০৪:০৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

যাদুকাটা নদীতে বালু-পাথর উত্তোলন শুরু: স্বস্তি ফিরেছে অর্ধলাখ শ্রমিক ও ব্যবসায়ীর মাঝে

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময়ঃ ০২:২৪:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
  • / ৩৫ বার পড়া হয়েছে।

 

হকবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট;

সুনামগঞ্জ ।। ১৯ অক্টোবর ২০২৬

 

দীর্ঘ ১ মাস ৫ দিনের আইনি নিষেধাজ্ঞা ও প্রশাসনিক স্থবিরতা কাটিয়ে অবশেষে সুনামগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী যাদুকাটা নদীতে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে বালু ও পাথর উত্তোলন। নদীভিত্তিক অর্থনীতির চালিকাশক্তি হিসেবে পরিচিত এই নদীতে পুনরায় কাজ শুরু হওয়ার খবরে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন স্থানীয় প্রায় অর্ধলক্ষাধিক শ্রমিক, বারকি নৌকার মাঝি এবং ছোট-বড় ব্যবসায়ীরা।

 

 

উল্লেখ্য, গত ১৩ সেপ্টেম্বর সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসনের এক নির্দেশনার মাধ্যমে যাদুকাটা নদী থেকে পরিবেশ সুরক্ষা ও আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বালু ও পাথর উত্তোলনে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল। ওই আদেশের পর থেকে নদীতে সব ধরনের বালু-পাথর উত্তোলন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।

 

চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছিলেন খেটে খাওয়া মানুষ;

হঠাৎ নদী থেকে বালু ও পাথর উত্তোলন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছিলেন এই নদীর ওপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে নির্ভরশীল হাজার হাজার পরিবার। দীর্ঘ প্রায় এক মাসেরও বেশি সময় ধরে উপার্জন বন্ধ থাকায় দৈনন্দিন জীবিকা নির্বাহ ও সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছিল খেটে খাওয়া বারকি শ্রমিকদের। একই সাথে যাদুকাটা নদী ঘিরে গড়ে ওঠা স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যেও স্থবিরতা নেমে এসে দেখা দিয়েছিল তীব্র অর্থনৈতিক সংকট।

 

তীরে তীরে ফিরছে মুখরতা ও কর্মচাঞ্চল্য;

সরকারি নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পর আজ সোমবার ভোর থেকেই যাদুকাটা নদীর বুকে ট্রলার ও বারকি নৌকার কোলাহল বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে। উত্তর সুনামগঞ্জ ও তাহিরপুর সীমান্তবর্তী যাদুকাটা নদীর দুই পাড়ের গ্রামগুলোতে এখন বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ। শ্রমিকরা নতুন উদ্যমে ঘাটে ঘাটে নৌকা প্রস্তুত করছেন এবং নদীর তীরবর্তী বাজারগুলোতেও চাঙ্গা ভাব ফিরে আসছে।

 

নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার অনুভূতি ব্যক্ত করে স্থানীয় এক বারকি শ্রমিক বলেন, “বিগত এক মাস পাঁচ দিন কাজ না থাকায় পরিবার নিয়ে খুব কষ্টে দিন কেটেছে। আজ থেকে আবার নদীতে নামতে পেরে মনের ভেতরের বড় দুশ্চিন্তা ও অনিশ্চয়তা কেটে গেছে।”

 

একইভাবে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বালু-পাথর ব্যবসায়ীরাও। তারা জানান, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং সরকারের নির্দিষ্ট নিয়ম-নীতি মেনে বালু-পাথর উত্তোলন করা সম্ভব হলে একদিকে যেমন সরকারের রাজস্ব আয় বৃদ্ধি পাবে, অন্যদিকে স্থানীয় অর্থনীতি গতিশীল থাকার পাশাপাশি উপকৃত হবে হাজার হাজার মেহনতী মানুষ।

 

আজ সকাল থেকেই নদীর বুকে শ্রমিকদের কোলাহল, ট্রলারের শব্দ এবং ব্যস্ততায় যাদুকাটা নদী তার চিরচেনা রূপ ও প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে পেতে শুরু করেছে।

ট্যাগসঃ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

যাদুকাটা নদীতে বালু-পাথর উত্তোলন শুরু: স্বস্তি ফিরেছে অর্ধলাখ শ্রমিক ও ব্যবসায়ীর মাঝে

আপডেট সময়ঃ ০২:২৪:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

 

হকবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট;

সুনামগঞ্জ ।। ১৯ অক্টোবর ২০২৬

 

দীর্ঘ ১ মাস ৫ দিনের আইনি নিষেধাজ্ঞা ও প্রশাসনিক স্থবিরতা কাটিয়ে অবশেষে সুনামগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী যাদুকাটা নদীতে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে বালু ও পাথর উত্তোলন। নদীভিত্তিক অর্থনীতির চালিকাশক্তি হিসেবে পরিচিত এই নদীতে পুনরায় কাজ শুরু হওয়ার খবরে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন স্থানীয় প্রায় অর্ধলক্ষাধিক শ্রমিক, বারকি নৌকার মাঝি এবং ছোট-বড় ব্যবসায়ীরা।

 

 

উল্লেখ্য, গত ১৩ সেপ্টেম্বর সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসনের এক নির্দেশনার মাধ্যমে যাদুকাটা নদী থেকে পরিবেশ সুরক্ষা ও আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বালু ও পাথর উত্তোলনে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল। ওই আদেশের পর থেকে নদীতে সব ধরনের বালু-পাথর উত্তোলন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।

 

চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছিলেন খেটে খাওয়া মানুষ;

হঠাৎ নদী থেকে বালু ও পাথর উত্তোলন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছিলেন এই নদীর ওপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে নির্ভরশীল হাজার হাজার পরিবার। দীর্ঘ প্রায় এক মাসেরও বেশি সময় ধরে উপার্জন বন্ধ থাকায় দৈনন্দিন জীবিকা নির্বাহ ও সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছিল খেটে খাওয়া বারকি শ্রমিকদের। একই সাথে যাদুকাটা নদী ঘিরে গড়ে ওঠা স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যেও স্থবিরতা নেমে এসে দেখা দিয়েছিল তীব্র অর্থনৈতিক সংকট।

 

তীরে তীরে ফিরছে মুখরতা ও কর্মচাঞ্চল্য;

সরকারি নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পর আজ সোমবার ভোর থেকেই যাদুকাটা নদীর বুকে ট্রলার ও বারকি নৌকার কোলাহল বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে। উত্তর সুনামগঞ্জ ও তাহিরপুর সীমান্তবর্তী যাদুকাটা নদীর দুই পাড়ের গ্রামগুলোতে এখন বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ। শ্রমিকরা নতুন উদ্যমে ঘাটে ঘাটে নৌকা প্রস্তুত করছেন এবং নদীর তীরবর্তী বাজারগুলোতেও চাঙ্গা ভাব ফিরে আসছে।

 

নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার অনুভূতি ব্যক্ত করে স্থানীয় এক বারকি শ্রমিক বলেন, “বিগত এক মাস পাঁচ দিন কাজ না থাকায় পরিবার নিয়ে খুব কষ্টে দিন কেটেছে। আজ থেকে আবার নদীতে নামতে পেরে মনের ভেতরের বড় দুশ্চিন্তা ও অনিশ্চয়তা কেটে গেছে।”

 

একইভাবে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বালু-পাথর ব্যবসায়ীরাও। তারা জানান, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং সরকারের নির্দিষ্ট নিয়ম-নীতি মেনে বালু-পাথর উত্তোলন করা সম্ভব হলে একদিকে যেমন সরকারের রাজস্ব আয় বৃদ্ধি পাবে, অন্যদিকে স্থানীয় অর্থনীতি গতিশীল থাকার পাশাপাশি উপকৃত হবে হাজার হাজার মেহনতী মানুষ।

 

আজ সকাল থেকেই নদীর বুকে শ্রমিকদের কোলাহল, ট্রলারের শব্দ এবং ব্যস্ততায় যাদুকাটা নদী তার চিরচেনা রূপ ও প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে পেতে শুরু করেছে।