০২:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

যাদুকাটায় ইজারাবিহীন স্থানে বালু উত্তোলন: নেপথ্যে কি প্রশাসন, জনমনে প্রশ্ন?

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময়ঃ ০১:২৪:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬
  • / ১৭ বার পড়া হয়েছে।

 

হকবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট;

সুনামগঞ্জ ।। ২২ অক্টোবর ২০২৬

 

 

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার সীমান্তঘেঁষা সৌন্দর্যমণ্ডিত যাদুকাটা নদী থেকে ইজারাবিহীন ও নিয়মবহির্ভূতভাবে বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় প্রশাসন ও প্রভাবশালী মহলের ভূমিকা নিয়ে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ নতুন করে রূপ নিয়েছে চরম অসন্তোষে। সুনির্দিষ্ট দরপত্র বা উন্মুক্ত প্রতিযোগিতা ছাড়াই ভূমি মন্ত্রণালয়ের বিশেষ আদেশে তথাকথিত ‘ক্ষতিগ্রস্ত’ দেখিয়ে এক রাজনৈতিক নেতাকে দুটি বালুমহালের দখল বুঝিয়ে দেওয়ার ঘটনায় এ বিতর্ক এখন নতুন মাত্রা পেয়েছে।

 

স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রশ্ন—প্রাকৃতিক পরিবেশ ধ্বংস ও অবৈধভাবে নদীর সম্পদ লুটপাটের পেছনে মূলত কাদের মদদ রয়েছে? সীমান্ত রক্ষা ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কড়াকড়ির মধ্যেও প্রশাসনের অস্পষ্ট ভূমিকা ও রহস্যজনক নীরবতা নিয়ে জনমনে নানা গুঞ্জন ও ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।

 

দরপত্র ছাড়াই বিশেষ বরাদ্দ: প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন;

অনুসন্ধানে জানা যায়, উন্মুক্ত প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র প্রক্রিয়ার তোয়াক্কা না করে ভূমি মন্ত্রণালয় ও সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসনের বিশেষ আদেশে মেসার্স তাহিয়া স্টোন ক্রাশারের স্বত্বাধিকারী ও বিএনপি নেতা নাছির মিয়াকে যাদুকাটা-১ ও যাদুকাটা-২ বালুমহালের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বুঝিয়ে দেওয়া হয়।

 

যদিও এই বন্দোবস্ত থেকে প্রায় ৪২ কোটি ৬৬ লাখ টাকার রাজস্ব আদায়ের হিসেব দেখানো হচ্ছে, তবুও আইন ও বিধিমালার সঠিক প্রতিফলন না ঘটায় এই প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে সুশীল সমাজ ও স্থানীয় সাধারণ মানুষের মাঝে। বিশেষ কোটা বা ‘ক্ষতিগ্রস্ত’র দোহাই দিয়ে একজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে বালুমহাল ইজারা দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন।

 

আদালত ও আইনের মারপ্যাঁচ: অবাধে চলছে বালু লুট;

উচ্চ আদালত ও সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিভিন্ন সময়ের স্থগিতাদেশ ও নতুন নির্দেশের মারপ্যাঁচে যাদুকাটা নদীতে বালু উত্তোলন বন্ধ এবং চালুর এক অদ্ভুত ‘লুকোচুরি খেলা’ চলছে। অভিযোগ রয়েছে, আদালতের নির্দেশনার ফাঁকফোকর ব্যবহার করে বা তা তোয়াক্কা না করেই ইজারাবহির্ভূত সংরক্ষিত সীমানা থেকে নদীর তলদেশ কেটে নেওয়া হচ্ছে।

 

হাইড্রোলিক ড্রেজার ও পরিবেশ-বিধ্বংসী সেভ মেশিন ব্যবহার করে নদীর তীর কেটে অবাধে বালু উত্তোলন করা হলেও মূল হোতারা সবসময়ই থেকে যাচ্ছেন অধরা।

 

স্থানীয় এক অধিবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন:

“মাঝে মধ্যে কিছু লোকদেখানো ভ্রাম্যমাণ আদালত বা অভিযান চালানো হয়। দু-একটি ট্রলার বা মেশিন জব্দ করেই দায়িত্ব শেষ করা হয়। কিন্তু যারা রাতের আঁধারে কলকাঠি নাড়ছে, তারা সবসময়ই প্রশাসনের ধরাছোঁয়ার বাইরে।”

 

যদিও সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিজিবি) নদীর কয়েকটি পয়েন্টে অবৈধ উত্তোলন রোধে তৎপরতা দেখাচ্ছে, তবে সার্বিকভাবে স্থানীয় জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সমন্বিত ও কার্যকর পদক্ষেপের অভাব সুস্পষ্ট।

 

পরিবেশ ও স্থানীয় জনজীবনে মারাত্মক ধস;

অপরিকল্পিত ও বেপরোয়া বালু উত্তোলনের ফলে যাদুকাটা নদী ও এর পারাপারের বিস্তীর্ণ জনপদে নেমে এসেছে চরম প্রাকৃতিক ও সামাজিক বিপর্যয়:

 

ভয়াবহ তীর ধস ও ভাঙন: ভারী যান্ত্রিক ড্রেজার দিয়ে নদীর পার কেটে ফেলায় শত শত একর আবাদি জমি, শতবর্ষী বাড়িঘর ও বিপুল পরিমাণ গাছপালা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে।

 

ঐতিহাসিক ও প্রাকৃতিক ঐতিহ্য ধ্বংস: সনাতন ধর্মাবলম্বীদের তীর্থস্থান শ্রী অদ্বৈত প্রভুর জন্মধামসহ নদীটির অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও অস্তিত্ব এখন মারাত্মক হুমকির মুখে।

 

শ্রমিক সংকট ও সংঘাত: কতিপয় প্রভাবশালী ইজারাদারের একচেটিয়া আধিপত্যের কারণে হাজার হাজার ঐতিহ্যবাহী সাধারণ বারকি শ্রমিক ও নদীনির্ভর পরিবারগুলো কর্মসংস্থান হারিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

 

রক্ষা করতে হবে যাদুকাটাকে: বিশ্লেষকদের ৩ দফা সুপারিশ;

পরিবেশবিদ ও বিশেষজ্ঞদের মতে, অবিলম্বে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার ও প্রশাসনিক উদাসীনতা বন্ধ করা না গেলে দেশের অন্যতম সুন্দর নদী যাদুকাটা অচিরেই মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে।

 

নদী রক্ষা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় তারা প্রধান তিনটি করণীয় তুলে ধরেছেন:

স্বচ্ছ ইজারা ও বিশেষ কোটা বাতিল: কোনো বিশেষ অজুহাত বা ‘ক্ষতিগ্রস্ত’র দোহাই দিয়ে রাজনৈতিক বিবেচনায় ইজারা প্রদান স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে হবে। পুরোপুরি উন্মুক্ত ও প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

স্বাধীন মনিটরিং সেল গঠন: জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের পাশাপাশি পরিবেশবাদী সংগঠন, গণমাধ্যমকর্মী এবং স্থানীয় সম্মানিত ব্যক্তিবর্গকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি শক্তিশালী তদারকি কমিটি গঠন করা।

 

ভারী যন্ত্রপাতির ব্যবহার নিষিদ্ধ: ড্রেজার, সেভ মেশিনসহ পরিবেশ বিধ্বংসী সকল ভারী যন্ত্র দিয়ে বালু তোলা সম্পূর্ণ আইনি নিষিদ্ধ ঘোষণা করা এবং নির্দেশ অমান্যকারীদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনা।

 

যাদুকাটার প্রাকৃতিক অস্তিত্ব ও ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে সরকারের রাজস্ব আদায়ের চেয়ে পরিবেশ রক্ষা ও সুশাসন নিশ্চিত করাকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া জরুরি। নদীকেন্দ্রিক কোটি মানুষের জীবিকা এবং প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় প্রশাসন দ্রুত কঠোর ও বাস্তবসম্মত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে—এমনটাই প্রত্যাশা সুনামগঞ্জবাসীর।

ট্যাগসঃ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

যাদুকাটায় ইজারাবিহীন স্থানে বালু উত্তোলন: নেপথ্যে কি প্রশাসন, জনমনে প্রশ্ন?

আপডেট সময়ঃ ০১:২৪:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

 

হকবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট;

সুনামগঞ্জ ।। ২২ অক্টোবর ২০২৬

 

 

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার সীমান্তঘেঁষা সৌন্দর্যমণ্ডিত যাদুকাটা নদী থেকে ইজারাবিহীন ও নিয়মবহির্ভূতভাবে বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় প্রশাসন ও প্রভাবশালী মহলের ভূমিকা নিয়ে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ নতুন করে রূপ নিয়েছে চরম অসন্তোষে। সুনির্দিষ্ট দরপত্র বা উন্মুক্ত প্রতিযোগিতা ছাড়াই ভূমি মন্ত্রণালয়ের বিশেষ আদেশে তথাকথিত ‘ক্ষতিগ্রস্ত’ দেখিয়ে এক রাজনৈতিক নেতাকে দুটি বালুমহালের দখল বুঝিয়ে দেওয়ার ঘটনায় এ বিতর্ক এখন নতুন মাত্রা পেয়েছে।

 

স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রশ্ন—প্রাকৃতিক পরিবেশ ধ্বংস ও অবৈধভাবে নদীর সম্পদ লুটপাটের পেছনে মূলত কাদের মদদ রয়েছে? সীমান্ত রক্ষা ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কড়াকড়ির মধ্যেও প্রশাসনের অস্পষ্ট ভূমিকা ও রহস্যজনক নীরবতা নিয়ে জনমনে নানা গুঞ্জন ও ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।

 

দরপত্র ছাড়াই বিশেষ বরাদ্দ: প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন;

অনুসন্ধানে জানা যায়, উন্মুক্ত প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র প্রক্রিয়ার তোয়াক্কা না করে ভূমি মন্ত্রণালয় ও সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসনের বিশেষ আদেশে মেসার্স তাহিয়া স্টোন ক্রাশারের স্বত্বাধিকারী ও বিএনপি নেতা নাছির মিয়াকে যাদুকাটা-১ ও যাদুকাটা-২ বালুমহালের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বুঝিয়ে দেওয়া হয়।

 

যদিও এই বন্দোবস্ত থেকে প্রায় ৪২ কোটি ৬৬ লাখ টাকার রাজস্ব আদায়ের হিসেব দেখানো হচ্ছে, তবুও আইন ও বিধিমালার সঠিক প্রতিফলন না ঘটায় এই প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে সুশীল সমাজ ও স্থানীয় সাধারণ মানুষের মাঝে। বিশেষ কোটা বা ‘ক্ষতিগ্রস্ত’র দোহাই দিয়ে একজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে বালুমহাল ইজারা দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন।

 

আদালত ও আইনের মারপ্যাঁচ: অবাধে চলছে বালু লুট;

উচ্চ আদালত ও সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিভিন্ন সময়ের স্থগিতাদেশ ও নতুন নির্দেশের মারপ্যাঁচে যাদুকাটা নদীতে বালু উত্তোলন বন্ধ এবং চালুর এক অদ্ভুত ‘লুকোচুরি খেলা’ চলছে। অভিযোগ রয়েছে, আদালতের নির্দেশনার ফাঁকফোকর ব্যবহার করে বা তা তোয়াক্কা না করেই ইজারাবহির্ভূত সংরক্ষিত সীমানা থেকে নদীর তলদেশ কেটে নেওয়া হচ্ছে।

 

হাইড্রোলিক ড্রেজার ও পরিবেশ-বিধ্বংসী সেভ মেশিন ব্যবহার করে নদীর তীর কেটে অবাধে বালু উত্তোলন করা হলেও মূল হোতারা সবসময়ই থেকে যাচ্ছেন অধরা।

 

স্থানীয় এক অধিবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন:

“মাঝে মধ্যে কিছু লোকদেখানো ভ্রাম্যমাণ আদালত বা অভিযান চালানো হয়। দু-একটি ট্রলার বা মেশিন জব্দ করেই দায়িত্ব শেষ করা হয়। কিন্তু যারা রাতের আঁধারে কলকাঠি নাড়ছে, তারা সবসময়ই প্রশাসনের ধরাছোঁয়ার বাইরে।”

 

যদিও সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিজিবি) নদীর কয়েকটি পয়েন্টে অবৈধ উত্তোলন রোধে তৎপরতা দেখাচ্ছে, তবে সার্বিকভাবে স্থানীয় জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সমন্বিত ও কার্যকর পদক্ষেপের অভাব সুস্পষ্ট।

 

পরিবেশ ও স্থানীয় জনজীবনে মারাত্মক ধস;

অপরিকল্পিত ও বেপরোয়া বালু উত্তোলনের ফলে যাদুকাটা নদী ও এর পারাপারের বিস্তীর্ণ জনপদে নেমে এসেছে চরম প্রাকৃতিক ও সামাজিক বিপর্যয়:

 

ভয়াবহ তীর ধস ও ভাঙন: ভারী যান্ত্রিক ড্রেজার দিয়ে নদীর পার কেটে ফেলায় শত শত একর আবাদি জমি, শতবর্ষী বাড়িঘর ও বিপুল পরিমাণ গাছপালা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে।

 

ঐতিহাসিক ও প্রাকৃতিক ঐতিহ্য ধ্বংস: সনাতন ধর্মাবলম্বীদের তীর্থস্থান শ্রী অদ্বৈত প্রভুর জন্মধামসহ নদীটির অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও অস্তিত্ব এখন মারাত্মক হুমকির মুখে।

 

শ্রমিক সংকট ও সংঘাত: কতিপয় প্রভাবশালী ইজারাদারের একচেটিয়া আধিপত্যের কারণে হাজার হাজার ঐতিহ্যবাহী সাধারণ বারকি শ্রমিক ও নদীনির্ভর পরিবারগুলো কর্মসংস্থান হারিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

 

রক্ষা করতে হবে যাদুকাটাকে: বিশ্লেষকদের ৩ দফা সুপারিশ;

পরিবেশবিদ ও বিশেষজ্ঞদের মতে, অবিলম্বে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার ও প্রশাসনিক উদাসীনতা বন্ধ করা না গেলে দেশের অন্যতম সুন্দর নদী যাদুকাটা অচিরেই মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে।

 

নদী রক্ষা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় তারা প্রধান তিনটি করণীয় তুলে ধরেছেন:

স্বচ্ছ ইজারা ও বিশেষ কোটা বাতিল: কোনো বিশেষ অজুহাত বা ‘ক্ষতিগ্রস্ত’র দোহাই দিয়ে রাজনৈতিক বিবেচনায় ইজারা প্রদান স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে হবে। পুরোপুরি উন্মুক্ত ও প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

স্বাধীন মনিটরিং সেল গঠন: জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের পাশাপাশি পরিবেশবাদী সংগঠন, গণমাধ্যমকর্মী এবং স্থানীয় সম্মানিত ব্যক্তিবর্গকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি শক্তিশালী তদারকি কমিটি গঠন করা।

 

ভারী যন্ত্রপাতির ব্যবহার নিষিদ্ধ: ড্রেজার, সেভ মেশিনসহ পরিবেশ বিধ্বংসী সকল ভারী যন্ত্র দিয়ে বালু তোলা সম্পূর্ণ আইনি নিষিদ্ধ ঘোষণা করা এবং নির্দেশ অমান্যকারীদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনা।

 

যাদুকাটার প্রাকৃতিক অস্তিত্ব ও ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে সরকারের রাজস্ব আদায়ের চেয়ে পরিবেশ রক্ষা ও সুশাসন নিশ্চিত করাকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া জরুরি। নদীকেন্দ্রিক কোটি মানুষের জীবিকা এবং প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় প্রশাসন দ্রুত কঠোর ও বাস্তবসম্মত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে—এমনটাই প্রত্যাশা সুনামগঞ্জবাসীর।