লোককে ধাওয়া করেন। তিনি পিস্তলের স্লাইড টেনে গুলি করার জন্য প্রস্তুত করে লোকগুলোর দিকে তাক করে “অ্যাই দাঁড়া, দাঁড়া” বলে চিৎকার করতে থাকেন। তবে ভিডিওতে অস্ত্রের কিছু অংশ অস্পষ্ট (ব্লার) থাকায় এটি কী ধরনের অস্ত্র ছিল, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
অন্য আরেকটি ভিডিওতে পুলিশের উপস্থিতিতে কয়েকজন আটক ব্যক্তিকে হাতকড়া পরা অবস্থায় নিয়ে যেতে দেখা যায়।
স্থানীয় থানা পুলিশ যা বলছে;
এ প্রসঙ্গে গেণ্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান মনির জানান, শনিবার বিকেলে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন ছয়জন ব্যক্তিকে আটক করার পর থানায় ফোন করেন। খবর পেয়ে পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসেন।
ওসি বলেন, “আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে সাদা পাউডারজাতীয় কিছু পদার্থ জব্দ করা হয়েছে। এগুলো হেরোইন বা অন্য কোনো মাদক কি না, তা ল্যাব পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে।”
জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত রাখার ঘোষণা;
শনিবার সন্ধ্যা ৭টা ২২ মিনিটে প্রতিমন্ত্রীর ফেসবুক পেজ থেকে আরেকটি বার্তা দেওয়া হয়। সেখানে বলা হয়, ঢাকা-৬ আসনকে সম্পূর্ণ মাদকমুক্ত না করা পর্যন্ত এ ধরনের আকস্মিক অভিযান অব্যাহত থাকবে।
ইশরাক হোসেন হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, “মাদক কারবারিরা যে রাজনৈতিক দলেরই হোক না কেন, কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। এমনকি আমার নিজস্ব দলের কেউ যদি এ ধরনের অপকর্ম বা মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকে, তবে তার শাস্তি হবে আরও কঠোর।”
উল্লেখ্য, এর আগেও নিজ নির্বাচনি এলাকা ঢাকা-৬ এর বিভিন্ন স্থানে ব্যক্তিগত উদ্যোগে মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়েছেন ইশরাক হোসেন। নিজ এলাকাকে মাদকমুক্ত করতে তিনি স্থানীয় এলাকাবাসীর সরাসরি সহযোগিতা ও সচেতনতা কামনা করেছেন।
দুর্গাপূজার নিরাপত্তা;
সংবাদ সম্মেলনে দেশের সার্বিক নিরাপত্তা ও আসন্ন দুর্গাপূজা কেন্দ্রিক পুলিশের প্রস্তুতি নিয়ে আলোকপাত করা হয়। ডিবিপ্রধান মো. শফিকুল ইসলাম জানান, দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক মাঠে তদারকি করছেন। পর্যাপ্তসংখ্যক পুলিশ সদস্য নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছেন এবং অত্যন্ত সুষ্ঠু, সুন্দর ও উৎসবমুখর পরিবেশে পূজা সম্পন্ন হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।


















