০২:৪৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬
পুলিশের মহাসমাবেশে এডভোকেট শেরেনূর আলী-র বিস্ফোরক বক্তব্য

সুনামগঞ্জে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর-এর ভূমিকায় ক্ষোভঃ

নিজস্ব সংবাদদাতাঃ
  • আপডেট সময়ঃ ০৩:১৫:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬
  • / ১৯ বার পড়া হয়েছে।

গতকাল ২৩ জুলাই সুনামগঞ্জ জেলা পুলিশের আয়োজনে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে এক বিশেষ মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। উপস্থিতি ছিলেন সিলেট বিভাগের ডিআইজি এবং সুনামগঞ্জ সদর-৪ আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট নুরুল ইসলাম নুরুল।

এই ঐতিহাসিক সমাবেশে ডিএনসির বিতর্কিত ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন সুনামগঞ্জ জজকোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ও তদন্ত কমিটির অন্যতম সদস্য এডভোকেট শেরেনূর আলী।

‎মাদক নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসন, পুলিশ বাহিনী এবং স্থানীয় সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনগুলোর জোরালো ভূমিকার মাঝেও জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) ভূমিকা নিয়ে মারাত্মক ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।

শহরের কেন্দ্রস্থল পশ্চিমবাজার এলাকায় লাইসেন্সপ্রাপ্ত একটি মদের দোকানে খোলাবাজারে ও পারমিট ছাড়া বেপরোয়াভাবে মদ বিক্রি এবং প্রকাশ্যে মাতলামির অভিযোগ ওঠে। এর প্রতিবাদে মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বেষ্টিত এলাকাটি থেকে দোকানটি স্থানান্তরের দাবি জানায় স্থানীয়রা।

‎আইনশৃঙ্খলা কমিটির সিদ্ধান্তে গঠিত পাঁচ সদস্যের যৌথ তদন্ত কমিটিতে এডভোকেট শেরেনূর আলী ছাড়াও ছিলেন পুলিশের প্রতিনিধি, আনসার সদস্য, ট্রাউন হল মসজিদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং ডিএনসি-র সুনামগঞ্জ উপ-পরিচালক।

তবে এডভোকেট শেরেনূর আলী অভিযোগ করেন, প্রথম বৈঠক থেকেই ডিএনসি উপ-পরিচালক কোনো অনিয়ম বা অভিযোগ মানতে চাননি। কোনো সহযোগিতা না করায় বাধ্য হয়ে কমিটির বাকি সদস্যরা আলাদাভাবে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

‎‎তদন্তে দেখা যায়, লাইসেন্স বা পারমিট যাচাই ছাড়াই ইচ্ছেমতো মদ বিক্রি করা হচ্ছে। এমনকি কতজনের পারমিট আছে বা কী পরিমাণ মদ আসছে, সে তথ্যও দিতে রাজি হয়নি কর্তৃপক্ষ।

‎সবচেয়ে বিস্ময়কর ঘটনা ঘটে ডিএনসি উপ-পরিচালকের দেওয়া পরিদর্শন প্রতিবেদনে। সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি থাকা সত্ত্বেও তিনি প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, “চলতি বছরে মদের দোকানে বিক্রি কমেছে, তাই রাজস্ব বাড়াতে পারমিটধারীর সংখ্যা ও অনুমোদিত মদের পরিমাণ বাড়ানো প্রয়োজন।” ডিএনসি-র এহেন প্রস্তাবে প্রশ্ন উঠেছে—সরকারের মূল কাজ মাদক নির্মূল করা, নাকি মদ বিক্রি বাড়িয়ে রাজস্ব বাড়ানো?

‎এছাড়া, পুলিশি অভিযানে অবৈধ মদ জব্দের পর ডিএনসি কর্মকর্তারা স্টক রেজিস্ট্রার হালনাগাদ (আপডেট) করে দিয়ে অপরাধীদের আইনি সুরক্ষা দিচ্ছেন বলেও গুরুতর অভিযোগ আনেন এডভোকেট শেরেনূর আলী। ফলে পুলিশ মামলা করলেও আইনি জটিলতায় অপরাধীরা পার পেয়ে যাচ্ছে।

‎যুবসমাজ ও শিক্ষার্থীদের গড়ে তোলা মাদকবিরোধী আন্দোলন রক্ষায় অবিলম্বে ওই ডিএনসি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা নিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন এডভোকেট শেরেনূর আলী।

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

পুলিশের মহাসমাবেশে এডভোকেট শেরেনূর আলী-র বিস্ফোরক বক্তব্য

সুনামগঞ্জে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর-এর ভূমিকায় ক্ষোভঃ

আপডেট সময়ঃ ০৩:১৫:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬

গতকাল ২৩ জুলাই সুনামগঞ্জ জেলা পুলিশের আয়োজনে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে এক বিশেষ মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। উপস্থিতি ছিলেন সিলেট বিভাগের ডিআইজি এবং সুনামগঞ্জ সদর-৪ আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট নুরুল ইসলাম নুরুল।

এই ঐতিহাসিক সমাবেশে ডিএনসির বিতর্কিত ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন সুনামগঞ্জ জজকোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ও তদন্ত কমিটির অন্যতম সদস্য এডভোকেট শেরেনূর আলী।

‎মাদক নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসন, পুলিশ বাহিনী এবং স্থানীয় সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনগুলোর জোরালো ভূমিকার মাঝেও জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) ভূমিকা নিয়ে মারাত্মক ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।

শহরের কেন্দ্রস্থল পশ্চিমবাজার এলাকায় লাইসেন্সপ্রাপ্ত একটি মদের দোকানে খোলাবাজারে ও পারমিট ছাড়া বেপরোয়াভাবে মদ বিক্রি এবং প্রকাশ্যে মাতলামির অভিযোগ ওঠে। এর প্রতিবাদে মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বেষ্টিত এলাকাটি থেকে দোকানটি স্থানান্তরের দাবি জানায় স্থানীয়রা।

‎আইনশৃঙ্খলা কমিটির সিদ্ধান্তে গঠিত পাঁচ সদস্যের যৌথ তদন্ত কমিটিতে এডভোকেট শেরেনূর আলী ছাড়াও ছিলেন পুলিশের প্রতিনিধি, আনসার সদস্য, ট্রাউন হল মসজিদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং ডিএনসি-র সুনামগঞ্জ উপ-পরিচালক।

তবে এডভোকেট শেরেনূর আলী অভিযোগ করেন, প্রথম বৈঠক থেকেই ডিএনসি উপ-পরিচালক কোনো অনিয়ম বা অভিযোগ মানতে চাননি। কোনো সহযোগিতা না করায় বাধ্য হয়ে কমিটির বাকি সদস্যরা আলাদাভাবে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

‎‎তদন্তে দেখা যায়, লাইসেন্স বা পারমিট যাচাই ছাড়াই ইচ্ছেমতো মদ বিক্রি করা হচ্ছে। এমনকি কতজনের পারমিট আছে বা কী পরিমাণ মদ আসছে, সে তথ্যও দিতে রাজি হয়নি কর্তৃপক্ষ।

‎সবচেয়ে বিস্ময়কর ঘটনা ঘটে ডিএনসি উপ-পরিচালকের দেওয়া পরিদর্শন প্রতিবেদনে। সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি থাকা সত্ত্বেও তিনি প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, “চলতি বছরে মদের দোকানে বিক্রি কমেছে, তাই রাজস্ব বাড়াতে পারমিটধারীর সংখ্যা ও অনুমোদিত মদের পরিমাণ বাড়ানো প্রয়োজন।” ডিএনসি-র এহেন প্রস্তাবে প্রশ্ন উঠেছে—সরকারের মূল কাজ মাদক নির্মূল করা, নাকি মদ বিক্রি বাড়িয়ে রাজস্ব বাড়ানো?

‎এছাড়া, পুলিশি অভিযানে অবৈধ মদ জব্দের পর ডিএনসি কর্মকর্তারা স্টক রেজিস্ট্রার হালনাগাদ (আপডেট) করে দিয়ে অপরাধীদের আইনি সুরক্ষা দিচ্ছেন বলেও গুরুতর অভিযোগ আনেন এডভোকেট শেরেনূর আলী। ফলে পুলিশ মামলা করলেও আইনি জটিলতায় অপরাধীরা পার পেয়ে যাচ্ছে।

‎যুবসমাজ ও শিক্ষার্থীদের গড়ে তোলা মাদকবিরোধী আন্দোলন রক্ষায় অবিলম্বে ওই ডিএনসি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা নিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন এডভোকেট শেরেনূর আলী।