একই ভবনে বন্ধ বেকারি ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ;
আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ডিএসসিসির অভিযান, জরিমানা ৩ লাখ টাকা
- আপডেট সময়ঃ ০৯:০৮:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬
- / ০ বার পড়া হয়েছে।
রাজধানীর মগবাজারের খ্যাতনামা আদ্-দ্বীন হাসপাতালে আকস্মিক অভিযান চালিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। দীর্ঘ তিন ঘণ্টার এই তল্লাশিতে হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগে নানাবিধ অব্যবস্থাপনা ও অনিয়ম উদঘাটিত হয়েছে।
চিকিৎসাসেবা সংশ্লিষ্ট স্পর্শকাতর জায়গায় ফ্রিজের তাপমাত্রা পরিমাপক যন্ত্র না থাকা এবং অপরিচ্ছন্ন পরিবেশের দায়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে মোট ৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। রোববার বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চলা এই ভ্রাম্যমাণ আদালতের নেতৃত্ব দেন ডিএসসিসির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম।
অভিযান শেষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জানান, হাসপাতালের সার্বিক পরিবেশ এবং খাদ্য ব্যবস্থাপনায় সুনির্দিষ্ট কিছু অসঙ্গতি পাওয়ায় এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে নিরাপদ খাদ্য আইনের অধীনে ২ লাখ টাকা এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের আওতায় ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে জরিমানার পুরো অর্থ পরিশোধ করেছে।
আদালতের পরিদর্শনে সবচেয়ে বড় যে ত্রুটিটি সামনে এসেছে, তা হলো হাসপাতালের ফ্রিজগুলোতে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার অনুপস্থিতি।
ব্লাড ব্যাংক ব্যতিরেকে হাসপাতালের অন্য কোনো ওয়ার্ডের রেফ্রিজারেটরে কোনো মিটার বা তাপমাত্রা পরিমাপক যন্ত্র পাওয়া যায়নি, যা কেবল চিকিৎসকদের চেম্বারগুলোতেই সীমাবদ্ধ ছিল।
এছাড়া হাসপাতালের কিছু অংশে চরম নোংরা ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ দেখা গেছে। বিশেষ করে একটি নির্দিষ্ট স্থানে বিস্কুটসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্যের লেবেলিং অত্যন্ত নিম্নমানের ছিল এবং চারপাশের পরিবেশও ছিল অস্বাস্থ্যকর।
সম্প্রতি গণমাধ্যমে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের ওপর একটি অপরিচ্ছন্ন বেকারি পরিচালনার খবর প্রকাশিত হয়েছিল। এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জানান, অভিযানের সময় বেকারিটি বন্ধ পাওয়া গেলেও সেটি হাসপাতালের মূল ভবন থেকেই সংযুক্ত ছিল। তারা মূল ভবনের ভেতর দিয়েই ওই বেকারিতে প্রবেশ করেন এবং একই ভবনে এর অস্তিত্ব নিশ্চিত করেন।
ডিএসসিসি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চিহ্নিত এই ত্রুটি ও অনিয়মগুলো দ্রুততম সময়ের মধ্যে সংশোধন করার জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সাথে পুরো বিষয়টি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালককেও অবহিত করা হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এই পরিস্থিতির উন্নতি না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের এই গাফিলতি ও নিয়মিত তদারকির অভাবের পেছনে জনবল সংকটের অজুহাত দিয়েছে।




















