০৬:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬

প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষকদের চলমান আন্দোলন কর্মসূচি প্রত্যাহার

হক বার্তা ডেস্ক রিপোর্টঃ
  • আপডেট সময়ঃ ০৬:৫৫:০৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ নভেম্বর ২০২৫
  • / ৪০ বার পড়া হয়েছে।

‎সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা তাদের চলমান আন্দোলন কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছেন।

‎সোমবার শিক্ষকদের তিন দাবি নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের যৌথসভা অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে জানানো হয়, শিক্ষকদের ১১তম গ্রেডে উন্নীত করার প্রস্তাব ইতিমধ্যে জাতীয় বেতন কমিশন ২০২৫-এর কাছে পাঠানো হয়েছে।

‎কমিশনের সুপারিশ পাওয়ার পর অর্থ বিভাগ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলে জানানো হয়। এরপরই শিক্ষকরা আন্দোলন কর্মসূচি প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন।

‎বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন- অর্থ বিভাগের সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার। উপস্থিত ছিলেন- প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা, অর্থ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং শিক্ষক সংগঠন প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ ও প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সংগঠন ঐক্য পরিষদের ১৭ নেতা। এ সময় অর্থ সচিব জানান, সহকারী শিক্ষকদের বেতনগ্রেড ১১তম গ্রেডে উন্নীত করার প্রস্তাব ইতিমধ্যে জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫ এর কাছে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি এখন কমিশনের বিবেচনাধীন রয়েছে। কমিশনের সুপারিশ পাওয়ার পর অর্থ বিভাগ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। অন্যদিকে, ১০ ও ১৬ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড প্রাপ্তির জটিলতা দূর করার বিষয়ে বলা হয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রস্তাব পাঠালে অর্থ বিভাগ তা পর্যালোচনা করবে। আর সহকারী শিক্ষক থেকে প্রধান শিক্ষক পদে শতভাগ পদোন্নতি বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিধি অনুসারে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নেবে।

‎আলোচনায় শিক্ষকরা সুনির্দিষ্টভাবে দাবি পূরণ না হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেননি। তবে আশা প্রকাশ করেছেন, সরকার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দ্রুত দাবিগুলোর বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ নেবে। ১০ম গ্রেডে বেতনসহ তিনদফা দাবিতে আন্দোলন করছেন সরকারি প্রাথমিক সহকারী শিক্ষকরা। তাদের উপর পুলিশি হামলার প্রতিবাদে রোববার থেকে সারা দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মবিরতি শুরু হয়। শিক্ষকরা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান নেন। তারা শিক্ষকদের উপর হামলার প্রতিবাদে স্বরাষ্ট্র এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টার পদত্যাগও দাবি করেছিলেন। গত সোমবার রাতে শিক্ষকদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন অর্থ এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। এরপর ফের সোমবার বৈঠকের সিদ্ধান্ত হয়। এরফলে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চলমান কর্মসূচি প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন। তবে গতকাল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থানকালে শিক্ষক নেতারা কর্মবিরতি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।

‎শিক্ষকদের তিন দাবি হলো- সহকারী শিক্ষকদের ১০ম গ্রেডে বেতন-ভাতা প্রদান, ১০ বছর ও ১৬ বছর চাকরি পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড প্রদান সংক্রান্ত জটিলতা ও সমস্যার স্থায়ী সমাধান এবং সহকারী শিক্ষকদের জন্য শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতির নিশ্চয়তা। এই দাবিতে ১১টি সংগঠন একযোগে আন্দোলন করছে। গত শনিবার শিক্ষকরা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে পদযাত্রা করেন। শাহ্‌বাগ এলাকায় তাদের পদযাত্রা আটকিয়ে দেয় পুলিশ। সেখানে শিক্ষকদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জসহ জলকামান, কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করা হয়। শিক্ষকদের দাবি, এতে শতাধিক শিক্ষক আহত হয়েছেন। এরপর শিক্ষকরা লাগাতার কর্মবিরতির ঘোষণা দেন। রোববার থেকে তারা কর্মবিরতি শুরু করেন।

 

 

সুত্রঃমানবজমিন

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষকদের চলমান আন্দোলন কর্মসূচি প্রত্যাহার

আপডেট সময়ঃ ০৬:৫৫:০৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ নভেম্বর ২০২৫

‎সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা তাদের চলমান আন্দোলন কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছেন।

‎সোমবার শিক্ষকদের তিন দাবি নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের যৌথসভা অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে জানানো হয়, শিক্ষকদের ১১তম গ্রেডে উন্নীত করার প্রস্তাব ইতিমধ্যে জাতীয় বেতন কমিশন ২০২৫-এর কাছে পাঠানো হয়েছে।

‎কমিশনের সুপারিশ পাওয়ার পর অর্থ বিভাগ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলে জানানো হয়। এরপরই শিক্ষকরা আন্দোলন কর্মসূচি প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন।

‎বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন- অর্থ বিভাগের সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার। উপস্থিত ছিলেন- প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা, অর্থ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং শিক্ষক সংগঠন প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ ও প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সংগঠন ঐক্য পরিষদের ১৭ নেতা। এ সময় অর্থ সচিব জানান, সহকারী শিক্ষকদের বেতনগ্রেড ১১তম গ্রেডে উন্নীত করার প্রস্তাব ইতিমধ্যে জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫ এর কাছে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি এখন কমিশনের বিবেচনাধীন রয়েছে। কমিশনের সুপারিশ পাওয়ার পর অর্থ বিভাগ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। অন্যদিকে, ১০ ও ১৬ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড প্রাপ্তির জটিলতা দূর করার বিষয়ে বলা হয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রস্তাব পাঠালে অর্থ বিভাগ তা পর্যালোচনা করবে। আর সহকারী শিক্ষক থেকে প্রধান শিক্ষক পদে শতভাগ পদোন্নতি বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিধি অনুসারে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নেবে।

‎আলোচনায় শিক্ষকরা সুনির্দিষ্টভাবে দাবি পূরণ না হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেননি। তবে আশা প্রকাশ করেছেন, সরকার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দ্রুত দাবিগুলোর বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ নেবে। ১০ম গ্রেডে বেতনসহ তিনদফা দাবিতে আন্দোলন করছেন সরকারি প্রাথমিক সহকারী শিক্ষকরা। তাদের উপর পুলিশি হামলার প্রতিবাদে রোববার থেকে সারা দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মবিরতি শুরু হয়। শিক্ষকরা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান নেন। তারা শিক্ষকদের উপর হামলার প্রতিবাদে স্বরাষ্ট্র এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টার পদত্যাগও দাবি করেছিলেন। গত সোমবার রাতে শিক্ষকদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন অর্থ এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। এরপর ফের সোমবার বৈঠকের সিদ্ধান্ত হয়। এরফলে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চলমান কর্মসূচি প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন। তবে গতকাল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থানকালে শিক্ষক নেতারা কর্মবিরতি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।

‎শিক্ষকদের তিন দাবি হলো- সহকারী শিক্ষকদের ১০ম গ্রেডে বেতন-ভাতা প্রদান, ১০ বছর ও ১৬ বছর চাকরি পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড প্রদান সংক্রান্ত জটিলতা ও সমস্যার স্থায়ী সমাধান এবং সহকারী শিক্ষকদের জন্য শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতির নিশ্চয়তা। এই দাবিতে ১১টি সংগঠন একযোগে আন্দোলন করছে। গত শনিবার শিক্ষকরা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে পদযাত্রা করেন। শাহ্‌বাগ এলাকায় তাদের পদযাত্রা আটকিয়ে দেয় পুলিশ। সেখানে শিক্ষকদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জসহ জলকামান, কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করা হয়। শিক্ষকদের দাবি, এতে শতাধিক শিক্ষক আহত হয়েছেন। এরপর শিক্ষকরা লাগাতার কর্মবিরতির ঘোষণা দেন। রোববার থেকে তারা কর্মবিরতি শুরু করেন।

 

 

সুত্রঃমানবজমিন