০৪:২৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬
‎সুনামগঞ্জের আলফাত স্কয়ারে সাংবাদিক সমাবেশ:

সাংবাদিকদের নির্যাতন, অবমূল্যায়ন ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সাংবাদিক নেতা আল-হেলালের তীব্র প্রতিবাদ ও হুশিয়ারি

নিজস্ব সংবাদদাতাঃ
  • আপডেট সময়ঃ ০৯:৩৬:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬
  • / ৩৩ বার পড়া হয়েছে।

‎নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরকে গুলি করে হত্যা এবং সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এম এ মোতালিব ভূঁইয়ার ওপর নির্মম হামলার প্রতিবাদে সুনামগঞ্জ ট্রাফিক পয়েন্টে এক প্রতিবাদ সভা ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা, সুনামগঞ্জ জেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে বক্তারা তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

 

‎শহরের কেন্দ্রস্থল আলফাত স্কয়ারে আয়োজিত এই প্রতিবাদ সমাবেশে মূল বক্তব্য ও সভাপতিত্ব করেন জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা সুনামগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি ও সাংবাদিক আল-হেলাল।

‎

‎

‎সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে সাংবাদিক আল-হেলাল বলেন, সুনামগঞ্জে আজ বৈষম্যের বিরুদ্ধে সাধারণ সাংবাদিকরা সোচ্চার হয়েছেন। যে বৈষম্যের বিরুদ্ধে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ এবং গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছিল, সেই একই বৈষম্য স্থানীয় প্রশাসনের অসাধু সহযোগিতায় সুনামগঞ্জে তৈরি করা হয়েছে। এখানে লুটেরা ও সুবিধাবাদী শ্রেণি সৃষ্টি করা হয়েছে।

‎

‎তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, অপরাধী যত বড় সাংবাদিকই হোক না কেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে; অন্যথায় সুনামগঞ্জসহ সারা দেশে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

 

‎সংবাদকর্মীদের দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সাংবাদিকরা যেন কেবল তাদের নিজ নিজ গণমাধ্যম—প্রিন্ট, অনলাইন বা টিভিতে সংবাদ প্রকাশ করেন। কিন্তু কোনো পেশাদার সাংবাদিকতার তোয়াক্কা না করে ফেসবুকে মনগড়া লেখালেখি ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত চরিত্রহনন করা সাইবার অপরাধের শামিল। 

‎সুনামগঞ্জে কতিপয় স্বার্থান্বেষী ও ‘টোকাই সাংবাদিক’ নামে পরিচিত ব্যক্তি নিজ প্রতিষ্ঠানের তোয়াক্কা না করে ফেসবুকে অপপ্রচার চালিয়ে সম্মানহানি করছে।

‎

‎

‎এমনকি এই ফেসবুক কেন্দ্রিক আক্রমণের শিকার হয়েছেন সুনামগঞ্জের বর্তমান জেলা প্রশাসক জনাব মিনহাজুর রহমান এবং স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন। উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, অতি সম্প্রতি ‘আমার দেশ’ পত্রিকায় জেলার তিনজন সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে পুলিশের গোয়েন্দা সংস্থার উদ্ধৃতি দিয়ে খবর প্রকাশ করা হয়েছে। পুলিশ প্রশাসনের কাছে প্রশ্ন তুলে তিনি জানতে চান, জেলা প্রশাসনের গোপনীয় গোয়েন্দা তথ্য কীভাবে সাংবাদিকদের হাতে পৌঁছাল এবং কে তা ফাঁস করল?

‎

‎তিনি আরও জানান, নির্বাচিত ৩ জন এমপির বিরুদ্ধে ক্রমাগত মিথ্যা ও ভিত্তিহীন প্রচারণা চালানো হচ্ছে। তিনি বলেন, কোনো সাংবাদিকই আইনের ঊর্ধ্বে নন। অতীতেও দোয়ারাবাজারে সাংবাদিকের ওপর হামলা এবং বিভিন্ন অনিয়মে জড়িত কতিপয় অপসাংবাদিকের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

‎

‎সভায় আরো বলেন, দোয়ারাবাজারে মাদকের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করার কারণে সাংবাদিক এম এ মোতালিব ভূঁইয়ার ওপর পশুবৎ নির্যাতন চালানো হয়েছে এবং তাকে নির্মমভাবে জখম করা হয়েছে। সত্যের সৈনিক কলম যোদ্ধারা আজ নিজ ঘরেও নিরাপদ নয় বলে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়।

 

‎বক্তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, আগামী দিনে সাংবাদিক সমাজ আরও কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলবে। অবিলম্বে সাংবাদিক আলিফ ফকিরের হত্যাকারীদের এবং মোতালিব ভূঁইয়ার ওপর হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।

‎

‎সংগঠনের নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সততা ও বস্তুনিষ্ঠতার নীতিতেই তারা অবিচল থাকবেন এবং পেশাদার সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষায় জেলা ও জাতীয় পর্যায়ে আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে। মানববন্ধনে জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দসহ স্থানীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমের কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

‎

 

 

 

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

‎সুনামগঞ্জের আলফাত স্কয়ারে সাংবাদিক সমাবেশ:

সাংবাদিকদের নির্যাতন, অবমূল্যায়ন ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সাংবাদিক নেতা আল-হেলালের তীব্র প্রতিবাদ ও হুশিয়ারি

আপডেট সময়ঃ ০৯:৩৬:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬

‎নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরকে গুলি করে হত্যা এবং সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এম এ মোতালিব ভূঁইয়ার ওপর নির্মম হামলার প্রতিবাদে সুনামগঞ্জ ট্রাফিক পয়েন্টে এক প্রতিবাদ সভা ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা, সুনামগঞ্জ জেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে বক্তারা তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

 

‎শহরের কেন্দ্রস্থল আলফাত স্কয়ারে আয়োজিত এই প্রতিবাদ সমাবেশে মূল বক্তব্য ও সভাপতিত্ব করেন জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা সুনামগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি ও সাংবাদিক আল-হেলাল।

‎

‎

‎সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে সাংবাদিক আল-হেলাল বলেন, সুনামগঞ্জে আজ বৈষম্যের বিরুদ্ধে সাধারণ সাংবাদিকরা সোচ্চার হয়েছেন। যে বৈষম্যের বিরুদ্ধে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ এবং গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছিল, সেই একই বৈষম্য স্থানীয় প্রশাসনের অসাধু সহযোগিতায় সুনামগঞ্জে তৈরি করা হয়েছে। এখানে লুটেরা ও সুবিধাবাদী শ্রেণি সৃষ্টি করা হয়েছে।

‎

‎তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, অপরাধী যত বড় সাংবাদিকই হোক না কেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে; অন্যথায় সুনামগঞ্জসহ সারা দেশে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

 

‎সংবাদকর্মীদের দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সাংবাদিকরা যেন কেবল তাদের নিজ নিজ গণমাধ্যম—প্রিন্ট, অনলাইন বা টিভিতে সংবাদ প্রকাশ করেন। কিন্তু কোনো পেশাদার সাংবাদিকতার তোয়াক্কা না করে ফেসবুকে মনগড়া লেখালেখি ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত চরিত্রহনন করা সাইবার অপরাধের শামিল। 

‎সুনামগঞ্জে কতিপয় স্বার্থান্বেষী ও ‘টোকাই সাংবাদিক’ নামে পরিচিত ব্যক্তি নিজ প্রতিষ্ঠানের তোয়াক্কা না করে ফেসবুকে অপপ্রচার চালিয়ে সম্মানহানি করছে।

‎

‎

‎এমনকি এই ফেসবুক কেন্দ্রিক আক্রমণের শিকার হয়েছেন সুনামগঞ্জের বর্তমান জেলা প্রশাসক জনাব মিনহাজুর রহমান এবং স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন। উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, অতি সম্প্রতি ‘আমার দেশ’ পত্রিকায় জেলার তিনজন সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে পুলিশের গোয়েন্দা সংস্থার উদ্ধৃতি দিয়ে খবর প্রকাশ করা হয়েছে। পুলিশ প্রশাসনের কাছে প্রশ্ন তুলে তিনি জানতে চান, জেলা প্রশাসনের গোপনীয় গোয়েন্দা তথ্য কীভাবে সাংবাদিকদের হাতে পৌঁছাল এবং কে তা ফাঁস করল?

‎

‎তিনি আরও জানান, নির্বাচিত ৩ জন এমপির বিরুদ্ধে ক্রমাগত মিথ্যা ও ভিত্তিহীন প্রচারণা চালানো হচ্ছে। তিনি বলেন, কোনো সাংবাদিকই আইনের ঊর্ধ্বে নন। অতীতেও দোয়ারাবাজারে সাংবাদিকের ওপর হামলা এবং বিভিন্ন অনিয়মে জড়িত কতিপয় অপসাংবাদিকের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

‎

‎সভায় আরো বলেন, দোয়ারাবাজারে মাদকের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করার কারণে সাংবাদিক এম এ মোতালিব ভূঁইয়ার ওপর পশুবৎ নির্যাতন চালানো হয়েছে এবং তাকে নির্মমভাবে জখম করা হয়েছে। সত্যের সৈনিক কলম যোদ্ধারা আজ নিজ ঘরেও নিরাপদ নয় বলে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়।

 

‎বক্তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, আগামী দিনে সাংবাদিক সমাজ আরও কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলবে। অবিলম্বে সাংবাদিক আলিফ ফকিরের হত্যাকারীদের এবং মোতালিব ভূঁইয়ার ওপর হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।

‎

‎সংগঠনের নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সততা ও বস্তুনিষ্ঠতার নীতিতেই তারা অবিচল থাকবেন এবং পেশাদার সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষায় জেলা ও জাতীয় পর্যায়ে আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে। মানববন্ধনে জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দসহ স্থানীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমের কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

‎