প্রশাসনের অনুমোদন ছাড়াই সুনামগঞ্জ শহরে গড়ে তোলা হয়েছে ভিট বালির স্টক
- আপডেট সময়ঃ ০৩:৩৬:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ নভেম্বর ২০২৫
- / ৪০ বার পড়া হয়েছে।
সুনামগঞ্জ পৌর শহরের পুলিশ লাইন্স সংলগ্ন সিলেট সুনামগঞ্জ সড়কের পাশে গড়ে তোলা হয়েছে ভিট বালির কৃত্রিম পাহাড়।
প্রায় মাস খানেকের চেয়ে অধিক সময় ধরে ড্রেজারের সাহায্যে সুরমা নদী থেকে বালি উত্তোলন করে কোনো কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়াই শহরের এই গুরুত্বপূর্ণ স্থানে রাখা হচ্ছে এসব বালি।
জানা গেছে, ভিট বালির এই পাহাড়ের মালিক ড্রেজার জগৎ খ্যাত জগৎ দাস। যার সাথে এক যুবদল নেতা ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কতিপয় কর্মকর্তার যোগসাজশ থাকার অভিযোগ রয়েছে।
পৌর শহরের সিলেট সুনামগঞ্জ সড়ক সম্প্রসারিত করতে দেড় শত কোটি টাকার চারলেন প্রকল্পের কাজ করছে জনজিবি ইঞ্জিনিয়ারিং নামে একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। প্রকল্পের অধীন সড়কের দুই পাশে মাটি ভরাটের কথা থাকলেও এখনো মাটি উত্তোলন বা সরবরাহের জন্য কোনো প্রতিষ্ঠানকে অনুমোদন দেয়া হয়নি বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন। তাহলে চারলেন প্রকল্পে মাটি ভরাটের নামে বালি উত্তোলন ও সড়কে বালির স্তুপ করে রাখার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন মহলে।
অভিযোগ রয়েছে, সুনামগঞ্জের সুরমা নদীতে অবৈধ ড্রেজারের রাজত্ব কায়েম করেছেন জগৎ দাস। সুরমা নদীর জলিলপুর, ব্রাহ্মণগাঁওসহ একাধিক স্থানে ড্রেজার দিয়ে বালি উত্তোলন করে বালির ব্যবসার মাধ্যমে ফুলে ফেঁপে উঠেছেন পৌর শহরের বাসিন্দা জগৎ দাস। অবৈধ এই ড্রেজার ব্যবসার কারণে একাধিক বার গণমাধ্যমের শিরোনাম হয়েছেন জগৎ । জগৎ দাসের ড্রেজার ব্যবসায় এক সময় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীর সম্পৃক্ততা থাকলেও পটপরিবর্তনের কারণে শেল্টারদাতা হিসেবে রয়েছেন এক যুবদল নেতার অদৃশ্য হাত।
সম্প্রতি সদর উপজেলার ব্রাহ্মণগাঁও এলাকায় ড্রেজার বসিয়ে ভিটে বালি উত্তোলন করে বাল্কহেড নৌকার সাহায্যে শহরের মল্লিকপুর সুরমা নদীর পাড়ে আনলোড করে এই ভিট বালি রাখা হচ্ছে সিলেট সুনামগঞ্জ সড়কের পুলিশ লাইন্স সংলগ্ন এলাকায়। যা চারলেন প্রকল্পে সরবরাহ করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
বিশ্বস্ত সূত্র বলছে, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সাথে প্রভাব বিস্তার করে যুবদল নেতা ও কতিপয় কর্মকর্তার অদৃশ্য প্রভাবে সড়কে প্রায় ১৫ লাখ ঘনফুট মাটি সরবরাহ কাজ বাগিয়ে আনতে কোনো ধরনের অনুমতি ছাড়াই প্রকল্প এলাকায় মাটির স্তুপ করছেন জগৎ দাসসহ একটি প্রভাবশালী চক্র। যদিও স্তুপ করা মাটির মালিকানা ও ড্রেজার ব্যবসার বিষয়টি অস্বীকার করে জগৎ দাস বলেন, আগে কিছুদিন ড্রেজার ব্যবসা করেছি। তাই এখন ড্রেজার দেখলেই মানুষে কয় এটা জগতের। আমি এখন এই ব্যবসা করি না। আর এই বালিও আমার না।
এদিকে, প্রকল্পের ইঞ্জিনিয়ার গোলাম আজম সিদ্দিকী বলেন, স্তুপ করা বালি চার লেনের জন্য আনা হয়েছে। এই বালি মাটি জগৎ বাবু ও অলিউর সাহেব এনেছেন। বালি সরবাহের অনুমতি দেয়া হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, হয়তো আছে, এটা আমি জানি না। এ ব্যাপারে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সমর কুমার পাল বলেন, এই প্রকল্পে মাটি সরবাহের জন্য কোনো অনুমতি দেয়া হয়নি। তবে অনুমতির ব্যাপারে আলোচনা হচ্ছে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি।











