০৪:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দোয়ারাবাজারে পূর্ব বিরোধের জেরে দুপক্ষের সংঘর্ষ, নারী-শিশুসহ আহত ২২

রিপোর্টার নামঃ
  • আপডেট সময়ঃ ০৫:৪৮:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ১১ বার পড়া হয়েছে।

হকবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট

সুনামগঞ্জ | ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে পূর্ব বিরোধের জের ধরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে দোয়ারাবাজার সদর ইউনিয়নের পশ্চিম নৈনগাঁও ও নৈনগাঁও মাঝপাড়ার মধ্যবর্তী সংযোগ ব্রিজের ওপর এ সংঘর্ষ হয়। এতে নারী ও শিশুসহ উভয় পক্ষের অন্তত ২২ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

 

সংঘর্ষের খবর পেয়ে দোয়ারাবাজার থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পশ্চিম নৈনগাঁও গ্রামের সুনু মিয়ার ছেলে মো. শামীম মিয়া (৩০) এবং নৈনগাঁও মাঝপাড়ার আবুল খয়েরের ছেলে মো. সেলিম মিয়া (৪০)-এর সমর্থকদের মধ্যে দীর্ঘদিনের পূর্ব বিরোধ রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার সকালে উভয় পক্ষের লোকজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়।

 

একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এ সময় দুই পক্ষের প্রায় ৬০ থেকে ৭০ জনের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘাতের সৃষ্টি হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

 

সংঘর্ষে পশ্চিম নৈনগাঁও গ্রামের মো. শামীম মিয়া (৩০), মইন উদ্দিন (৬০), ফয়েজ মিয়া (২০), খলিল মিয়া (১৮), আঙ্গুর মিয়া (৫০), সোহেল মিয়া (১৩), বাবুল মিয়া (৩৫) ও ফুলতারা বেগম এবং নৈনগাঁও মাঝপাড়ার মো. সেলিম মিয়া (৪০), নিজাম উদ্দিন (৩৫), লিয়াকত আলী, আল আমিন (৩০), রহিমা বেগম (৩০), ফরিদ মিয়া (৩০) ও জহুর আলী (৪০)-সহ উভয় পক্ষের অন্তত ২২ জন আহত হয়েছেন।

 

স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে দোয়ারাবাজারসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করেন। আহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে বলে জানা গেছে।

 

সংঘর্ষের খবর পেয়ে দোয়ারাবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তরিকুল ইসলাম তালুকদারের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে। স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং পরবর্তী অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এলাকায় সতর্ক অবস্থান নেয়।

 

দোয়ারাবাজার থানার ওসি তরিকুল ইসলাম তালুকদার বলেন, “সংবাদ পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়েছে। বর্তমানে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

 

এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো পক্ষের লিখিত অভিযোগ বা মামলা হয়েছে কি না, তা জানা যায়নি। সংঘর্ষের পর এলাকায় উত্তেজনা থাকায় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে পুলিশ।

ট্যাগসঃ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

দোয়ারাবাজারে পূর্ব বিরোধের জেরে দুপক্ষের সংঘর্ষ, নারী-শিশুসহ আহত ২২

আপডেট সময়ঃ ০৫:৪৮:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

হকবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট

সুনামগঞ্জ | ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে পূর্ব বিরোধের জের ধরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে দোয়ারাবাজার সদর ইউনিয়নের পশ্চিম নৈনগাঁও ও নৈনগাঁও মাঝপাড়ার মধ্যবর্তী সংযোগ ব্রিজের ওপর এ সংঘর্ষ হয়। এতে নারী ও শিশুসহ উভয় পক্ষের অন্তত ২২ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

 

সংঘর্ষের খবর পেয়ে দোয়ারাবাজার থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পশ্চিম নৈনগাঁও গ্রামের সুনু মিয়ার ছেলে মো. শামীম মিয়া (৩০) এবং নৈনগাঁও মাঝপাড়ার আবুল খয়েরের ছেলে মো. সেলিম মিয়া (৪০)-এর সমর্থকদের মধ্যে দীর্ঘদিনের পূর্ব বিরোধ রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার সকালে উভয় পক্ষের লোকজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়।

 

একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এ সময় দুই পক্ষের প্রায় ৬০ থেকে ৭০ জনের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘাতের সৃষ্টি হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

 

সংঘর্ষে পশ্চিম নৈনগাঁও গ্রামের মো. শামীম মিয়া (৩০), মইন উদ্দিন (৬০), ফয়েজ মিয়া (২০), খলিল মিয়া (১৮), আঙ্গুর মিয়া (৫০), সোহেল মিয়া (১৩), বাবুল মিয়া (৩৫) ও ফুলতারা বেগম এবং নৈনগাঁও মাঝপাড়ার মো. সেলিম মিয়া (৪০), নিজাম উদ্দিন (৩৫), লিয়াকত আলী, আল আমিন (৩০), রহিমা বেগম (৩০), ফরিদ মিয়া (৩০) ও জহুর আলী (৪০)-সহ উভয় পক্ষের অন্তত ২২ জন আহত হয়েছেন।

 

স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে দোয়ারাবাজারসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করেন। আহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে বলে জানা গেছে।

 

সংঘর্ষের খবর পেয়ে দোয়ারাবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তরিকুল ইসলাম তালুকদারের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে। স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং পরবর্তী অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এলাকায় সতর্ক অবস্থান নেয়।

 

দোয়ারাবাজার থানার ওসি তরিকুল ইসলাম তালুকদার বলেন, “সংবাদ পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়েছে। বর্তমানে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

 

এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো পক্ষের লিখিত অভিযোগ বা মামলা হয়েছে কি না, তা জানা যায়নি। সংঘর্ষের পর এলাকায় উত্তেজনা থাকায় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে পুলিশ।