তদন্তে পিবিআই ও সিআইডি
বাগেরহাটে পূবালী ব্যাংকের লকার থেকে ২০০ ভরি স্বর্ণ গায়েবঃ শহরে জুড়ে তোলপাড়
- আপডেট সময়ঃ ০৭:৫৫:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬
- / ৫ বার পড়া হয়েছে।
বাগেরহাটে পূবালী ব্যাংক লিমিটেডের প্রধান শাখার একটি লকার থেকে প্রায় ২০০ ভরি স্বর্ণালংকার নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একজন গ্রাহকের করা এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগের পর জেলাজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে সিআইডি, পিবিআই এবং জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও তদন্ত শুরু করেছেন।
ভুক্তভোগী গ্রাহক সুমন কুমার দাসের অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২০২৫ সালের ১৫ অক্টোবর তিনি তার পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের প্রায় ২০০ ভরি স্বর্ণালংকার নিরাপত্তার স্বার্থে পূবালী ব্যাংক বাগেরহাট শাখার লকারে জমা রাখেন।
গতকাল বুধবার একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানের প্রয়োজনে ওই স্বর্ণালংকার নিতে ব্যাংকে যান তিনি। তবে লকার খোলার পর সেটি সম্পূর্ণ শূন্য অবস্থায় দেখতে পান।
সুমন কুমার দাস গণমাধ্যমকে জানান, “লকারটি ফাঁকা দেখে আমি স্তম্ভিত হয়ে যাই। তাৎক্ষণিকভাবে ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানাই এবং পরে সদর মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করি।”
অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় আজ দুপুরে শহরের খানজাহান আলী সড়কের ব্যাংকটিতে অভিযানে নামেন তদন্তকারীরা। ক্রাইম সিন ইউনিটসহ সিআইডি (CID), পিবিআই (PBI) এবং জেলা পুলিশের কর্মকর্তারা কয়েক ঘণ্টা ধরে লকার কক্ষের ভিডিও ফুটেজ এবং লকার পরিচালনা পদ্ধতি পর্যালোচনা করেন।
বাগেরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) শামীম হোসেন জানান: “ব্যাংকের লকার থেকে স্বর্ণালংকার খোয়া যাওয়ার অভিযোগ পাওয়ার পরপরই আমরা তদন্ত শুরু করেছি। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। লকার খোলার প্রক্রিয়া এবং কারিগরি বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে।”
ব্যাংকের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও দায় নিতে নারাজ কর্তৃপক্ষ। পূবালী ব্যাংক বাগেরহাট শাখার সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) মনিরুল আমিন ব্যাখ্যা করেন যে, লকার খোলার জন্য দুটি আলাদা চাবির প্রয়োজন হয়। একটি থাকে ব্যাংকের কাছে এবং অন্যটি সংশ্লিষ্ট গ্রাহকের কাছে।
তিনি বলেন, “গ্রাহকের চাবি তার নিজের কাছেই ছিল। নিয়ম অনুযায়ী, গ্রাহকের চাবি ছাড়া লকার খোলা অসম্ভব। এছাড়া লকারে তিনি কী রেখেছিলেন, সে বিষয়ে ব্যাংকের কাছে কোনো পূর্ব ঘোষণা ছিল না। আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছি।”
ব্যাংকের লকার থেকে স্বর্ণ গায়েবের খবর ছড়িয়ে পড়লে অন্য গ্রাহকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক দেখা দেয়। আজ বিকেলেই নাগের বাজার ও আমলাপাড়া এলাকার অনেক লকার ব্যবহারকারী ব্যাংকে ভিড় জমান। তারা নিজেদের লকার খুলে গচ্ছিত মালামাল পরীক্ষা করে দেখেন। যদিও এখন পর্যন্ত অন্য কোনো গ্রাহকের মালামাল হারানোর খবর পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য যে, এই ঘটনার মাত্র দুই দিন আগে একই ভবনে অবস্থিত ‘নগদ’ ডিস্ট্রিবিউশন হাউসের হিসাবরক্ষক মো. মনিরুজ্জামান প্রায় ৩৩ লাখ টাকা নিয়ে চম্পট দিয়েছেন। ওই ঘটনায় বুধবার একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। একই ভবনে পরপর দুটি বড় ধরনের আর্থিক কেলেঙ্কারির ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে।
তথ্যসহায়তাঃপ্রথমআলো
















