১১:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬
পাথর কোয়ারী’ হিসেবে নতুন যাত্রা

যাদুকাটা নদীর বালুমহাল এখন অতীত

হক বার্তা ডেস্ক রিপোর্টঃ
  • আপডেট সময়ঃ ০৯:১৯:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬
  • / ২ বার পড়া হয়েছে।

‎সুনামগঞ্জের রূপবতী যাদুকাটা নদীকে ঘিরে দীর্ঘদিনের প্রচলিত বালুমহাল প্রথার অবসান ঘটল। এক ঐতিহাসিক রায়ে মহামান্য হাইকোর্ট যাদুকাটা-১ ও যাদুকাটা-২ বালুমহাল দুটিকে স্থায়ীভাবে বাতিল ঘোষণা করেছেন। 

বুধবার (১১ মার্চ ২০২৬) দেওয়া এই নির্দেশনায় আদালত স্পষ্ট করেছেন যে, এই অঞ্চলটি এখন থেকে আর সাধারণ বালুমহাল হিসেবে গণ্য হবে না; বরং এটি ‘ফাজিলপুর বালি মিশ্রিত পাথর কোয়ারী’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে। 

আদালতের এই সিদ্ধান্তের ফলে যাদুকাটা নদীর সম্পদ ব্যবস্থাপনায় এক বিশাল প্রশাসনিক ও আইনি পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে।

আদালতের এই নতুন আদেশের ফলে যাদুকাটা এলাকার নিয়ন্ত্রণভার ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে সরাসরি জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের হাতে চলে গেল। আগে যাদুকাটা-১ ও যাদুকাটা-২ নামে যে ইজারা প্রক্রিয়া চালু ছিল, তা এখন থেকে পুরোপুরি বিলুপ্ত।

এখন থেকে এই এলাকার বালু ও পাথর উত্তোলনের যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালিত হবে খনিজ সম্পদ বিভাগের কঠোর নজরদারিতে। আদালত নির্দেশ দিয়েছেন যে, আগের গেজেট বাতিল করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এলাকাটিকে খনিজ সম্পদ হিসেবে নতুন গেজেটে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

‎এই পরিবর্তনের মূলে রয়েছে দেশের প্রচলিত খনি সম্পদ (নিয়ন্ত্রণ ও উন্নয়ন) আইন, ১৯৯২ এবং ২০০৪ সালের মন্ত্রিপরিষদের একটি গুরুত্বপূর্ণ গেজেট। আইনগত এই ভিত্তিকে প্রাধান্য দিয়েই হাইকোর্ট যাদুকাটাকে খনিজ সম্পদের আওতাভুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, যাদুকাটা নদী থেকে বালু ও পাথর উত্তোলনে যে বিশৃঙ্খলা ও অনিয়মের অভিযোগ ছিল, এই রায়ের ফলে তা অনেকটাই স্তিমিত হবে। খনিজ সম্পদ আইনের অধীনে আসায় এখন থেকে এই সম্পদ আহরণে পরিবেশগত সুরক্ষা এবং রাষ্ট্রীয় মালিকানা আরও জোরালো হবে।

 

‎বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যাদুকাটা এলাকাকে পাথর কোয়ারী হিসেবে ঘোষণা করা এই অঞ্চলের অর্থনীতি ও পরিবেশের জন্য একটি ইতিবাচক মোড়। বালুমহাল হিসেবে নামমাত্র ইজারা দেওয়ার পরিবর্তে এখন এটি খনিজ সম্পদ হিসেবে নিয়ন্ত্রিত হওয়ায় সরকারের রাজস্ব আয় যেমন বাড়বে, তেমনি উত্তোলনের ক্ষেত্রেও আসবে পেশাদারিত্ব।

যাদুকাটা নদীর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য রক্ষা এবং খনিজ সম্পদের সুষম ব্যবহার নিশ্চিত করতে হাইকোর্টের এই নির্দেশনা একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।

 

 

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

পাথর কোয়ারী’ হিসেবে নতুন যাত্রা

যাদুকাটা নদীর বালুমহাল এখন অতীত

আপডেট সময়ঃ ০৯:১৯:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

‎সুনামগঞ্জের রূপবতী যাদুকাটা নদীকে ঘিরে দীর্ঘদিনের প্রচলিত বালুমহাল প্রথার অবসান ঘটল। এক ঐতিহাসিক রায়ে মহামান্য হাইকোর্ট যাদুকাটা-১ ও যাদুকাটা-২ বালুমহাল দুটিকে স্থায়ীভাবে বাতিল ঘোষণা করেছেন। 

বুধবার (১১ মার্চ ২০২৬) দেওয়া এই নির্দেশনায় আদালত স্পষ্ট করেছেন যে, এই অঞ্চলটি এখন থেকে আর সাধারণ বালুমহাল হিসেবে গণ্য হবে না; বরং এটি ‘ফাজিলপুর বালি মিশ্রিত পাথর কোয়ারী’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে। 

আদালতের এই সিদ্ধান্তের ফলে যাদুকাটা নদীর সম্পদ ব্যবস্থাপনায় এক বিশাল প্রশাসনিক ও আইনি পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে।

আদালতের এই নতুন আদেশের ফলে যাদুকাটা এলাকার নিয়ন্ত্রণভার ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে সরাসরি জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের হাতে চলে গেল। আগে যাদুকাটা-১ ও যাদুকাটা-২ নামে যে ইজারা প্রক্রিয়া চালু ছিল, তা এখন থেকে পুরোপুরি বিলুপ্ত।

এখন থেকে এই এলাকার বালু ও পাথর উত্তোলনের যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালিত হবে খনিজ সম্পদ বিভাগের কঠোর নজরদারিতে। আদালত নির্দেশ দিয়েছেন যে, আগের গেজেট বাতিল করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এলাকাটিকে খনিজ সম্পদ হিসেবে নতুন গেজেটে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

‎এই পরিবর্তনের মূলে রয়েছে দেশের প্রচলিত খনি সম্পদ (নিয়ন্ত্রণ ও উন্নয়ন) আইন, ১৯৯২ এবং ২০০৪ সালের মন্ত্রিপরিষদের একটি গুরুত্বপূর্ণ গেজেট। আইনগত এই ভিত্তিকে প্রাধান্য দিয়েই হাইকোর্ট যাদুকাটাকে খনিজ সম্পদের আওতাভুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, যাদুকাটা নদী থেকে বালু ও পাথর উত্তোলনে যে বিশৃঙ্খলা ও অনিয়মের অভিযোগ ছিল, এই রায়ের ফলে তা অনেকটাই স্তিমিত হবে। খনিজ সম্পদ আইনের অধীনে আসায় এখন থেকে এই সম্পদ আহরণে পরিবেশগত সুরক্ষা এবং রাষ্ট্রীয় মালিকানা আরও জোরালো হবে।

 

‎বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যাদুকাটা এলাকাকে পাথর কোয়ারী হিসেবে ঘোষণা করা এই অঞ্চলের অর্থনীতি ও পরিবেশের জন্য একটি ইতিবাচক মোড়। বালুমহাল হিসেবে নামমাত্র ইজারা দেওয়ার পরিবর্তে এখন এটি খনিজ সম্পদ হিসেবে নিয়ন্ত্রিত হওয়ায় সরকারের রাজস্ব আয় যেমন বাড়বে, তেমনি উত্তোলনের ক্ষেত্রেও আসবে পেশাদারিত্ব।

যাদুকাটা নদীর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য রক্ষা এবং খনিজ সম্পদের সুষম ব্যবহার নিশ্চিত করতে হাইকোর্টের এই নির্দেশনা একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।