০১:৩৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬
চেয়ারম্যান প্রার্থীর ‘অভিনব’ প্রচারণা ঘিরে তোলপাড়

শরিয়তপুরে নির্বাচনী পোস্টারে বঙ্গবন্ধু, জিয়া ও তারেক রহমান

হক বার্তা ডেস্ক রিপোর্টঃ
  • আপডেট সময়ঃ ০৮:৫০:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬
  • / ১২ বার পড়া হয়েছে।

শরীয়তপুর আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায় এক ব্যতিক্রমী ও নজিরবিহীন প্রচারণার ঘটনা ঘটেছে।

উপজেলার ঘড়িষার ইউনিয়নের এক চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীর নির্বাচনী পোস্টারে দেশের বিবদমান প্রধান দুই রাজনৈতিক মেরুর শীর্ষ নেতাদের ছবি একসঙ্গে স্থান পাওয়ায় স্থানীয় রাজনীতিতে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

 

‎জানা গেছে, ঘড়িষার ইউনিয়নের বাসিন্দা ও উপজেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফাহিম হাসান রনি মাঝি আসন্ন নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দিয়েছেন।

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে তিনি এলাকায় যে শুভেচ্ছা পোস্টার ও লিফলেট বিতরণ করেছেন, সেখানে দেশের তিন প্রধান রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের ছবি ব্যবহার করা হয়েছে।

 

‎পোস্টারটির বাম পাশে স্থান পেয়েছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি, ডান পাশে রয়েছে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ছবি। আর এই দুই নেতার মাঝখানে রাখা হয়েছে তারেক রহমানের ছবি, যাকে পোস্টারে ‘প্রধানমন্ত্রী’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

‎নিজেকে ‘নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ’ প্রার্থী হিসেবে দাবি করলেও পোস্টারে এমন বৈচিত্র্যময় ছবির সমাহার দেখে সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক কর্মীদের মধ্যে বিস্ময় সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্টারটির ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই চলছে আলোচনা-সমালোচনার ঝড়।

স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও বিএনপি- উভয় পক্ষের নেতাকর্মীরাই বিষয়টি নিয়ে বিব্রতবোধ করছেন বলে জানা গেছে।

‎এ বিষয়ে অভিযুক্ত প্রার্থী ফাহিম হাসান রনি মাঝির সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে নিজের অবস্থানের ব্যাখ্যা দেন।

তিনি বলেন: “আমি রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে চাই। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রধান স্থপতি, তাকে অস্বীকার করার কোনো অবকাশ নেই। একইভাবে জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতা যুদ্ধে অনস্বীকার্য অবদান রয়েছে। আমি দুই মহান নেতার অবদানকে শ্রদ্ধা জানাতেই তাদের ছবি ব্যবহার করেছি।”

 

‎তারেক রহমানের ছবির বিষয়ে বিতর্কিত ব্যাখা দিয়ে তিনি আরও দাবি করেন, “তারেক রহমান বর্তমানে রাষ্ট্রের প্রধানমন্ত্রী (প্রার্থীর ব্যক্তিগত দাবি), তাকে অস্বীকার করা মানে বাংলাদেশকে অস্বীকার করা। আমি কোনো বিশেষ রাজনৈতিক ফায়দা নয়, বরং জাতীয় নেতাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন থেকেই এটি করেছি।”

‎রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে এটি একটি ‘রাজনৈতিক স্টান্ট’ হতে পারে। তবে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিপরীত আদর্শের নেতাদের ছবি একই ফ্রেমে ব্যবহার করা এবং পদ-পদবি নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়া নির্বাচনী আচরণবিধির সাথে কতটা সংগতিপূর্ণ, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

 

‎উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্র জানিয়েছে, বিষয়টি তাদের নজরে আসেনি। তবে নির্বাচনী প্রচারণা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলে এবং এ নিয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

‎তথ্যসহায়তাঃঢাকাপোস্ট

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

চেয়ারম্যান প্রার্থীর ‘অভিনব’ প্রচারণা ঘিরে তোলপাড়

শরিয়তপুরে নির্বাচনী পোস্টারে বঙ্গবন্ধু, জিয়া ও তারেক রহমান

আপডেট সময়ঃ ০৮:৫০:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬

শরীয়তপুর আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায় এক ব্যতিক্রমী ও নজিরবিহীন প্রচারণার ঘটনা ঘটেছে।

উপজেলার ঘড়িষার ইউনিয়নের এক চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীর নির্বাচনী পোস্টারে দেশের বিবদমান প্রধান দুই রাজনৈতিক মেরুর শীর্ষ নেতাদের ছবি একসঙ্গে স্থান পাওয়ায় স্থানীয় রাজনীতিতে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

 

‎জানা গেছে, ঘড়িষার ইউনিয়নের বাসিন্দা ও উপজেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফাহিম হাসান রনি মাঝি আসন্ন নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দিয়েছেন।

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে তিনি এলাকায় যে শুভেচ্ছা পোস্টার ও লিফলেট বিতরণ করেছেন, সেখানে দেশের তিন প্রধান রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের ছবি ব্যবহার করা হয়েছে।

 

‎পোস্টারটির বাম পাশে স্থান পেয়েছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি, ডান পাশে রয়েছে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ছবি। আর এই দুই নেতার মাঝখানে রাখা হয়েছে তারেক রহমানের ছবি, যাকে পোস্টারে ‘প্রধানমন্ত্রী’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

‎নিজেকে ‘নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ’ প্রার্থী হিসেবে দাবি করলেও পোস্টারে এমন বৈচিত্র্যময় ছবির সমাহার দেখে সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক কর্মীদের মধ্যে বিস্ময় সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্টারটির ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই চলছে আলোচনা-সমালোচনার ঝড়।

স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও বিএনপি- উভয় পক্ষের নেতাকর্মীরাই বিষয়টি নিয়ে বিব্রতবোধ করছেন বলে জানা গেছে।

‎এ বিষয়ে অভিযুক্ত প্রার্থী ফাহিম হাসান রনি মাঝির সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে নিজের অবস্থানের ব্যাখ্যা দেন।

তিনি বলেন: “আমি রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে চাই। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রধান স্থপতি, তাকে অস্বীকার করার কোনো অবকাশ নেই। একইভাবে জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতা যুদ্ধে অনস্বীকার্য অবদান রয়েছে। আমি দুই মহান নেতার অবদানকে শ্রদ্ধা জানাতেই তাদের ছবি ব্যবহার করেছি।”

 

‎তারেক রহমানের ছবির বিষয়ে বিতর্কিত ব্যাখা দিয়ে তিনি আরও দাবি করেন, “তারেক রহমান বর্তমানে রাষ্ট্রের প্রধানমন্ত্রী (প্রার্থীর ব্যক্তিগত দাবি), তাকে অস্বীকার করা মানে বাংলাদেশকে অস্বীকার করা। আমি কোনো বিশেষ রাজনৈতিক ফায়দা নয়, বরং জাতীয় নেতাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন থেকেই এটি করেছি।”

‎রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে এটি একটি ‘রাজনৈতিক স্টান্ট’ হতে পারে। তবে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিপরীত আদর্শের নেতাদের ছবি একই ফ্রেমে ব্যবহার করা এবং পদ-পদবি নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়া নির্বাচনী আচরণবিধির সাথে কতটা সংগতিপূর্ণ, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

 

‎উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্র জানিয়েছে, বিষয়টি তাদের নজরে আসেনি। তবে নির্বাচনী প্রচারণা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলে এবং এ নিয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

‎তথ্যসহায়তাঃঢাকাপোস্ট