০৩:৫৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
নেপথ্যে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলঃ

‎চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে আধিপত্যের লড়াইয়ে প্রাণ গেল যুবকের

হক বার্তা ডেস্ক রিপোর্টঃ
  • আপডেট সময়ঃ ০৭:৩৮:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬
  • / ৬ বার পড়া হয়েছে।

‎চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলায় রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তার এবং বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মধ্যে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। 

বুধবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলার মুরাদপুর ইউনিয়নের গোপ্তাখালী আমতলী এলাকায় ঘটে যাওয়া এই সংঘাতের ঘটনায় সজিব (২৫) নামে এক যুবক নির্মমভাবে নিহত হয়েছেন। 

এই ভয়াবহ সংঘর্ষে আরও অন্তত ৮ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে, যাদের স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতাল ও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

‎নিহত সজিবের পরিচয় নিশ্চিত করে পুলিশ জানিয়েছে, তিনি মিরসরাই উপজেলার মঘাদিয়া ইউনিয়নের খোরমাওয়ালা গ্রামের শাহ আলমের সন্তান। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকালে মুরাদপুর ইউনিয়ন পরিষদের সামনে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে যুবদল নেতা শাহাবুদ্দিন ও আলিমের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে শাহাবুদ্দিনের অনুসারীরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আলিমের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয় এবং হামলাকারীরা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পুরো এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি করে।

 

‎এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের নেপথ্যে দুই পক্ষ থেকে পরস্পরবিরোধী দাবি উঠে এসেছে। আলিমের স্ত্রী তাহমিনা আক্তারের অভিযোগ, তার স্বামী আগামী নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করায় শাহাবুদ্দিনের পক্ষ থেকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা শুরু হয়।

তিনি দাবি করেন, হামলাকারীরা মূলত আলিমকে অপহরণ করার চেষ্টা করেছিল এবং তাকে না পেয়ে ভুলবশত সজিবকে ‘আলিম’ ভেবে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করে। অন্যদিকে, অভিযুক্ত শাহাবুদ্দিন রাজনৈতিক কোন্দলের বিষয়টি অস্বীকার করে ভিন্ন দাবি তুলেছেন। তার মতে, ইউনিয়ন পরিষদের সামনে চাল বিতরণ বা রাজনীতির সাথে এই ঘটনার কোনো সম্পর্ক নেই।

‎মূলত রিকশার ব্যাটারি চুরির টাকার লেনদেন এবং পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করেই আলিমের সাথে তার বিরোধ তৈরি হয়েছিল, যা পরবর্তীতে সংঘাতের রূপ নেয়।

 

‎ঘটনার খবর পেয়ে সীতাকুণ্ড মডেল থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিনুর ইসলাম জানিয়েছেন, মূলত আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে এই সংঘর্ষ ঘটেছে।

তিনি আরও জানান, পুলিশ ইতিমধ্যে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং এর পেছনে জড়িত মূল হোতাদের শনাক্ত করতে পুলিশের একাধিক টিম বর্তমানে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

‎বর্তমানে মুরাদপুর ও এর আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এই ঘটনার পর থেকে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। বিএনপির এই অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং এর ফলে একজন সাধারণ যুবকের প্রাণহানির ঘটনা নিয়ে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দোষী ব্যক্তিদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

নেপথ্যে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলঃ

‎চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে আধিপত্যের লড়াইয়ে প্রাণ গেল যুবকের

আপডেট সময়ঃ ০৭:৩৮:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

‎চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলায় রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তার এবং বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মধ্যে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। 

বুধবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলার মুরাদপুর ইউনিয়নের গোপ্তাখালী আমতলী এলাকায় ঘটে যাওয়া এই সংঘাতের ঘটনায় সজিব (২৫) নামে এক যুবক নির্মমভাবে নিহত হয়েছেন। 

এই ভয়াবহ সংঘর্ষে আরও অন্তত ৮ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে, যাদের স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতাল ও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

‎নিহত সজিবের পরিচয় নিশ্চিত করে পুলিশ জানিয়েছে, তিনি মিরসরাই উপজেলার মঘাদিয়া ইউনিয়নের খোরমাওয়ালা গ্রামের শাহ আলমের সন্তান। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকালে মুরাদপুর ইউনিয়ন পরিষদের সামনে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে যুবদল নেতা শাহাবুদ্দিন ও আলিমের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে শাহাবুদ্দিনের অনুসারীরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আলিমের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয় এবং হামলাকারীরা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পুরো এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি করে।

 

‎এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের নেপথ্যে দুই পক্ষ থেকে পরস্পরবিরোধী দাবি উঠে এসেছে। আলিমের স্ত্রী তাহমিনা আক্তারের অভিযোগ, তার স্বামী আগামী নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করায় শাহাবুদ্দিনের পক্ষ থেকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা শুরু হয়।

তিনি দাবি করেন, হামলাকারীরা মূলত আলিমকে অপহরণ করার চেষ্টা করেছিল এবং তাকে না পেয়ে ভুলবশত সজিবকে ‘আলিম’ ভেবে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করে। অন্যদিকে, অভিযুক্ত শাহাবুদ্দিন রাজনৈতিক কোন্দলের বিষয়টি অস্বীকার করে ভিন্ন দাবি তুলেছেন। তার মতে, ইউনিয়ন পরিষদের সামনে চাল বিতরণ বা রাজনীতির সাথে এই ঘটনার কোনো সম্পর্ক নেই।

‎মূলত রিকশার ব্যাটারি চুরির টাকার লেনদেন এবং পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করেই আলিমের সাথে তার বিরোধ তৈরি হয়েছিল, যা পরবর্তীতে সংঘাতের রূপ নেয়।

 

‎ঘটনার খবর পেয়ে সীতাকুণ্ড মডেল থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিনুর ইসলাম জানিয়েছেন, মূলত আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে এই সংঘর্ষ ঘটেছে।

তিনি আরও জানান, পুলিশ ইতিমধ্যে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং এর পেছনে জড়িত মূল হোতাদের শনাক্ত করতে পুলিশের একাধিক টিম বর্তমানে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

‎বর্তমানে মুরাদপুর ও এর আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এই ঘটনার পর থেকে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। বিএনপির এই অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং এর ফলে একজন সাধারণ যুবকের প্রাণহানির ঘটনা নিয়ে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দোষী ব্যক্তিদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।