০৪:২৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

‘সিলেট থাকলে চাঁদা দিতে হবে’—গভীর রাতে প্রকৌশলীর বাসায় হামলা, অভিযুক্ত বিএনপি নেতা

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময়ঃ ০৪:০৭:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
  • / ৩৪ বার পড়া হয়েছে।

 

 

হকবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট;

সুনামগঞ্জ ।। ১৬ অক্টোবর ২০২৬

 

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর (ইইডি) সিলেটের সহকারী প্রকৌশলী মো. শাহীন হোসেনের বাসায় গভীর রাতে ঢুকে তাকে মারধর, ভাঙচুর ও চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে মহানগর বিএনপির এক নেতার বিরুদ্ধে। চাঁদা না দিলে সিলেটে থাকতে দেওয়া হবে না বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে ভুক্তভোগী অভিযোগ করেছেন।

অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর আলম সিলেট মহানগর বিএনপির ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের যুগ্ম সম্পাদক এবং একই দপ্তরের তালিকাভুক্ত ঠিকাদার।

 

ঘটনার বিবরণ দিয়ে ভুক্তভোগী সহকারী প্রকৌশলী মো. শাহীন হোসেন জানান, গত ১২ অক্টোবর রাত আনুমানিক তিনটার দিকে সিলেট নগরীর মোঘলটুলা আবাসিক এলাকার একটি বাসায় এ ঘটনা ঘটে। শাহীন হোসেন সিলেটে যোগদানের মাত্র দেড় মাস অতিক্রম করেছেন।

 

তিনি অভিযোগে উল্লেখ করেন, ঘটনার রাতে কয়েকজন ব্যক্তি তার বাসার দরজায় সজোরে ধাক্কাধাক্কি শুরু করেন। পরিচয় জানতে চাইলে একজন নিজেকে ইইডির ঠিকাদার জাহাঙ্গীর বলে দাবি করেন। দরজা খুলে দেওয়ার পরপরই জাহাঙ্গীর ও তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা ঘরে ঢুকে শাহীন হোসেনের ওপর চড়াও হন এবং তাকে ধাক্কাধাক্কি ও মারধর করেন। এসময় হামলাকারীরা ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর ও তছনছ করে।

 

জিডি ও অভিযোগসূত্রে জানা যায়, হামলাকারীরা প্রকৌশলী শাহীন হোসেনকে টেনেহিঁচড়ে বাসা থেকে বের করে নেওয়ার চেষ্টা চালান এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন। সিলেটে চাকরি ও বসবাস করতে হলে মোটা অঙ্কের টাকা (চাঁদা) দিতে হবে, অন্যথায় বড় ধরনের ক্ষতি করা হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়।

ঘটনার পর ভুক্তভোগী কর্মকর্তা সিলেটের জেলা প্রশাসকের সঙ্গে দেখা করেন। পরবর্তীতে জেলা প্রশাসকের পরামর্শে তিনি সিলেট কতোয়ালি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

 

অভিযুক্তের বক্তব্য;

তবে গভীর রাতে প্রকৌশলীর বাসায় যাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করলেও মারধর ও চাঁদা দাবির অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন ঠিকাদার জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বলেন, “গভীর রাতে গাড়ি থেকে নেমে প্রকৌশলী বাসায় যাওয়ায় স্থানীয় অধিবাসীদের মনে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। সেখানে তিনি নতুন হওয়ায় স্থানীয়রা চিনতে পারেননি। খবর পেয়ে আমি, আমার ভাই ইকবাল, বন্ধু সুমন ও এলাকার কয়েকজন মুরব্বিকে সাথে নিয়ে বিষয়টির খোঁজ নিতে যাই।”

 

এটি কেবলই ভুল বোঝাবুঝি ছিল দাবি করে জাহাঙ্গীর আলম আরও বলেন, “এখানে কোনো অনৈতিক বিষয় বা আর্থিক লেনদেনের সম্পর্ক ছিল না। পরদিন অফিসে গিয়ে আলোচনার মাধ্যমে আমরা ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটিয়েছি।”

 

দপ্তর ও পুলিশের প্রতিক্রিয়া;

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শামসুল আরেফিন খান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, তিনি বিষয়টি মৌখিকভাবে শুনেছেন এবং থানায় জিডির বিষয়টিও জানেন। তবে অফিসে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান হয়ে গেছে—ঠিকাদার জাহাঙ্গীরের এমন দাবি তিনি নাকচ করে দেন।

 

এদিকে বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে কোতোয়ালি থানা পুলিশ জানায়, পূর্বে করা জিডিটি বাতিল করা হয়েছে। কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাঈনুল জাকির বলেন, “এ ধরনের গুরুতর অপরাধমূলক অভিযোগ সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দিয়ে নিষ্পত্তি সম্ভব নয়। ভুক্তভোগী প্রকৌশলীকে থানায় উপস্থিত হয়ে নিয়মিত লিখিত মামলা দায়ের করতে বলা হয়েছে।” ওসি আরও জানান, ওই কর্মকর্তা তার দপ্তরের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে লিখিত এজাহার দেবেন বলে নিশ্চিত করেছেন।

 

বিএনপির অবস্থান;

ঘটনাটির নিন্দা জানিয়ে সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, “বিএনপির কোনো নেতাকর্মী এমন অপকর্মে যুক্ত হতে পারেন না। যদি কেউ এমন ঘটনা ঘটিয়ে থাকেন, তবে তিনি অপরাধী। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, তাকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।”

 

প্রয়োজনে অভিযুক্ত নেতার বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন মহানগর বিএনপির এই শীর্ষ নেতা।

ট্যাগসঃ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

‘সিলেট থাকলে চাঁদা দিতে হবে’—গভীর রাতে প্রকৌশলীর বাসায় হামলা, অভিযুক্ত বিএনপি নেতা

আপডেট সময়ঃ ০৪:০৭:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬

 

 

হকবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট;

সুনামগঞ্জ ।। ১৬ অক্টোবর ২০২৬

 

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর (ইইডি) সিলেটের সহকারী প্রকৌশলী মো. শাহীন হোসেনের বাসায় গভীর রাতে ঢুকে তাকে মারধর, ভাঙচুর ও চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে মহানগর বিএনপির এক নেতার বিরুদ্ধে। চাঁদা না দিলে সিলেটে থাকতে দেওয়া হবে না বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে ভুক্তভোগী অভিযোগ করেছেন।

অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর আলম সিলেট মহানগর বিএনপির ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের যুগ্ম সম্পাদক এবং একই দপ্তরের তালিকাভুক্ত ঠিকাদার।

 

ঘটনার বিবরণ দিয়ে ভুক্তভোগী সহকারী প্রকৌশলী মো. শাহীন হোসেন জানান, গত ১২ অক্টোবর রাত আনুমানিক তিনটার দিকে সিলেট নগরীর মোঘলটুলা আবাসিক এলাকার একটি বাসায় এ ঘটনা ঘটে। শাহীন হোসেন সিলেটে যোগদানের মাত্র দেড় মাস অতিক্রম করেছেন।

 

তিনি অভিযোগে উল্লেখ করেন, ঘটনার রাতে কয়েকজন ব্যক্তি তার বাসার দরজায় সজোরে ধাক্কাধাক্কি শুরু করেন। পরিচয় জানতে চাইলে একজন নিজেকে ইইডির ঠিকাদার জাহাঙ্গীর বলে দাবি করেন। দরজা খুলে দেওয়ার পরপরই জাহাঙ্গীর ও তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা ঘরে ঢুকে শাহীন হোসেনের ওপর চড়াও হন এবং তাকে ধাক্কাধাক্কি ও মারধর করেন। এসময় হামলাকারীরা ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর ও তছনছ করে।

 

জিডি ও অভিযোগসূত্রে জানা যায়, হামলাকারীরা প্রকৌশলী শাহীন হোসেনকে টেনেহিঁচড়ে বাসা থেকে বের করে নেওয়ার চেষ্টা চালান এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন। সিলেটে চাকরি ও বসবাস করতে হলে মোটা অঙ্কের টাকা (চাঁদা) দিতে হবে, অন্যথায় বড় ধরনের ক্ষতি করা হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়।

ঘটনার পর ভুক্তভোগী কর্মকর্তা সিলেটের জেলা প্রশাসকের সঙ্গে দেখা করেন। পরবর্তীতে জেলা প্রশাসকের পরামর্শে তিনি সিলেট কতোয়ালি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

 

অভিযুক্তের বক্তব্য;

তবে গভীর রাতে প্রকৌশলীর বাসায় যাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করলেও মারধর ও চাঁদা দাবির অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন ঠিকাদার জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বলেন, “গভীর রাতে গাড়ি থেকে নেমে প্রকৌশলী বাসায় যাওয়ায় স্থানীয় অধিবাসীদের মনে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। সেখানে তিনি নতুন হওয়ায় স্থানীয়রা চিনতে পারেননি। খবর পেয়ে আমি, আমার ভাই ইকবাল, বন্ধু সুমন ও এলাকার কয়েকজন মুরব্বিকে সাথে নিয়ে বিষয়টির খোঁজ নিতে যাই।”

 

এটি কেবলই ভুল বোঝাবুঝি ছিল দাবি করে জাহাঙ্গীর আলম আরও বলেন, “এখানে কোনো অনৈতিক বিষয় বা আর্থিক লেনদেনের সম্পর্ক ছিল না। পরদিন অফিসে গিয়ে আলোচনার মাধ্যমে আমরা ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটিয়েছি।”

 

দপ্তর ও পুলিশের প্রতিক্রিয়া;

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শামসুল আরেফিন খান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, তিনি বিষয়টি মৌখিকভাবে শুনেছেন এবং থানায় জিডির বিষয়টিও জানেন। তবে অফিসে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান হয়ে গেছে—ঠিকাদার জাহাঙ্গীরের এমন দাবি তিনি নাকচ করে দেন।

 

এদিকে বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে কোতোয়ালি থানা পুলিশ জানায়, পূর্বে করা জিডিটি বাতিল করা হয়েছে। কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাঈনুল জাকির বলেন, “এ ধরনের গুরুতর অপরাধমূলক অভিযোগ সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দিয়ে নিষ্পত্তি সম্ভব নয়। ভুক্তভোগী প্রকৌশলীকে থানায় উপস্থিত হয়ে নিয়মিত লিখিত মামলা দায়ের করতে বলা হয়েছে।” ওসি আরও জানান, ওই কর্মকর্তা তার দপ্তরের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে লিখিত এজাহার দেবেন বলে নিশ্চিত করেছেন।

 

বিএনপির অবস্থান;

ঘটনাটির নিন্দা জানিয়ে সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, “বিএনপির কোনো নেতাকর্মী এমন অপকর্মে যুক্ত হতে পারেন না। যদি কেউ এমন ঘটনা ঘটিয়ে থাকেন, তবে তিনি অপরাধী। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, তাকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।”

 

প্রয়োজনে অভিযুক্ত নেতার বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন মহানগর বিএনপির এই শীর্ষ নেতা।