০৪:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ০২ মে ২০২৬
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সিলেটে প্রথম সফরে তারেক রহমান

সিলেটে জমকালো আয়োজনে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ ও উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন

হক বার্তা ডেস্ক রিপোর্টঃ
  • আপডেট সময়ঃ ১১:৩৫:২৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬
  • / ৮ বার পড়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো দু’দিনের সংক্ষিপ্ত সফরে আধ্যাত্মিক রাজধানী সিলেটে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ শনিবার সকাল ১০টা ৫ মিনিটে তিনি ও তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন।

 এ সময় তাঁকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয় এবং স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও দলীয় নেতৃবৃন্দ তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানিয়েছেন, আজ সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে ঢাকার গুলশানের বাসভবন থেকে বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী। সেখান থেকে বিশেষ ফ্লাইটে তিনি সিলেটে পৌঁছান।

‎সিলেটে পা রেখেই প্রধানমন্ত্রী প্রথা অনুযায়ী হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতে যান। সেখানে তিনি কিছুক্ষণ অবস্থান করেন, ফাতেহা পাঠ ও মোনাজাতে অংশ নেন। মাজার জিয়ারতের সময় তাঁর সঙ্গে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

মাজার জিয়ারত শেষে তিনি নগরীর চাঁদনীঘাট এলাকায় সিটি করপোরেশনের আয়োজিত জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

‎বেলা ১১টায় প্রধানমন্ত্রী চাঁদনীঘাটে সুরমা নদীর তীরবর্তী এলাকায় সিলেট সিটি করপোরেশনের একটি মেগা প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। আধুনিক ড্রেনেজ সিস্টেম ও নদী তীর রক্ষা বাঁধের এই প্রকল্পটির মাধ্যমে নগরীর দীর্ঘদিনের অভিশাপ ‘জলাবদ্ধতা’ দূর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে এক সুধী সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সিলেটকে একটি আধুনিক ও স্মার্ট নগরী হিসেবে গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।”

‎পরবর্তীতে দুপুর ১২টায় তিনি সিলেট সদর উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নে যাবেন। সেখানে তিনি ‘বাইশা নদী’ পুনঃখনন কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। কৃষিজমির সেচ সুবিধা নিশ্চিতকরণ এবং মৎস্য সম্পদ বৃদ্ধিতে এই খাল ও নদী খনন কর্মসূচি সরকারের বিশেষ অগ্রাধিকার প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত।

‎বিকেল ৩টায় সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬’-এর জাতীয় পর্যায়ের কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারে উল্লেখিত প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, জেলা ও উপজেলা পর্যায় থেকে উদীয়মান ক্রীড়া প্রতিভা খুঁজে বের করতে এই বৃহৎ প্রকল্পের সূচনা করা হলো। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সারা দেশ থেকে আসা শিশু-কিশোর অ্যাথলেটদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী দিক-নির্দেশনামূলক ভাষণ দেবেন।

‎বিকেল ৫টায় সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপি আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। নগরীর শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে এই জনসভা অনুষ্ঠিত হবে। উল্লেখ্য, গত ২১ জানুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা সিলেট থেকেই শুরু করেছিলেন তৎকালীন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর তাঁর এই সফর ও জনসভাকে ঘিরে সিলেটে সাধারণ মানুষ ও নেতা-কর্মীদের মাঝে ব্যাপক উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। ব্যানার-ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে পুরো নগরী।

‎প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে সিলেট মহানগরী ও আশপাশের এলাকায় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। এসএসএফ (SSF), পুলিশ, র‍্যাবসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা মোতায়েন রয়েছেন। দিনভর ব্যস্ত কর্মসূচি শেষে আজ রাতেই প্রধানমন্ত্রী বিমানযোগে ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথম সফরেই মাঠ পর্যায়ের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড ও তৃণমূলের মানুষের কাছে পৌঁছানোর এই প্রচেষ্টা সরকারের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনারই একটি প্রতিফলন।

 

 

 

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সিলেটে প্রথম সফরে তারেক রহমান

সিলেটে জমকালো আয়োজনে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ ও উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন

আপডেট সময়ঃ ১১:৩৫:২৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো দু’দিনের সংক্ষিপ্ত সফরে আধ্যাত্মিক রাজধানী সিলেটে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ শনিবার সকাল ১০টা ৫ মিনিটে তিনি ও তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন।

 এ সময় তাঁকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয় এবং স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও দলীয় নেতৃবৃন্দ তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানিয়েছেন, আজ সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে ঢাকার গুলশানের বাসভবন থেকে বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী। সেখান থেকে বিশেষ ফ্লাইটে তিনি সিলেটে পৌঁছান।

‎সিলেটে পা রেখেই প্রধানমন্ত্রী প্রথা অনুযায়ী হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতে যান। সেখানে তিনি কিছুক্ষণ অবস্থান করেন, ফাতেহা পাঠ ও মোনাজাতে অংশ নেন। মাজার জিয়ারতের সময় তাঁর সঙ্গে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

মাজার জিয়ারত শেষে তিনি নগরীর চাঁদনীঘাট এলাকায় সিটি করপোরেশনের আয়োজিত জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

‎বেলা ১১টায় প্রধানমন্ত্রী চাঁদনীঘাটে সুরমা নদীর তীরবর্তী এলাকায় সিলেট সিটি করপোরেশনের একটি মেগা প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। আধুনিক ড্রেনেজ সিস্টেম ও নদী তীর রক্ষা বাঁধের এই প্রকল্পটির মাধ্যমে নগরীর দীর্ঘদিনের অভিশাপ ‘জলাবদ্ধতা’ দূর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে এক সুধী সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সিলেটকে একটি আধুনিক ও স্মার্ট নগরী হিসেবে গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।”

‎পরবর্তীতে দুপুর ১২টায় তিনি সিলেট সদর উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নে যাবেন। সেখানে তিনি ‘বাইশা নদী’ পুনঃখনন কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। কৃষিজমির সেচ সুবিধা নিশ্চিতকরণ এবং মৎস্য সম্পদ বৃদ্ধিতে এই খাল ও নদী খনন কর্মসূচি সরকারের বিশেষ অগ্রাধিকার প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত।

‎বিকেল ৩টায় সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬’-এর জাতীয় পর্যায়ের কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারে উল্লেখিত প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, জেলা ও উপজেলা পর্যায় থেকে উদীয়মান ক্রীড়া প্রতিভা খুঁজে বের করতে এই বৃহৎ প্রকল্পের সূচনা করা হলো। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সারা দেশ থেকে আসা শিশু-কিশোর অ্যাথলেটদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী দিক-নির্দেশনামূলক ভাষণ দেবেন।

‎বিকেল ৫টায় সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপি আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। নগরীর শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে এই জনসভা অনুষ্ঠিত হবে। উল্লেখ্য, গত ২১ জানুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা সিলেট থেকেই শুরু করেছিলেন তৎকালীন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর তাঁর এই সফর ও জনসভাকে ঘিরে সিলেটে সাধারণ মানুষ ও নেতা-কর্মীদের মাঝে ব্যাপক উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। ব্যানার-ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে পুরো নগরী।

‎প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে সিলেট মহানগরী ও আশপাশের এলাকায় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। এসএসএফ (SSF), পুলিশ, র‍্যাবসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা মোতায়েন রয়েছেন। দিনভর ব্যস্ত কর্মসূচি শেষে আজ রাতেই প্রধানমন্ত্রী বিমানযোগে ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথম সফরেই মাঠ পর্যায়ের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড ও তৃণমূলের মানুষের কাছে পৌঁছানোর এই প্রচেষ্টা সরকারের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনারই একটি প্রতিফলন।