কদম ফুলের প্রলোভনে নরপশুদের থাবা:
৫ বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর নদীতে ফেলে হত্যার নৃশংসতা
- আপডেট সময়ঃ ০৮:৫০:৪১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
- / ১৭ বার পড়া হয়েছে।

একটি নিষ্পাপ শিশু, যার হাতে তখনো হয়তো লেগে ছিল বাজার থেকে কিনে আনা চিপসের গন্ধ। কদম ফুল দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে সেই পাঁচ বছরের অবোধ শিশুটিকে ডেকে নিয়েছিল চার নরপশু।
এরপর নদীর পাড়ে নির্জন জঙ্গলে তার ওপর চালানো হয় পাশবিক নির্যাতন। শুধু নির্যাতন করেই ক্ষান্ত হয়নি তারা, নিস্তেজ হয়ে পড়া শিশুটিকে জীবন্ত অবস্থাতেই ছুড়ে ফেলা হয় কংস নদের খরস্রোতা জলে।
ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলায় ঘটে যাওয়া এমন এক শিউরে ওঠার মতো নৃশংস হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ। এই লোমহর্ষক ঘটনায় জড়িত অভিযোগে ইতিমধ্যে তিন যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত রবিবার বিকেল ৫টার দিকে ধোবাউড়া উপজেলার নিজ বাড়ির পাশ থেকে হঠাৎ নিখোঁজ হয় শিশুটি। স্বজনরা চারদিকে হন্যে হয়ে খুঁজেও তার কোনো সন্ধান পাচ্ছিলেন না। নিখোঁজের প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বাড়ি থেকে প্রায় ৫০০ গজ দূরে কংস নদের একটি বাঁকে ভাসমান অবস্থায় একটি শিশুর মরদেহ দেখতে পান স্থানীয় বাসিন্দারা। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে নিজেদের সন্তানের মরদেহ শনাক্ত করেন এবং তা উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসেন।
নৃশংস এই অপরাধের বিষয়টি প্রথম সামনে আসে যখন রাতেই দাফনের প্রস্তুতি হিসেবে শিশুটিকে শেষ গোসল করাতে নেওয়া হয়। সে সময় তার স্পর্শকাতর অঙ্গে গুরুতর ক্ষত ও নির্যাতনের স্পষ্ট চিহ্ন দেখতে পান স্বজনরা।
তাৎক্ষণিকভাবে দাফন প্রক্রিয়া স্থগিত রেখে রাত সাড়ে ১২টার দিকে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে এবং পরদিন সোমবার দুপুরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে বিকেলে মরদেহটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, রবিবার বিকেলে স্থানীয় বাজার থেকে চিপস কিনে বাড়ি ফিরছিল শিশুটি। পথিমধ্যে চার যুবকের সঙ্গে তার দেখা হয়। মাগরিবের আজানের ঠিক আগমুহূর্তে তারা শিশুটিকে কদম ফুল দেওয়ার লোভ দেখিয়ে কংস নদের পাড়ে একটি ঝোপঝাড় ও জঙ্গলঘেরা নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে চারজন মিলে শিশুটির ওপর পাশবিক নির্যাতন চালায়। একপর্যায়ে শিশুটি নিস্তেজ হয়ে পড়লে তারা নিশ্চিত মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিতে তাকে নদীতে ফেলে পালিয়ে যায়। সুরতহাল প্রতিবেদনেও ধর্ষণের পর হত্যার প্রাথমিক আলামত পায় পুলিশ।
লোমহর্ষক এই ঘটনায় সোমবার রাতে শিশুটির বাবা বাদী হয়ে ধোবাউড়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এর আগে সোমবার দুপুরে পুলিশ এলাকায় সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তিন যুবককে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃতরা হলো— ধোবাউড়া উপজেলার বাসিন্দা মারুফ মিয়া (১৯), আরিফ মিয়া (১৯) এবং রাকিব মিয়া (২১)।
ময়মনসিংহের সহকারী পুলিশ সুপার (হালুয়াঘাট সার্কেল) মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, গ্রেফতারকৃত তিনজনের মধ্যে একজন প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে যে চারজন মিলে শিশুটিকে ধর্ষণ করেছিল। তবে বাকি দুজন এখনো মুখ খোলেনি।
এই পৈশাচিক ঘটনার সঙ্গে জড়িত অপর পলাতক অভিযুক্তকে গ্রেফতারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেফতারকৃত তিনজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর আইনি প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
@jrn










