০২:২৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬

‘কারও লাল চোখ ও খবরদারি সহ্য করা হবে না’: গাইবান্ধায় ডা. শফিকুর রহমান

হক বার্তা ডেস্ক রিপোর্টঃ
  • আপডেট সময়ঃ ০৫:০৯:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ৬৬ বার পড়া হয়েছে।

‎বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বাংলাদেশ একটি স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র এবং এ দেশের মানুষ কারও অনুকম্পা বা খবরদারিতে বিশ্বাসী নয়। 

তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আমরা কারও ওপর খবরদারি করতে চাই না। আবার আমাদের দেশের ওপর কেউ খবরদারি করুক, সেটাও আমরা বরদাশত করব না। আমরা কারও লাল চোখকে ভয় করি না।”

 

‎শনিবার সকালে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ১০ দলীয় জোট আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। উত্তরাঞ্চলে নির্বাচনী প্রচারণার দ্বিতীয় দিনে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

‎উত্তরাঞ্চলের কৃষি ও পরিবেশের বিপর্যয় তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “পরিকল্পিতভাবে আমাদের উত্তরাঞ্চলের নদীগুলোকে মেরে ফেলা হয়েছে। ফলে এই অঞ্চলের কৃষি আজ হুমকির মুখে।

আমরা আপনাদের কাছে ওয়াদা করছি, জনগণের সমর্থনে যদি আল্লাহ আমাদের সুযোগ দেন, তবে আমরা ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা’ বাস্তবায়ন করব। নদীর জীবন ফিরে আসলে উত্তরাঞ্চলের সাধারণ মানুষের জীবন ও জীবিকাও আবার প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে।”

‎আগামী দিনের রাষ্ট্র পরিচালনার রূপরেখা তুলে ধরে জামায়াত আমীর বলেন, “আমরা এই দেশকে দুর্নীতি ও চাঁদাবাজমুক্ত করতে চাই। চাঁদাবাজদের ভয় পাওয়ার কিছু নেই, তাদের রুখে দেওয়া হবে। আমরা জনগণকে শুধু হাত পেতে সাহায্য বা ‘ভাতা’ নেওয়ার সংস্কৃতিতে আটকে রাখতে চাই না। আমরা আপনাদের হাতে কাজ তুলে দেব। আমরা প্রতিটি নাগরিককে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করে দেশের সম্পদে পরিণত করতে চাই।”

‎দেশের সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকারের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমরা মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে চাই। আমাদের মায়েদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে যাতে তারা সম্মানের সাথে সমাজে বিচরণ করতে পারেন। শত জুলুম ও অত্যাচারের পরও আমরা এই দেশ ছেড়ে কোথাও যাইনি, কারণ আমরা এই মাটিকে ভালোবাসি। এই মাটির মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের লড়াইয়ে আমরা আপনাদের পাশে থাকতে চাই

‎বক্তব্য শেষে ডা. শফিকুর রহমান গাইবান্ধা জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনের জোটগত প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন। এই জেলার ৫টি আসনেই জামায়াত মনোনীত প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রার্থীদের ভোটারদের সামনে হাজির করে তিনি বলেন, “এই প্রার্থীদের আমি আপনাদের কাছে আমানত হিসেবে রেখে গেলাম। আপনারা ভোটের মাধ্যমে এই আমানতকে আমাদের উপহার দেবেন।”

 

‎নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে ১০ দলীয় জোটের ব্যানারে ঢাকার বাইরে বড় ধরনের গণসংযোগ শুরু করেছেন ডা. শফিকুর রহমান। গত শুক্রবার তিনি পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর এবং রংপুরে নির্বাচনী জনসভা সম্পন্ন করেন। শনিবার গাইবান্ধার পর বগুড়া, সিরাজগঞ্জ এবং পাবনায় পৃথক সমাবেশে তার বক্তব্য রাখার কথা রয়েছে।

 

‎পলাশবাড়ীর এই জনসভায় জামায়াতে ইসলামী ও জোটভুক্ত অন্যান্য দলের স্থানীয় শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সকাল থেকেই গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি ও শীত উপেক্ষা করে হাজার হাজার নেতাকর্মী জনসভাস্থলে ভিড় জমান।

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

‘কারও লাল চোখ ও খবরদারি সহ্য করা হবে না’: গাইবান্ধায় ডা. শফিকুর রহমান

আপডেট সময়ঃ ০৫:০৯:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬

‎বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বাংলাদেশ একটি স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র এবং এ দেশের মানুষ কারও অনুকম্পা বা খবরদারিতে বিশ্বাসী নয়। 

তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আমরা কারও ওপর খবরদারি করতে চাই না। আবার আমাদের দেশের ওপর কেউ খবরদারি করুক, সেটাও আমরা বরদাশত করব না। আমরা কারও লাল চোখকে ভয় করি না।”

 

‎শনিবার সকালে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ১০ দলীয় জোট আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। উত্তরাঞ্চলে নির্বাচনী প্রচারণার দ্বিতীয় দিনে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

‎উত্তরাঞ্চলের কৃষি ও পরিবেশের বিপর্যয় তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “পরিকল্পিতভাবে আমাদের উত্তরাঞ্চলের নদীগুলোকে মেরে ফেলা হয়েছে। ফলে এই অঞ্চলের কৃষি আজ হুমকির মুখে।

আমরা আপনাদের কাছে ওয়াদা করছি, জনগণের সমর্থনে যদি আল্লাহ আমাদের সুযোগ দেন, তবে আমরা ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা’ বাস্তবায়ন করব। নদীর জীবন ফিরে আসলে উত্তরাঞ্চলের সাধারণ মানুষের জীবন ও জীবিকাও আবার প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে।”

‎আগামী দিনের রাষ্ট্র পরিচালনার রূপরেখা তুলে ধরে জামায়াত আমীর বলেন, “আমরা এই দেশকে দুর্নীতি ও চাঁদাবাজমুক্ত করতে চাই। চাঁদাবাজদের ভয় পাওয়ার কিছু নেই, তাদের রুখে দেওয়া হবে। আমরা জনগণকে শুধু হাত পেতে সাহায্য বা ‘ভাতা’ নেওয়ার সংস্কৃতিতে আটকে রাখতে চাই না। আমরা আপনাদের হাতে কাজ তুলে দেব। আমরা প্রতিটি নাগরিককে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করে দেশের সম্পদে পরিণত করতে চাই।”

‎দেশের সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকারের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমরা মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে চাই। আমাদের মায়েদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে যাতে তারা সম্মানের সাথে সমাজে বিচরণ করতে পারেন। শত জুলুম ও অত্যাচারের পরও আমরা এই দেশ ছেড়ে কোথাও যাইনি, কারণ আমরা এই মাটিকে ভালোবাসি। এই মাটির মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের লড়াইয়ে আমরা আপনাদের পাশে থাকতে চাই

‎বক্তব্য শেষে ডা. শফিকুর রহমান গাইবান্ধা জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনের জোটগত প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন। এই জেলার ৫টি আসনেই জামায়াত মনোনীত প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রার্থীদের ভোটারদের সামনে হাজির করে তিনি বলেন, “এই প্রার্থীদের আমি আপনাদের কাছে আমানত হিসেবে রেখে গেলাম। আপনারা ভোটের মাধ্যমে এই আমানতকে আমাদের উপহার দেবেন।”

 

‎নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে ১০ দলীয় জোটের ব্যানারে ঢাকার বাইরে বড় ধরনের গণসংযোগ শুরু করেছেন ডা. শফিকুর রহমান। গত শুক্রবার তিনি পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর এবং রংপুরে নির্বাচনী জনসভা সম্পন্ন করেন। শনিবার গাইবান্ধার পর বগুড়া, সিরাজগঞ্জ এবং পাবনায় পৃথক সমাবেশে তার বক্তব্য রাখার কথা রয়েছে।

 

‎পলাশবাড়ীর এই জনসভায় জামায়াতে ইসলামী ও জোটভুক্ত অন্যান্য দলের স্থানীয় শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সকাল থেকেই গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি ও শীত উপেক্ষা করে হাজার হাজার নেতাকর্মী জনসভাস্থলে ভিড় জমান।