০৪:২৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

বাঁশ কাটা নিয়ে সংঘর্ষ: দিরাইয়ে হাসপাতালে ঢুকে আহত যুবকের ওপর পুনরায় হামলা, জরুরি বিভাগে ভাঙচুর

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময়ঃ ১০:০২:১৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
  • / ২২ বার পড়া হয়েছে।

 

হকবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট;

সুনামগঞ্জ ।। ১৭ অক্টোবর ২০২৬

 

সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার করিমপুর ইউনিয়নের সাকিতপুর গ্রামে বাঁশ কাটাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে গুরুতর আহত এক যুবক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রতিপক্ষের সন্ত্রাসীদের দ্বারা পুনরায় হামলার শিকার হয়েছেন। এ সময় হামলাকারীরা হাসপাতালের জরুরি বিভাগে তাণ্ডব চালিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি চিকিৎসা সরঞ্জাম ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করে।

 

 

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এই নজিরবিহীন তাণ্ডবের ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

 

স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সাকিতপুর গ্রামের মোক্তার চৌধুরীর বাঁশঝাড় থেকে বাঁশ কাটতে যান একই গ্রামের জীবু চৌধুরী নামের এক যুবক। এ সময় এতে বাধা দেন জাহাঙ্গীর নামের এক ব্যক্তি। বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুইজনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয় এবং একপর্যায়ে তা হাতাহাতি ও সংঘর্ষে রূপ নেয়। সংঘর্ষে জীবু চৌধুরী গুরুতর আহত হলে স্বজনেরা তাঁকে উদ্ধার করে আশঙ্কাজনক অবস্থায় দিরাই ৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

 

অভিযোগ উঠেছে, সংঘর্ষের খবর পেয়ে জাহাঙ্গীরের ভাই আনহার সরদার তাঁর সহযোগী একদল ক্যাডার নিয়ে হাসপাতালে প্রবেশ করেন। তাঁরা সরাসরি জরুরি বিভাগে ঢুকে চিকিৎসাধীন জীবু চৌধুরীর ওপর পুনরায় অতর্কিত হামলা চালান। এ সময় জরুরি বিভাগে উপস্থিত অন্যান্য রোগী, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও ভীতি ছড়িয়ে পড়ে। প্রতিপক্ষকে মারধরের পাশাপাশি হামলাকারীরা জরুরি বিভাগে তান্ডব চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়।

 

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হামলাকারীদের তাণ্ডবে জরুরি বিভাগের অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ইসিজি (ECG) মেশিন, পানির কল, রোগীদের ওজন পরিমাপক যন্ত্র, চিকিৎসা সেবায় ব্যবহৃত একাধিক শয্যা (বেড) এবং বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

 

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. প্রশান্ত তালুকদার বলেন, “সাকিতপুর গ্রামের সংঘর্ষে আহত এক ব্যক্তি জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় প্রতিপক্ষের লোকজন হঠাৎ অতর্কিতে তাঁর ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা হাসপাতালের ইসিজি মেশিনসহ বেশ কিছু মূল্যবান সরকারি চিকিৎসা সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এ বিষয়ে উর্ধ্বতন স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরামর্শ করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।”

 

ঘটনার পরপরই দিরাই থানা-পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। জরুরি বিভাগে নতুন করে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং রোগী ও চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

 

দিরাই থানার পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, বর্তমানে হাসপাতালের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। চিকিৎসাসেবা সচল রাখা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেপ্তারের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

ট্যাগসঃ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

বাঁশ কাটা নিয়ে সংঘর্ষ: দিরাইয়ে হাসপাতালে ঢুকে আহত যুবকের ওপর পুনরায় হামলা, জরুরি বিভাগে ভাঙচুর

আপডেট সময়ঃ ১০:০২:১৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

 

হকবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট;

সুনামগঞ্জ ।। ১৭ অক্টোবর ২০২৬

 

সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার করিমপুর ইউনিয়নের সাকিতপুর গ্রামে বাঁশ কাটাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে গুরুতর আহত এক যুবক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রতিপক্ষের সন্ত্রাসীদের দ্বারা পুনরায় হামলার শিকার হয়েছেন। এ সময় হামলাকারীরা হাসপাতালের জরুরি বিভাগে তাণ্ডব চালিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি চিকিৎসা সরঞ্জাম ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করে।

 

 

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এই নজিরবিহীন তাণ্ডবের ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

 

স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সাকিতপুর গ্রামের মোক্তার চৌধুরীর বাঁশঝাড় থেকে বাঁশ কাটতে যান একই গ্রামের জীবু চৌধুরী নামের এক যুবক। এ সময় এতে বাধা দেন জাহাঙ্গীর নামের এক ব্যক্তি। বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুইজনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয় এবং একপর্যায়ে তা হাতাহাতি ও সংঘর্ষে রূপ নেয়। সংঘর্ষে জীবু চৌধুরী গুরুতর আহত হলে স্বজনেরা তাঁকে উদ্ধার করে আশঙ্কাজনক অবস্থায় দিরাই ৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

 

অভিযোগ উঠেছে, সংঘর্ষের খবর পেয়ে জাহাঙ্গীরের ভাই আনহার সরদার তাঁর সহযোগী একদল ক্যাডার নিয়ে হাসপাতালে প্রবেশ করেন। তাঁরা সরাসরি জরুরি বিভাগে ঢুকে চিকিৎসাধীন জীবু চৌধুরীর ওপর পুনরায় অতর্কিত হামলা চালান। এ সময় জরুরি বিভাগে উপস্থিত অন্যান্য রোগী, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও ভীতি ছড়িয়ে পড়ে। প্রতিপক্ষকে মারধরের পাশাপাশি হামলাকারীরা জরুরি বিভাগে তান্ডব চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়।

 

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হামলাকারীদের তাণ্ডবে জরুরি বিভাগের অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ইসিজি (ECG) মেশিন, পানির কল, রোগীদের ওজন পরিমাপক যন্ত্র, চিকিৎসা সেবায় ব্যবহৃত একাধিক শয্যা (বেড) এবং বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

 

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. প্রশান্ত তালুকদার বলেন, “সাকিতপুর গ্রামের সংঘর্ষে আহত এক ব্যক্তি জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় প্রতিপক্ষের লোকজন হঠাৎ অতর্কিতে তাঁর ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা হাসপাতালের ইসিজি মেশিনসহ বেশ কিছু মূল্যবান সরকারি চিকিৎসা সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এ বিষয়ে উর্ধ্বতন স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরামর্শ করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।”

 

ঘটনার পরপরই দিরাই থানা-পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। জরুরি বিভাগে নতুন করে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং রোগী ও চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

 

দিরাই থানার পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, বর্তমানে হাসপাতালের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। চিকিৎসাসেবা সচল রাখা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেপ্তারের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।