০৪:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মাদকাসক্ত ছেলেকে ইয়াবাসহ আটকের পর বাবার আকুতি, ‘পাঁচ বছর আটকিয়ে রাখেন’

রিপোর্টার নামঃ
  • আপডেট সময়ঃ ০১:২৬:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ১৪ বার পড়া হয়েছে।

 

হকবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট;

সুনামগঞ্জ ।। ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

 

সন্তান মাদকাসক্ত হয়ে পড়লে অনেক পরিবারই তাকে স্বাভাবিক জীবনে ফেরাতে সর্বস্ব দিয়ে চেষ্টা করে। কিন্তু চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের পরও কেউ যদি মাদকের ভয়াবহতা থেকে বেরিয়ে আসতে না পারে, তখন পরিবারটির ওপর নেমে আসে চরম হতাশা ও অসহায়ত্ব।

সুনামগঞ্জ সদর থানায় এমনই এক হৃদয়স্পর্শী ঘটনার কথা সামনে এসেছে।

 

 

মাদকাসক্ত ছেলেকে ইয়াবাসহ আটকের পর তার পক্ষ না নিয়ে বরং পুলিশকে ধন্যবাদ জানাতে থানায় ছুটে এসেছেন এক বাবা। এ সময় তিনি সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কাছে ছেলেকে দীর্ঘ সময় আটক রাখার আকুতি জানান।

 

জানা গেছে, ওই যুবক দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত। ছেলেকে মাদকমুক্ত করতে তার বাবা জমিজমা বিক্রি করে প্রায় দুই লাখ টাকা ব্যয় করেছেন। তাকে দুই দফায় মাদক নিরাময় কেন্দ্রে রেখে চিকিৎসাও করানো হয়। পরিবারের প্রত্যাশা ছিল, চিকিৎসার পর ছেলে স্বাভাবিক জীবনে ফিরবে।

 

কিন্তু বাস্তবতা ছিল ভিন্ন। চিকিৎসা নেওয়ার পরও মাদক থেকে দূরে সরে আসার পরিবর্তে ওই যুবক আরও বেশি মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে।

 

পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, মাদক সেবনের কারণে তিনি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও বাবাকে মারধর করতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এতে পরিবারটি চরম উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছিল।

 

এরই মধ্যে পুলিশ তাকে ইয়াবাসহ আটক করে। ছেলেকে আটকের খবর পেয়ে তার বাবা থানায় গিয়ে পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। সাধারণত কোনো সন্তান গ্রেপ্তার হলে পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা দেখা গেলেও এ ক্ষেত্রে ঘটেছে উল্টো চিত্র।

 

থানায় গিয়ে ওই বাবা ওসির কাছে আকুতি জানিয়ে বলেন, ‘পাঁচ বছর বাবা আটকিয়ে রাখো, আমার এই ছেলে আমাকে মারধর করে।’

 

বাবার এই বক্তব্য মাদকাসক্তির কারণে একটি পরিবারের ভেতরে তৈরি হওয়া ভয়াবহ সংকটের চিত্র সামনে এনেছে। একই সঙ্গে এটি মনে করিয়ে দিচ্ছে—মাদকের বিরুদ্ধে শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান নয়, পরিবার থেকেই প্রতিরোধ গড়ে তোলা জরুরি।

 

মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ শুরু হোক পরিবার থেকেই:

বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন তরুণের মাদকাসক্তি শুধু তার নিজের জীবনকেই বিপন্ন করে না; এর প্রভাব পড়ে পুরো পরিবার ও সমাজের ওপর। মাদকের কারণে পারিবারিক সহিংসতা, অর্থনৈতিক সংকট, অপরাধপ্রবণতা ও সামাজিক অস্থিরতা বাড়তে পারে।

 

তাই সন্তান মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ার শুরুতেই পরিবারকে বিষয়টি গোপন না রেখে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, কাউন্সেলিং ও পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিতে হবে। একই সঙ্গে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের সুস্থ জীবনে ফেরাতে কার্যকর পুনর্বাসন ব্যবস্থাও নিশ্চিত করা জরুরি।

 

 

একজন অসহায় বাবার থানায় এসে নিজের মাদকাসক্ত ছেলের বিরুদ্ধে পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের ঘটনা তাই কেবল একটি পরিবারের গল্প নয়—এটি মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার একটি কঠিন বাস্তব বার্তাও বহন করে।

মাদকের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু হোক নিজের ঘর থেকেই—এটাই এখন সময়ের দাবি।

ট্যাগসঃ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

মাদকাসক্ত ছেলেকে ইয়াবাসহ আটকের পর বাবার আকুতি, ‘পাঁচ বছর আটকিয়ে রাখেন’

আপডেট সময়ঃ ০১:২৬:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

হকবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট;

সুনামগঞ্জ ।। ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

 

সন্তান মাদকাসক্ত হয়ে পড়লে অনেক পরিবারই তাকে স্বাভাবিক জীবনে ফেরাতে সর্বস্ব দিয়ে চেষ্টা করে। কিন্তু চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের পরও কেউ যদি মাদকের ভয়াবহতা থেকে বেরিয়ে আসতে না পারে, তখন পরিবারটির ওপর নেমে আসে চরম হতাশা ও অসহায়ত্ব।

সুনামগঞ্জ সদর থানায় এমনই এক হৃদয়স্পর্শী ঘটনার কথা সামনে এসেছে।

 

 

মাদকাসক্ত ছেলেকে ইয়াবাসহ আটকের পর তার পক্ষ না নিয়ে বরং পুলিশকে ধন্যবাদ জানাতে থানায় ছুটে এসেছেন এক বাবা। এ সময় তিনি সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কাছে ছেলেকে দীর্ঘ সময় আটক রাখার আকুতি জানান।

 

জানা গেছে, ওই যুবক দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত। ছেলেকে মাদকমুক্ত করতে তার বাবা জমিজমা বিক্রি করে প্রায় দুই লাখ টাকা ব্যয় করেছেন। তাকে দুই দফায় মাদক নিরাময় কেন্দ্রে রেখে চিকিৎসাও করানো হয়। পরিবারের প্রত্যাশা ছিল, চিকিৎসার পর ছেলে স্বাভাবিক জীবনে ফিরবে।

 

কিন্তু বাস্তবতা ছিল ভিন্ন। চিকিৎসা নেওয়ার পরও মাদক থেকে দূরে সরে আসার পরিবর্তে ওই যুবক আরও বেশি মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে।

 

পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, মাদক সেবনের কারণে তিনি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও বাবাকে মারধর করতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এতে পরিবারটি চরম উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছিল।

 

এরই মধ্যে পুলিশ তাকে ইয়াবাসহ আটক করে। ছেলেকে আটকের খবর পেয়ে তার বাবা থানায় গিয়ে পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। সাধারণত কোনো সন্তান গ্রেপ্তার হলে পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা দেখা গেলেও এ ক্ষেত্রে ঘটেছে উল্টো চিত্র।

 

থানায় গিয়ে ওই বাবা ওসির কাছে আকুতি জানিয়ে বলেন, ‘পাঁচ বছর বাবা আটকিয়ে রাখো, আমার এই ছেলে আমাকে মারধর করে।’

 

বাবার এই বক্তব্য মাদকাসক্তির কারণে একটি পরিবারের ভেতরে তৈরি হওয়া ভয়াবহ সংকটের চিত্র সামনে এনেছে। একই সঙ্গে এটি মনে করিয়ে দিচ্ছে—মাদকের বিরুদ্ধে শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান নয়, পরিবার থেকেই প্রতিরোধ গড়ে তোলা জরুরি।

 

মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ শুরু হোক পরিবার থেকেই:

বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন তরুণের মাদকাসক্তি শুধু তার নিজের জীবনকেই বিপন্ন করে না; এর প্রভাব পড়ে পুরো পরিবার ও সমাজের ওপর। মাদকের কারণে পারিবারিক সহিংসতা, অর্থনৈতিক সংকট, অপরাধপ্রবণতা ও সামাজিক অস্থিরতা বাড়তে পারে।

 

তাই সন্তান মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ার শুরুতেই পরিবারকে বিষয়টি গোপন না রেখে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, কাউন্সেলিং ও পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিতে হবে। একই সঙ্গে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের সুস্থ জীবনে ফেরাতে কার্যকর পুনর্বাসন ব্যবস্থাও নিশ্চিত করা জরুরি।

 

 

একজন অসহায় বাবার থানায় এসে নিজের মাদকাসক্ত ছেলের বিরুদ্ধে পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের ঘটনা তাই কেবল একটি পরিবারের গল্প নয়—এটি মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার একটি কঠিন বাস্তব বার্তাও বহন করে।

মাদকের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু হোক নিজের ঘর থেকেই—এটাই এখন সময়ের দাবি।