শেখ হাসিনা ফিরলে স্বাগত জানাতে অপেক্ষায় জুলাই যোদ্ধারা: দুলু
- আপডেট সময়ঃ ০২:৪৬:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ৯ বার পড়া হয়েছে।
হকবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট
সুনামগঞ্জ ।। ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও জাতীয় সংসদের হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেছেন, শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ফিরলে জুলাই আন্দোলনে আহত, নির্যাতিত ও নিপীড়িতরা তাকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত রয়েছেন। তার দাবি, পঙ্গুত্ববরণকারী ও চক্ষু হারানো জুলাই যোদ্ধারাও শেখ হাসিনার দেশে ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দলের উদ্যোগে আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির সভাপতি হুমায়ুন কবির বেপারী।
শেখ হাসিনার দেশে ফেরার প্রসঙ্গ তুলে দুলু বলেন, সম্প্রতি শেখ হাসিনার একটি বক্তব্যে তিনি শুনেছেন, আগামী ডিসেম্বরে তিনি বাংলাদেশে আসবেন। তার মতে, দেশে ফেরার কথা বলে শেখ হাসিনা মূলত দেশবাসীকে ভয় দেখাতে চাইছেন। তবে দেশের মানুষ এখন আর ভয় পায় না।
দুলু বলেন, ‘আসার কথা বলে তিনি মূলত দেশবাসীকে ভয় দেখাতে চান। তার বোঝা উচিত, দেশের মানুষ ভয় পায় না। বরং তাকে স্বাগত জানানোর জন্য এ দেশের পঙ্গু ও চক্ষু হারানো জুলাই যোদ্ধারা অপেক্ষা করছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘তিনি সোনা মসজিদ বর্ডার দিয়ে আসুন, এয়ারপোর্ট দিয়ে আসুন অথবা বেনাপোল দিয়ে আসুন—তাকে স্বাগত জানানোর জন্য নির্যাতিত-নিপীড়িতরা প্রস্তুত থাকবে।’
দীর্ঘ শাসনে বিভিন্ন খাত ক্ষতিগ্রস্ত: দুলু;
বিএনপির এই নেতা দাবি করেন, দীর্ঘদিনের শাসনামলে দেশের রাজনীতি, অর্থনীতি ও বিভিন্ন খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে অসংখ্য মানুষ হত্যাকাণ্ড ও গুমের শিকার হয়েছেন এবং অনেকে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
তার বক্তব্যে দেশের গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের বিষয়টিও উঠে আসে। দুলু বলেন, বর্তমান সরকার এসব সমস্যা সমাধানে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। তবে বিদ্যমান সংকট একদিনে তৈরি হয়নি।
তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৮ বছরের শাসনামলে ধীরে ধীরে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সংকট তৈরি হয়েছে। ফলে তিন কিংবা ছয় মাসের মধ্যে এসব সমস্যার পুরোপুরি সমাধান সম্ভব নয়। এ জন্য সরকারকে সময় দিতে হবে।
আন্দোলন নয়, সংকট সমাধানে প্রয়োজন সুপরামর্শ;
বিরোধী দলগুলোর উদ্দেশে দুলু বলেন, আন্দোলন-সংগ্রাম করে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। এসব সমস্যা সমাধানে প্রয়োজন দায়িত্বশীল আচরণ ও গঠনমূলক পরামর্শ।
তিনি বলেন, সরকারকে সহযোগিতা করার পাশাপাশি বিরোধী দলগুলোর কাছ থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা ও সুপরামর্শ প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
‘বিএনপি না থাকলে দুলু হয়ে উঠতে পারতাম না’;
নিজের রাজনৈতিক জীবনে বিএনপির অবদানের কথা তুলে ধরে রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেন, বিএনপি না থাকলে তিনি ‘দুলু’ হয়ে উঠতে পারতেন না। তার সম্মান, পরিচিতি, হুইপ ও মন্ত্রী হওয়ার পেছনে বিএনপির অবদান রয়েছে।
তিনি বলেন, বিএনপির বয়স ৪৮ বছর এবং তার রাজনীতির বয়সও ৪৮ বছর। এ সময় দলটিকে ‘বটবৃক্ষ’ হিসেবে অভিহিত করেন তিনি।
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা উল্লেখ করে দুলু বলেন, দেশের জন্য জিয়াউর রহমানের অবদান শ্রেষ্ঠতম। এ অবদানের জন্য তিনি জিয়াউর রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
সভায় আরও যারা বক্তব্য দেন;
আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও বীর মুক্তিযোদ্ধা বাবুল আহমেদ এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কাজী রফিক।
এ ছাড়া বক্তব্য দেন লেখক ও সাংবাদিক কালাম ফয়েজী, মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মের সভাপতি সৈয়দ মোজাম্মেল হোসেন শাহিন, জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মের সাবেক সভাপতি হুমায়ুন কবির, ইঞ্জিনিয়ার শোয়েব কোরেশী ও এসএম কমর উদ্দিন।
সভা শেষে লেখক কালাম ফয়েজী তার লেখা ‘বীর রাষ্ট্রনায়ক জিয়াউর রহমান’ গ্রন্থটি প্রধান অতিথি রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুর হাতে তুলে দেন।




















