০৩:৪৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৩ মে ২০২৬

বিপৎসীমার উপরে নদ-নদী: সিলেট বিভাগের ৪ জেলায় অকাল বন্যার বড় শঙ্কা

হক বার্তা ডেস্ক রিপোর্টঃ
  • আপডেট সময়ঃ ১২:৩৭:৩১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬
  • / ১১ বার পড়া হয়েছে।

সিলেট অঞ্চলে অকাল বন্যার পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে। ভারতের মেঘালয় ও আসামের পাহাড়ি ঢল এবং দেশের অভ্যন্তরে টানা ভারী বর্ষণে সিলেট বিভাগের চার জেলায় নতুন করে বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। 

উজান থেকে নেমে আসা পানি ও স্থানীয় বৃষ্টিপাতে নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়তে থাকায় চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে হাওরপাড়ের মানুষের। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, আগামী তিন দিনের মধ্যে বড় ধরনের প্লাবনের মুখে পড়তে পারে সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলা।

 

​শনিবার (২ মে) পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র এক বিশেষ বুলেটিনে এই আশঙ্কার কথা জানিয়েছে। সংস্থাটি বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের উজান ও অভ্যন্তরীণ হাওর অববাহিকায় মাঝারি থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ৭২ ঘণ্টা এই বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে।

 

‎​নদ-নদীর বর্তমান অবস্থা ও পূর্বাভাসঃ

‎পাউবোর তথ্যমতে, সিলেট ও সুনামগঞ্জের সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি সমতল আগামী তিন দিন ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাবে। বিশেষ করে কুশিয়ারা নদীর পানি তৃতীয় দিনের মাথায় প্রাক-মৌসুমী বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এর ফলে এই দুই জেলার হাওর সংলগ্ন নিচু এলাকাগুলো দ্রুত প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

 

‎​অন্যদিকে মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের অবস্থাও উদ্বেগজনক। মনু, জুড়ি, খোয়াই ও সুতাং নদীর পানি সমতল আগামী তিন দিন বাড়তে থাকবে। এর মধ্যে জুড়ি ও খোয়াই নদীর পানি আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে মৌলভীবাজারের নিম্নাঞ্চল ও হবিগঞ্জের বন্যা পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হতে পারে।

‎বন্যার এই ঝুঁকি কেবল সিলেট বিভাগেই সীমাবদ্ধ নয়। নেত্রকোনার ভোগাই-কংস ও সোমেশ্বরী নদীর পানি স্থিতিশীল থাকলেও সেখানকার নিম্নাঞ্চলে বিদ্যমান বন্যা পরিস্থিতি আরও কিছুদিন স্থায়ী হতে পারে।

এছাড়া নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জের ধনু-বাউলাই নদীর পানি সমতল আগামী তিন দিন বৃদ্ধি পাবে। বিশেষ করে খালিয়াজুড়ি পয়েন্টে বাউলাই নদীর পানি আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বিপৎসীমা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

 

‎​আশঙ্কা ও সতর্কতাঃ

‎হঠাৎ করে নদ-নদীর পানি বাড়তে শুরু করায় আগাম ফসলের ক্ষতির ভয়ে আছেন কৃষকরা। পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, অতিভারী বৃষ্টির এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে স্বল্পমেয়াদী বন্যায় প্লাবিত হতে পারে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিস্তীর্ণ জনপদ। নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

বিপৎসীমার উপরে নদ-নদী: সিলেট বিভাগের ৪ জেলায় অকাল বন্যার বড় শঙ্কা

আপডেট সময়ঃ ১২:৩৭:৩১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬

সিলেট অঞ্চলে অকাল বন্যার পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে। ভারতের মেঘালয় ও আসামের পাহাড়ি ঢল এবং দেশের অভ্যন্তরে টানা ভারী বর্ষণে সিলেট বিভাগের চার জেলায় নতুন করে বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। 

উজান থেকে নেমে আসা পানি ও স্থানীয় বৃষ্টিপাতে নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়তে থাকায় চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে হাওরপাড়ের মানুষের। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, আগামী তিন দিনের মধ্যে বড় ধরনের প্লাবনের মুখে পড়তে পারে সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলা।

 

​শনিবার (২ মে) পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র এক বিশেষ বুলেটিনে এই আশঙ্কার কথা জানিয়েছে। সংস্থাটি বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের উজান ও অভ্যন্তরীণ হাওর অববাহিকায় মাঝারি থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ৭২ ঘণ্টা এই বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে।

 

‎​নদ-নদীর বর্তমান অবস্থা ও পূর্বাভাসঃ

‎পাউবোর তথ্যমতে, সিলেট ও সুনামগঞ্জের সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি সমতল আগামী তিন দিন ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাবে। বিশেষ করে কুশিয়ারা নদীর পানি তৃতীয় দিনের মাথায় প্রাক-মৌসুমী বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এর ফলে এই দুই জেলার হাওর সংলগ্ন নিচু এলাকাগুলো দ্রুত প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

 

‎​অন্যদিকে মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের অবস্থাও উদ্বেগজনক। মনু, জুড়ি, খোয়াই ও সুতাং নদীর পানি সমতল আগামী তিন দিন বাড়তে থাকবে। এর মধ্যে জুড়ি ও খোয়াই নদীর পানি আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে মৌলভীবাজারের নিম্নাঞ্চল ও হবিগঞ্জের বন্যা পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হতে পারে।

‎বন্যার এই ঝুঁকি কেবল সিলেট বিভাগেই সীমাবদ্ধ নয়। নেত্রকোনার ভোগাই-কংস ও সোমেশ্বরী নদীর পানি স্থিতিশীল থাকলেও সেখানকার নিম্নাঞ্চলে বিদ্যমান বন্যা পরিস্থিতি আরও কিছুদিন স্থায়ী হতে পারে।

এছাড়া নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জের ধনু-বাউলাই নদীর পানি সমতল আগামী তিন দিন বৃদ্ধি পাবে। বিশেষ করে খালিয়াজুড়ি পয়েন্টে বাউলাই নদীর পানি আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বিপৎসীমা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

 

‎​আশঙ্কা ও সতর্কতাঃ

‎হঠাৎ করে নদ-নদীর পানি বাড়তে শুরু করায় আগাম ফসলের ক্ষতির ভয়ে আছেন কৃষকরা। পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, অতিভারী বৃষ্টির এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে স্বল্পমেয়াদী বন্যায় প্লাবিত হতে পারে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিস্তীর্ণ জনপদ। নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।