০২:২৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
ভারত মডেল অনুসরণ করে আলোচনার প্রস্তাবঃ

রাশিয়ার তেলের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বিশেষ ছাড় চাইল বাংলাদেশ

হক বার্তা ডেস্ক রিপোর্টঃ
  • আপডেট সময়ঃ ১০:৪২:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬
  • / ৪ বার পড়া হয়েছে।

দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা মেটানো এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার স্বার্থে রাশিয়ার ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা থেকে সাময়িক নিষ্কৃতি বা ‘অস্থায়ী ছাড়’ চেয়েছে বাংলাদেশ। 

প্রতিবেশী দেশ ভারত যেভাবে রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনার ক্ষেত্রে বিশেষ সুযোগ পাচ্ছে, সেই একই আদলে বাংলাদেশকে সুযোগ দেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

বুধবার সচিবালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেনের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এই তথ্য নিশ্চিত করেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বৈঠক পরবর্তী ব্রিফিংয়ে মন্ত্রী জানান, রাশিয়ার তেলের ওপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা থাকলেও বাংলাদেশের অর্থনীতির বর্তমান প্রেক্ষাপটে সাশ্রয়ী মূল্যে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। যেহেতু ভারত ইতোমধ্যেই এই বিষয়ে একটি বিশেষ ছাড় বা সুবিধাজনক অবস্থায় রয়েছে, তাই বাংলাদেশও একই ধরনের সহযোগিতার প্রত্যাশা করে।

‎বৈঠকে জ্বালানি ইস্যু ছাড়াও দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বিনিয়োগ, বাণিজ্য এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার নানা দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। অর্থমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে। তিনি মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে জানিয়েছেন যে, যদি ভারতের জন্য রাশিয়ার তেল কেনার ক্ষেত্রে কোনো বিশেষ পথ খোলা থাকে, তবে বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও সেই একই মানদণ্ড অনুসরণ করা উচিত। এটি কেবল জ্বালানি নিরাপত্তার প্রশ্ন নয়, বরং বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনীতির শক্তিশালী সমর্থনের জন্য এই মুহূর্তে অপরিহার্য।

‎মার্কিন রাষ্ট্রদূতের পক্ষ থেকেও এই অনুরোধের বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে। ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন জানিয়েছেন যে, বাংলাদেশের এই বিশেষ অনুরোধটি তিনি দ্রুত ওয়াশিংটনের সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের কাছে পৌঁছে দেবেন।

বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং ডলার সংকটের মোকাবিলায় রাশিয়ার কাছ থেকে তেল আমদানির এই সুযোগ পেলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এবং বাজারে পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা অনেক সহজ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

‎এখন ওয়াশিংটনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকেই তাকিয়ে আছে ঢাকা। যদি এই আলোচনা সফল হয়, তবে দেশের জ্বালানি খাতে এক নতুন অধ্যায় শুরু হতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের শিল্প উৎপাদন ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে সহায়ক হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

ভারত মডেল অনুসরণ করে আলোচনার প্রস্তাবঃ

রাশিয়ার তেলের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বিশেষ ছাড় চাইল বাংলাদেশ

আপডেট সময়ঃ ১০:৪২:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা মেটানো এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার স্বার্থে রাশিয়ার ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা থেকে সাময়িক নিষ্কৃতি বা ‘অস্থায়ী ছাড়’ চেয়েছে বাংলাদেশ। 

প্রতিবেশী দেশ ভারত যেভাবে রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনার ক্ষেত্রে বিশেষ সুযোগ পাচ্ছে, সেই একই আদলে বাংলাদেশকে সুযোগ দেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

বুধবার সচিবালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেনের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এই তথ্য নিশ্চিত করেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বৈঠক পরবর্তী ব্রিফিংয়ে মন্ত্রী জানান, রাশিয়ার তেলের ওপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা থাকলেও বাংলাদেশের অর্থনীতির বর্তমান প্রেক্ষাপটে সাশ্রয়ী মূল্যে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। যেহেতু ভারত ইতোমধ্যেই এই বিষয়ে একটি বিশেষ ছাড় বা সুবিধাজনক অবস্থায় রয়েছে, তাই বাংলাদেশও একই ধরনের সহযোগিতার প্রত্যাশা করে।

‎বৈঠকে জ্বালানি ইস্যু ছাড়াও দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বিনিয়োগ, বাণিজ্য এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার নানা দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। অর্থমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে। তিনি মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে জানিয়েছেন যে, যদি ভারতের জন্য রাশিয়ার তেল কেনার ক্ষেত্রে কোনো বিশেষ পথ খোলা থাকে, তবে বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও সেই একই মানদণ্ড অনুসরণ করা উচিত। এটি কেবল জ্বালানি নিরাপত্তার প্রশ্ন নয়, বরং বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনীতির শক্তিশালী সমর্থনের জন্য এই মুহূর্তে অপরিহার্য।

‎মার্কিন রাষ্ট্রদূতের পক্ষ থেকেও এই অনুরোধের বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে। ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন জানিয়েছেন যে, বাংলাদেশের এই বিশেষ অনুরোধটি তিনি দ্রুত ওয়াশিংটনের সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের কাছে পৌঁছে দেবেন।

বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং ডলার সংকটের মোকাবিলায় রাশিয়ার কাছ থেকে তেল আমদানির এই সুযোগ পেলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এবং বাজারে পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা অনেক সহজ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

‎এখন ওয়াশিংটনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকেই তাকিয়ে আছে ঢাকা। যদি এই আলোচনা সফল হয়, তবে দেশের জ্বালানি খাতে এক নতুন অধ্যায় শুরু হতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের শিল্প উৎপাদন ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে সহায়ক হবে।