জুয়া ও মাদকের নীল দংশন:
টাকা না পেয়ে তাহিরপুরে কিশোরের করুণ আত্মহনন
- আপডেট সময়ঃ ০২:৩৯:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬
- / ১ বার পড়া হয়েছে।
নেশার টাকা জোগাড় করতে না পেরে চরম হতাশা থেকে নিজের জীবনপ্রদীপ নিজেই নিভিয়ে দিল ১৭ বছরের এক কিশোর। সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় মাদক ও অনলাইন জুয়ার ভয়াল থাবায় আমিনুল ইসলাম নামের ওই কিশোরের আত্মহত্যার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (২৫ মে) বিকেলে উপজেলার উত্তর বড়দল ইউনিয়নের চাঁনপুর সীমান্ত গ্রাম থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকালের কোনো এক সময়ে পরিবারের সদস্যদের অলক্ষ্যে নিজ বসতঘরের ধর্নার সাথে গলায় রশি পেঁচিয়ে আমিনুল আত্মহত্যা করে। খবর পেয়ে তাহিরপুর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। নিহত আমিনুল ওই গ্রামের তাজুল ইসলামের সন্তান।
এই মর্মান্তিক ঘটনার পেছনে উঠে এসেছে অনলাইন জুয়া ও সর্বনাশা মাদকের এক অন্ধকার অধ্যায়। নিহতের বড় ভাই সোহেল মঙ্গলবার সংবাদমাধ্যমকে জানান, গত প্রায় দুই বছর ধরে আমিনুল এলাকার কিছু বখাটে যুবকের চক্রে পড়ে প্রাণঘাতী ইয়াবা সেবনে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছিল। শুধু মাদকই নয়, একই সাথে সে মারাত্মকভাবে আসক্ত হয়ে পড়েছিল অনলাইন জুয়াতেও।
পারিবারিক সূত্রে আরও জানা যায়, এই বিপথগামিতার কারণে দীর্ঘদিন ধরেই পরিবারের সদস্যদের সাথে আমিনুলের টানাপোড়েন ও কলহ চলছিল। সর্বশেষ সোমবারও মাদক কেনা এবং জুয়া খেলার টাকা চেয়ে সে পরিবারের কাছে ব্যর্থ হয়। স্বজনদের দাবি, তীব্র আসক্তির মুখে টাকার জোগান না পেয়ে চরম ক্ষোভ ও মানসিক অশান্তি থেকে সে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়।
“প্রাথমিকভাবে এই ঘটনাটিকে অপমৃত্যু হিসেবে বিবেচনা করে থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও নিহতের পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই কিশোর ইয়াবা এবং অনলাইন জুয়ায় আসক্ত ছিল। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে আমাদের তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।”
— এসআই সাইফুল ইসলাম, তাহিরপুর থানা
এই ঘটনাটি সীমান্ত এলাকায় তরুণ প্রজন্মের মাদক ও অনলাইন জুয়ার প্রতি ঝুঁক we পড়ার এক উদ্বেগজনক চিত্রকে আবারও সামনে এনেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন আসার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও নিশ্চিত হওয়া যাবে।


















