০৩:৫৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
সুরমা নদীর পাড়ে ডিবির হানাঃ

১২ লাখ টাকার ভারতীয় প্রসাধনীসহ চোরাকারবারি গ্রেফতার

নিজস্ব সংবাদদাতাঃ
  • আপডেট সময়ঃ ০৮:২৪:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬
  • / ২২ বার পড়া হয়েছে।

সুরমা নদীর শান্ত পাড়ে তখন ভরদুপুর। কেউ খাচ্ছেন দুপুরের খাবার, কেউবা ব্যস্ত খেয়াঘাটের পারাপারে। কিন্তু এই চেনা ব্যস্ততার আড়ালেই চলছিল ভারত থেকে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনা বিপুল পরিমাণ বিদেশি প্রসাধনী পাচারের গোপন প্রস্তুতি। তবে চোরাকারবারিদের সেই পরিকল্পনা ভেস্তে দিল সুনামগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

‎এক ঝটিকা অভিযানে ১২ লক্ষাধিক টাকার অবৈধ ভারতীয় প্রসাধনী সামগ্রীসহ হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়েছে এক চোরাকারবারিকে।

‎আজ ৯ জুন ২০২৬, মঙ্গলবার দুপুর আনুমানিক ১টা ১০ মিনিটে সুনামগঞ্জ সদর থানার সুরমা ইউনিয়নের ইব্রাহিমপুর আনন্দবাজার গোদারাঘাট সংলগ্ন সুরমা নদীর পাড়ে এই সফল অভিযানটি পরিচালিত হয়।

‎গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবির আকস্মিক অ্যাকশন

‎সুনামগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) বেশ কিছুদিন ধরেই সীমান্ত দিয়ে আসা অবৈধ পণ্যের ওপর নজরদারি রাখছিল। এরই ধারাবাহিকতায় দুপুরের দিকে ডিবির কাছে একটি সুনির্দিষ্ট গোপন তথ্য আসে যে, সুরমা নদীর পাড় দিয়ে একটি বড় চোরাচালানের চালান খালাস করা হচ্ছে।

‎তথ্য পাওয়া মাত্রই ডিবির এসআই (নিঃ) মোঃ মাহমুদুল হাসানের নেতৃত্বে একটি চৌকস দল অভিযানে নামে। এই বিশেষ দলে আরও ছিলেন এএসআই খাদেমুল ইসলাম ও কনস্টেবল মনির হোসেনসহ সঙ্গীয় ফোর্স।

‎ডিবি পুলিশ যখন আনন্দবাজার গোদারাঘাট এলাকায় পৌঁছায়, তখন পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাচালান চক্রের বেশ কয়েকজন সদস্য কৌশলে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। তবে ডিবি সদস্যদের তৎপরতায় ঘটনাস্থলেই অবরুদ্ধ হন মূল হোতাদের একজন। গ্রেফতারকৃত ওই ব্যক্তির নাম মোঃ শিমুল সরকার (৩৫)। তিনি সুনামগঞ্জ সদর থানার সুরমা ইউনিয়নের সৈয়দপুর গ্রামের মোঃ অফিজ উদ্দিন ও মিনারা খাতুনের ছেলে।

‎জব্দ তালিকায় নামী ব্যান্ডের কসমেটিকস: বাজারমূল্য ১২ লাখ টাকা

‎গ্রেফতারের পর শিমুল সরকারের হেফাজত থেকে বস্তাভর্তি বিপুল পরিমাণ ভারতীয় প্রসাধনী সামগ্রী উদ্ধার করে ডিবি পুলিশ। জব্দকৃত মালামালের তালিকায় রয়েছে আন্তর্জাতিক ও ভারতীয় বিভিন্ন নামী ব্র্যান্ডের হেয়ার অয়েল, শ্যাম্পু ও বডি লোশন।

‎উদ্ধারকৃত ২,০৭১ পিস প্রসাধনীর বিস্তারিতঃ

· ‎ইমামি ৭ অয়েলস (Emami 7 Oils): ১০০ এমএল-এর ৪৮০ পিস, ২০০ এমএল-এর ১৮৮ পিস এবং ৩০০ এমএল-এর ২১২ পিস।

· ‎ডাবর আমলা হেয়ার অয়েল (Dabur Amla Hair Oil): ২৭৫ এমএল-এর ১৪০ পিস এবং ৪৫০ এমএল-এর ১২৫ পিস।

· ‎উইন্ড সংস পারফিউম (WIND SONG’S Eagle Apparel Spray Perfume): ১০০ এমএল-এর ২২২ পিস।

· ‎জনসনস বেবি প্রোডাক্ট (Johnson’s Baby): ২০০ এমএল-এর ২৩৪ পিস শ্যাম্পু এবং ১০০ এমএল-এর ২৮২ পিস বেবি লোশন।

‎ডিবি সূত্র জানায়, চোরাচালানের মাধ্যমে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে বাংলাদেশে নিয়ে আসা এই বিশাল চালানের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১২,২৭,৮৫০ (বারো লক্ষ সাতাশ হাজার আটশত পঞ্চাশ) টাকা।

‎আইনি পদক্ষেপ ও মামলার প্রস্তুতিঃ

‎সীমান্তবর্তী জেলা সুনামগঞ্জকে চোরাচালানমুক্ত করতে জেলা পুলিশের এই ধরনের অভিযান নিয়মিত পরিচালিত হচ্ছে বলে ডিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এই চক্রের বাকি সদস্যদের আইনের আওতায় আনতে এরই মধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে।

‎আজকের এই বিপুল পরিমাণ প্রসাধনী জব্দের ঘটনায় গ্রেফতারকৃত আসামি মোঃ শিমুল সরকার এবং ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়া অজ্ঞাতনামা অন্যান্য সহযোগীদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনসহ দেশের প্রচলিত আইনে সুনামগঞ্জ সদর থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

সুরমা নদীর পাড়ে ডিবির হানাঃ

১২ লাখ টাকার ভারতীয় প্রসাধনীসহ চোরাকারবারি গ্রেফতার

আপডেট সময়ঃ ০৮:২৪:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬

সুরমা নদীর শান্ত পাড়ে তখন ভরদুপুর। কেউ খাচ্ছেন দুপুরের খাবার, কেউবা ব্যস্ত খেয়াঘাটের পারাপারে। কিন্তু এই চেনা ব্যস্ততার আড়ালেই চলছিল ভারত থেকে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনা বিপুল পরিমাণ বিদেশি প্রসাধনী পাচারের গোপন প্রস্তুতি। তবে চোরাকারবারিদের সেই পরিকল্পনা ভেস্তে দিল সুনামগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

‎এক ঝটিকা অভিযানে ১২ লক্ষাধিক টাকার অবৈধ ভারতীয় প্রসাধনী সামগ্রীসহ হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়েছে এক চোরাকারবারিকে।

‎আজ ৯ জুন ২০২৬, মঙ্গলবার দুপুর আনুমানিক ১টা ১০ মিনিটে সুনামগঞ্জ সদর থানার সুরমা ইউনিয়নের ইব্রাহিমপুর আনন্দবাজার গোদারাঘাট সংলগ্ন সুরমা নদীর পাড়ে এই সফল অভিযানটি পরিচালিত হয়।

‎গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবির আকস্মিক অ্যাকশন

‎সুনামগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) বেশ কিছুদিন ধরেই সীমান্ত দিয়ে আসা অবৈধ পণ্যের ওপর নজরদারি রাখছিল। এরই ধারাবাহিকতায় দুপুরের দিকে ডিবির কাছে একটি সুনির্দিষ্ট গোপন তথ্য আসে যে, সুরমা নদীর পাড় দিয়ে একটি বড় চোরাচালানের চালান খালাস করা হচ্ছে।

‎তথ্য পাওয়া মাত্রই ডিবির এসআই (নিঃ) মোঃ মাহমুদুল হাসানের নেতৃত্বে একটি চৌকস দল অভিযানে নামে। এই বিশেষ দলে আরও ছিলেন এএসআই খাদেমুল ইসলাম ও কনস্টেবল মনির হোসেনসহ সঙ্গীয় ফোর্স।

‎ডিবি পুলিশ যখন আনন্দবাজার গোদারাঘাট এলাকায় পৌঁছায়, তখন পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাচালান চক্রের বেশ কয়েকজন সদস্য কৌশলে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। তবে ডিবি সদস্যদের তৎপরতায় ঘটনাস্থলেই অবরুদ্ধ হন মূল হোতাদের একজন। গ্রেফতারকৃত ওই ব্যক্তির নাম মোঃ শিমুল সরকার (৩৫)। তিনি সুনামগঞ্জ সদর থানার সুরমা ইউনিয়নের সৈয়দপুর গ্রামের মোঃ অফিজ উদ্দিন ও মিনারা খাতুনের ছেলে।

‎জব্দ তালিকায় নামী ব্যান্ডের কসমেটিকস: বাজারমূল্য ১২ লাখ টাকা

‎গ্রেফতারের পর শিমুল সরকারের হেফাজত থেকে বস্তাভর্তি বিপুল পরিমাণ ভারতীয় প্রসাধনী সামগ্রী উদ্ধার করে ডিবি পুলিশ। জব্দকৃত মালামালের তালিকায় রয়েছে আন্তর্জাতিক ও ভারতীয় বিভিন্ন নামী ব্র্যান্ডের হেয়ার অয়েল, শ্যাম্পু ও বডি লোশন।

‎উদ্ধারকৃত ২,০৭১ পিস প্রসাধনীর বিস্তারিতঃ

· ‎ইমামি ৭ অয়েলস (Emami 7 Oils): ১০০ এমএল-এর ৪৮০ পিস, ২০০ এমএল-এর ১৮৮ পিস এবং ৩০০ এমএল-এর ২১২ পিস।

· ‎ডাবর আমলা হেয়ার অয়েল (Dabur Amla Hair Oil): ২৭৫ এমএল-এর ১৪০ পিস এবং ৪৫০ এমএল-এর ১২৫ পিস।

· ‎উইন্ড সংস পারফিউম (WIND SONG’S Eagle Apparel Spray Perfume): ১০০ এমএল-এর ২২২ পিস।

· ‎জনসনস বেবি প্রোডাক্ট (Johnson’s Baby): ২০০ এমএল-এর ২৩৪ পিস শ্যাম্পু এবং ১০০ এমএল-এর ২৮২ পিস বেবি লোশন।

‎ডিবি সূত্র জানায়, চোরাচালানের মাধ্যমে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে বাংলাদেশে নিয়ে আসা এই বিশাল চালানের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১২,২৭,৮৫০ (বারো লক্ষ সাতাশ হাজার আটশত পঞ্চাশ) টাকা।

‎আইনি পদক্ষেপ ও মামলার প্রস্তুতিঃ

‎সীমান্তবর্তী জেলা সুনামগঞ্জকে চোরাচালানমুক্ত করতে জেলা পুলিশের এই ধরনের অভিযান নিয়মিত পরিচালিত হচ্ছে বলে ডিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এই চক্রের বাকি সদস্যদের আইনের আওতায় আনতে এরই মধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে।

‎আজকের এই বিপুল পরিমাণ প্রসাধনী জব্দের ঘটনায় গ্রেফতারকৃত আসামি মোঃ শিমুল সরকার এবং ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়া অজ্ঞাতনামা অন্যান্য সহযোগীদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনসহ দেশের প্রচলিত আইনে সুনামগঞ্জ সদর থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।