০৪:১০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

“সংস্কার কর্মসূচি” নিয়ে বিএনপি জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে: সারোয়ার তুষার

হকবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময়ঃ ০১:০৪:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
  • / ১৮ বার পড়া হয়েছে।

 

হকবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট;

সুনামগঞ্জ ।। ১৮ অক্টোবর ২০২৬

 

১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর গণঅভ্যুত্থানের দীর্ঘ সংস্কার প্রক্রিয়াকে পাশ কাটিয়ে নতুন করে সংবিধান সংশোধন কমিটি গঠন করাকে আগের ঐকমত্যভিত্তিক সংস্কারপ্রক্রিয়া থেকে সরে আসার ইঙ্গিত বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) রাজনৈতিক পর্ষদ সদস্য ও সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটির উপপ্রধান সারোয়ার তুষার।

 

শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর বাংলামোটরে রূপায়ণ ট্রেড সেন্টারে অবস্থিত এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষরের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

 

সংবাদ সম্মেলনে সারোয়ার তুষার অভিযোগ করেন, নির্বাচনপরবর্তী এই পদক্ষেপ শুধু জনগণের কাছে করা অঙ্গীকারের সঙ্গেই সাংঘর্ষিক নয়, বরং এটি বিএনপির নিজেদের ঘোষিত সংস্কার কর্মসূচির সঙ্গেও চরম অসংগতিপূর্ণ এবং এক ধরনের আত্মপ্রতারণা।

 

‘প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবায়নের মধ্যে বড় অসঙ্গতি’;

সারোয়ার তুষার বলেন, নির্বাচনের আগে বিএনপি রাষ্ট্র সংস্কারের নানা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। দলটির ৩১ দফা রূপরেখা ও নির্বাচনী ইশতেহারে স্পষ্ট সংস্কার প্রস্তাবের উল্লেখ ছিল এবং তারা জুলাই জাতীয় সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেছিল। কিন্তু ক্ষমতার আসার পর বাস্তবে তাদের অবস্থান ও পদক্ষেপের মধ্যে বড় ধরনের বৈপরীত্য দেখা যাচ্ছে।

 

তিনি আরও উল্লেখ করেন, গণভোটে নির্ধারিত চারটি প্রশ্নের মধ্যেই জুলাই সনদ বাস্তবায়নের স্পষ্ট প্রক্রিয়া রূপায়িত হয়েছে। ফলে গণভোটের স্পষ্ট রায় বাস্তবায়ন করা হলেই জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পথ উন্মুক্ত হয়ে যায়। এ নিয়ে আলাদা কোনো অস্পষ্টতা তৈরির সুযোগ নেই। তাই কেবল জুলাই সনদের দোহাই দিয়ে গণভোটের মূল রায়কে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার চেষ্টা মূলত মূল সংকট থেকে দৃষ্টি সরানোর নামান্তর।

 

ইতিহাস ও পূর্ব ঐকমত্য উপেক্ষার অভিযোগ;

বিএনপির রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির সমালোচনা করে সারোয়ার তুষার বলেন, দলটি দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসকে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন থেকে শুরু করার এক ধরনের প্রবণতা দেখাচ্ছে। অথচ এই নির্বাচনের পেছনে ছিল ফ্যাসিবাদের পতন, গণঅভ্যুত্থান, অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব গ্রহণ এবং বিভিন্ন সংস্কার কমিশন গঠনের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হওয়া একটি দীর্ঘ প্রাতিষ্ঠানিক ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়া।

 

পূর্বের ঐকমত্য ভঙ্গের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়ে বিএনপির কোনো ‘নোট অব ডিসেন্ট’ (ভিন্নমত) ছিল না। তা সত্ত্বেও সরকার ক্ষমতায় এসে সিদ্ধান্তটি বাতিল করেছে। পাশাপাশি পুলিশ সংস্কারসহ যেসব বিষয়ে দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য গড়ে উঠেছিল, সেগুলোতেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। সংস্কার কোনো একক দলীয় এজেন্ডা ছিল না, বরং অভ্যুত্থানের আগেই তা জাতীয় এজেন্ডায় রূপ নিয়েছিল।

 

বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি ও ৩ দফা দাবি;

সরকারকে সতর্ক করে এনসিপি নেতা সারোয়ার তুষার বলেন, বিএনপি সরকার যদি এই সংস্কার বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়, তবে বিরোধী দলগুলোর চলমান আন্দোলন ভবিষ্যতে তীব্র গণআন্দোলনে রূপ নিতে পারে। দেশীয় রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় তিনি দ্রুত গণভোটের রায় কার্যকর করার আহ্বান জানান।

 

সংবাদ সম্মেলন থেকে এনসিপির পক্ষ থেকে প্রধান ৩টি দাবি উত্থাপন করা হয়:

১. অবিলম্বে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে হবে।

২. একদলীয় সংবিধান সংশোধন কমিটি বিলুপ্ত করে অবিলম্বে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠন করতে হবে।

৩. ঘোষিত একদলীয় সংবিধান সংশোধন কমিটিতে এনসিপি কোনোভাবেই অংশ নেবে না।

 

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন এনসিপির সদস্য সচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন, রাজনৈতিক পর্ষদ সদস্য সালেহ উদ্দিন সিফাত, যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন এবং যুগ্ম সদস্য সচিব ফরিদুল হকসহ দলের অন্যান্য শীর্ষ নেতারা।

ট্যাগসঃ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

“সংস্কার কর্মসূচি” নিয়ে বিএনপি জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে: সারোয়ার তুষার

আপডেট সময়ঃ ০১:০৪:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

 

হকবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট;

সুনামগঞ্জ ।। ১৮ অক্টোবর ২০২৬

 

১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর গণঅভ্যুত্থানের দীর্ঘ সংস্কার প্রক্রিয়াকে পাশ কাটিয়ে নতুন করে সংবিধান সংশোধন কমিটি গঠন করাকে আগের ঐকমত্যভিত্তিক সংস্কারপ্রক্রিয়া থেকে সরে আসার ইঙ্গিত বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) রাজনৈতিক পর্ষদ সদস্য ও সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটির উপপ্রধান সারোয়ার তুষার।

 

শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর বাংলামোটরে রূপায়ণ ট্রেড সেন্টারে অবস্থিত এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষরের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

 

সংবাদ সম্মেলনে সারোয়ার তুষার অভিযোগ করেন, নির্বাচনপরবর্তী এই পদক্ষেপ শুধু জনগণের কাছে করা অঙ্গীকারের সঙ্গেই সাংঘর্ষিক নয়, বরং এটি বিএনপির নিজেদের ঘোষিত সংস্কার কর্মসূচির সঙ্গেও চরম অসংগতিপূর্ণ এবং এক ধরনের আত্মপ্রতারণা।

 

‘প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবায়নের মধ্যে বড় অসঙ্গতি’;

সারোয়ার তুষার বলেন, নির্বাচনের আগে বিএনপি রাষ্ট্র সংস্কারের নানা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। দলটির ৩১ দফা রূপরেখা ও নির্বাচনী ইশতেহারে স্পষ্ট সংস্কার প্রস্তাবের উল্লেখ ছিল এবং তারা জুলাই জাতীয় সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেছিল। কিন্তু ক্ষমতার আসার পর বাস্তবে তাদের অবস্থান ও পদক্ষেপের মধ্যে বড় ধরনের বৈপরীত্য দেখা যাচ্ছে।

 

তিনি আরও উল্লেখ করেন, গণভোটে নির্ধারিত চারটি প্রশ্নের মধ্যেই জুলাই সনদ বাস্তবায়নের স্পষ্ট প্রক্রিয়া রূপায়িত হয়েছে। ফলে গণভোটের স্পষ্ট রায় বাস্তবায়ন করা হলেই জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পথ উন্মুক্ত হয়ে যায়। এ নিয়ে আলাদা কোনো অস্পষ্টতা তৈরির সুযোগ নেই। তাই কেবল জুলাই সনদের দোহাই দিয়ে গণভোটের মূল রায়কে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার চেষ্টা মূলত মূল সংকট থেকে দৃষ্টি সরানোর নামান্তর।

 

ইতিহাস ও পূর্ব ঐকমত্য উপেক্ষার অভিযোগ;

বিএনপির রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির সমালোচনা করে সারোয়ার তুষার বলেন, দলটি দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসকে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন থেকে শুরু করার এক ধরনের প্রবণতা দেখাচ্ছে। অথচ এই নির্বাচনের পেছনে ছিল ফ্যাসিবাদের পতন, গণঅভ্যুত্থান, অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব গ্রহণ এবং বিভিন্ন সংস্কার কমিশন গঠনের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হওয়া একটি দীর্ঘ প্রাতিষ্ঠানিক ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়া।

 

পূর্বের ঐকমত্য ভঙ্গের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়ে বিএনপির কোনো ‘নোট অব ডিসেন্ট’ (ভিন্নমত) ছিল না। তা সত্ত্বেও সরকার ক্ষমতায় এসে সিদ্ধান্তটি বাতিল করেছে। পাশাপাশি পুলিশ সংস্কারসহ যেসব বিষয়ে দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য গড়ে উঠেছিল, সেগুলোতেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। সংস্কার কোনো একক দলীয় এজেন্ডা ছিল না, বরং অভ্যুত্থানের আগেই তা জাতীয় এজেন্ডায় রূপ নিয়েছিল।

 

বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি ও ৩ দফা দাবি;

সরকারকে সতর্ক করে এনসিপি নেতা সারোয়ার তুষার বলেন, বিএনপি সরকার যদি এই সংস্কার বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়, তবে বিরোধী দলগুলোর চলমান আন্দোলন ভবিষ্যতে তীব্র গণআন্দোলনে রূপ নিতে পারে। দেশীয় রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় তিনি দ্রুত গণভোটের রায় কার্যকর করার আহ্বান জানান।

 

সংবাদ সম্মেলন থেকে এনসিপির পক্ষ থেকে প্রধান ৩টি দাবি উত্থাপন করা হয়:

১. অবিলম্বে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে হবে।

২. একদলীয় সংবিধান সংশোধন কমিটি বিলুপ্ত করে অবিলম্বে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠন করতে হবে।

৩. ঘোষিত একদলীয় সংবিধান সংশোধন কমিটিতে এনসিপি কোনোভাবেই অংশ নেবে না।

 

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন এনসিপির সদস্য সচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন, রাজনৈতিক পর্ষদ সদস্য সালেহ উদ্দিন সিফাত, যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন এবং যুগ্ম সদস্য সচিব ফরিদুল হকসহ দলের অন্যান্য শীর্ষ নেতারা।