ঢাকা দূতাবাসের কড়া হুঁশিয়ারিঃ
সন্তানের মার্কিন নাগরিকত্ব পেতে ‘বার্থ ট্যুরিজম’ নয়:
- আপডেট সময়ঃ ০৮:৩৫:৩৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
- / ৪ বার পড়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্মদানের মাধ্যমে নাগরিকত্ব পাওয়ার স্বপ্ন যারা দেখছেন, তাদের জন্য এবার দুঃসংবাদ নিয়ে এলো ঢাকার মার্কিন দূতাবাস।
সাধারণ পর্যটন বা ভ্রমণের আড়ালে যারা কেবল সন্তান প্রসবের উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে দেশটি।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) দূতাবাসের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতির চরম লঙ্ঘন।
‘বার্থ ট্যুরিজম’ ও নতুন কড়াকড়িঃ
দীর্ঘদিন ধরেই বিশ্বজুড়ে ‘বার্থ ট্যুরিজম’ বা নাগরিকত্ব পর্যটন নিয়ে বিতর্ক চলছে। বিশেষ করে বিদেশি নাগরিকরা গর্ভবতী অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ করেন যাতে তাদের সন্তান সেখানে ভূমিষ্ঠ হয় এবং জন্মসূত্রে মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাগরিকত্ব লাভ করে।
ঢাকার মার্কিন দূতাবাস তাদের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে এক বিশেষ বার্তায় জানিয়েছে, কেবল সন্তানের নাগরিকত্ব নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান প্রসব করা ভিসার সঠিক ব্যবহার হিসেবে গণ্য হবে না।
দূতাবাস মনে করে, এটি ভিসার উদ্দেশ্যের সাথে প্রতারণা এবং আইনের চোখে এটি সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ।
ভিসা বাতিলের সরাসরি ক্ষমতাঃ
নতুন এই নির্দেশনার ফলে কনস্যুলার কর্মকর্তাদের বিশেষ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এখন থেকে কোনো আবেদনকারী যদি ভিসা ইন্টারভিউয়ের সময় তার ভ্রমণের মূল কারণ হিসেবে চিকিৎসা বা পর্যটনের কথা বলেন, কিন্তু কর্মকর্তার কাছে যদি পর্যাপ্ত প্রমাণ থাকে যে আবেদনকারীর মূল উদ্দেশ্য মূলত ‘বার্থ ট্যুরিজম’, তবে ওই আবেদনটি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করা হবে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই কড়াকড়ির ফলে ভবিষ্যতে যারা চিকিৎসা নিতে যুক্তরাষ্ট্রে যেতে চান, তাদেরও এখন থেকে আরও বেশি নথিপত্র এবং বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণাদি সঙ্গে রাখতে হবে। কারণ, ব্যক্তিগত ভ্রমণের আড়ালে কোনো রকম অস্পষ্টতা থাকলেই তা ভিসা বাতিলের কারণ হতে পারে।
ট্রাম্পের বিতর্কিত মন্তব্য ও কূটনৈতিক উত্তেজনাঃ
যুক্তরাষ্ট্রের এই ভিসা নীতির পেছনে দেশটির রাজনৈতিক অভ্যন্তরীণ চাপের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। সম্প্রতি সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক জনসভায় দাবি করেছিলেন, ভারত ও চীন থেকে প্রচুর মানুষ যুক্তরাষ্ট্রে আসছেন শুধুমাত্র সন্তান জন্ম দিয়ে নাগরিকত্ব পাওয়ার সুবিধাকে কাজে লাগাতে।
ট্রাম্প এই প্রথাকে, মার্কিন অভিবাসন ব্যবস্থার একটি ‘দুর্বলতা’ হিসেবে চিহ্নিত করেন।
তবে ট্রাম্পের এই ঢালাও মন্তব্য আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রনধীর জয়সওয়াল ট্রাম্পের এমন দাবিকে নাকচ করে দিয়ে একে ‘অযৌক্তিক এবং রুচিহীন’ বলে আখ্যায়িত করেছেন।
ভারতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ ধরনের মন্তব্য দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের জন্য ইতিবাচক নয়।
ভ্রমণকারীদের জন্য বার্তাঃ
মার্কিন দূতাবাস স্পষ্ট করেছে যে, তারা বৈধ ভ্রমণ বা চিকিৎসার বিরোধী নয়। তবে যারা সিস্টেমের ফাঁক গলে নাগরিকত্ব পেতে চান, তাদের প্রতি জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হচ্ছে।
এই সতর্কবার্তার পর এখন থেকে আবেদনকারীদের তাদের ভ্রমণের উদ্দেশ্য সম্পর্কে আরও স্বচ্ছ এবং সত্য তথ্য প্রদান করতে হবে। অন্যথায়, একবার ভিসা প্রত্যাখ্যাত হলে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পথ স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।


















