০৬:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬
জিরো টলারেন্স ঘোষণা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরঃ

‎মাদক ও অবৈধ অস্ত্রের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী যৌথ বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযান

হক বার্তা ডেস্ক রিপোর্টঃ
  • আপডেট সময়ঃ ০৯:২০:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬
  • / ১৫ বার পড়া হয়েছে।

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে এবং জনমনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে মাদক, অবৈধ অস্ত্র এবং চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে দেশব্যাপী এক ব্যাপকভিত্তিক সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে সরকারের বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত যৌথ দল। 

সরকার এই অপরাধগুলোর মূলে আঘাত হানতে ‘জিরো টলারেন্স’ বা শূন্য সহনশীলতা নীতি গ্রহণ করেছে। এই অভিযানের মূল লক্ষ্য হলো অপরাধী চক্রের নেটওয়ার্ক পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়া এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

‎আজ সোমবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বলপ্রয়োগে বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের সমন্বয়, ব্যবস্থাপনা ও আইনশৃঙ্খলা সম্পর্কিত জাতীয় কমিটির গুরুত্বপূর্ণ সভা শেষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

মন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন যে, ১ মে থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানে কোনো ধরনের রাজনৈতিক বা সামাজিক প্রভাবের তোয়াক্কা না করে অপরাধীদের সরাসরি আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের ঝনঝনানি বন্ধ করা এবং যুবসমাজকে মাদকের মরণছোবল থেকে রক্ষা করা এখন সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।

‎সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পণ্যবাহী যানবাহনে চাঁদাবাজির বিষয়টি গুরুত্বের সাথে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, পরিবহন সেক্টর বা শিল্পাঞ্চলে যেকোনো ধরনের চাঁদাবাজি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে এবং নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়। বাজারমূল্য স্থিতিশীল রাখতে এবং পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থা নির্বিঘ্ন করতে মহাসড়ক ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে গোয়েন্দা নজরদারি দ্বিগুণ করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে কোনো অবস্থাতেই সাধারণ ব্যবসায়ীরা হয়রানির শিকার না হন এবং চাঁদাবাজদের চিহ্নিত করে দ্রুত গ্রেফতার করা হয়।

মিয়ানমার থেকে আগত রোহিঙ্গা নাগরিকদের নিরাপত্তা ও ক্যাম্পের আইনশৃঙ্খলা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এক দীর্ঘ পর্যালোচনা তুলে ধরেন। তিনি জানান, রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলো অপরাধের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ার একটি আশঙ্কা সব সময়ই থাকে, তাই সেখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও সুসংহত করা হয়েছে। বিশেষ করে ক্যাম্পের ভেতরে আরসা বা অন্য কোনো সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর যেকোনো ধরনের অপতৎপরতা কঠোর হাতে দমন করতে বাহিনীগুলোকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

মাদকের রুট হিসেবে ব্যবহৃত সীমান্ত অঞ্চলগুলোতে এবং ক্যাম্পের প্রবেশ পথগুলোতে উন্নত প্রযুক্তির ড্রোন এবং সার্বক্ষণিক সিসিটিভি মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

‎মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, এই বিশেষ অভিযানে নিরপরাধ কোনো মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হয়, সে বিষয়ে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে এবং গোয়েন্দা প্রতিবেদনের আলোকে প্রতিটি অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় জনসম্পৃক্ততার ওপর জোর দিয়ে তিনি সাধারণ মানুষকে যেকোনো অপরাধী বা অবৈধ কর্মকাণ্ডের তথ্য দিয়ে পুলিশ ও প্রশাসনকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান। তথ্যদাতার পরিচয় গোপন রেখে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নিশ্চয়তাও দেন তিনি।

 

‎পরিশেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, রাষ্ট্র ও জনগণের জানমালের নিরাপত্তায় সরকার কোনো আপস করবে না। যারা অবৈধ অস্ত্রের মহড়া দিয়ে সমাজে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে কিংবা মাদকের কারবার চালিয়ে যাচ্ছে, তাদের শেকড় উপড়ে ফেলতে এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।

সভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন সচিববৃন্দ, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানগণ উপস্থিত থেকে অভিযানের বর্তমান চিত্র ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন।

 

 

 

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

জিরো টলারেন্স ঘোষণা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরঃ

‎মাদক ও অবৈধ অস্ত্রের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী যৌথ বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযান

আপডেট সময়ঃ ০৯:২০:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে এবং জনমনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে মাদক, অবৈধ অস্ত্র এবং চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে দেশব্যাপী এক ব্যাপকভিত্তিক সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে সরকারের বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত যৌথ দল। 

সরকার এই অপরাধগুলোর মূলে আঘাত হানতে ‘জিরো টলারেন্স’ বা শূন্য সহনশীলতা নীতি গ্রহণ করেছে। এই অভিযানের মূল লক্ষ্য হলো অপরাধী চক্রের নেটওয়ার্ক পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়া এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

‎আজ সোমবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বলপ্রয়োগে বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের সমন্বয়, ব্যবস্থাপনা ও আইনশৃঙ্খলা সম্পর্কিত জাতীয় কমিটির গুরুত্বপূর্ণ সভা শেষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

মন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন যে, ১ মে থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানে কোনো ধরনের রাজনৈতিক বা সামাজিক প্রভাবের তোয়াক্কা না করে অপরাধীদের সরাসরি আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের ঝনঝনানি বন্ধ করা এবং যুবসমাজকে মাদকের মরণছোবল থেকে রক্ষা করা এখন সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।

‎সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পণ্যবাহী যানবাহনে চাঁদাবাজির বিষয়টি গুরুত্বের সাথে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, পরিবহন সেক্টর বা শিল্পাঞ্চলে যেকোনো ধরনের চাঁদাবাজি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে এবং নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়। বাজারমূল্য স্থিতিশীল রাখতে এবং পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থা নির্বিঘ্ন করতে মহাসড়ক ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে গোয়েন্দা নজরদারি দ্বিগুণ করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে কোনো অবস্থাতেই সাধারণ ব্যবসায়ীরা হয়রানির শিকার না হন এবং চাঁদাবাজদের চিহ্নিত করে দ্রুত গ্রেফতার করা হয়।

মিয়ানমার থেকে আগত রোহিঙ্গা নাগরিকদের নিরাপত্তা ও ক্যাম্পের আইনশৃঙ্খলা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এক দীর্ঘ পর্যালোচনা তুলে ধরেন। তিনি জানান, রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলো অপরাধের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ার একটি আশঙ্কা সব সময়ই থাকে, তাই সেখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও সুসংহত করা হয়েছে। বিশেষ করে ক্যাম্পের ভেতরে আরসা বা অন্য কোনো সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর যেকোনো ধরনের অপতৎপরতা কঠোর হাতে দমন করতে বাহিনীগুলোকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

মাদকের রুট হিসেবে ব্যবহৃত সীমান্ত অঞ্চলগুলোতে এবং ক্যাম্পের প্রবেশ পথগুলোতে উন্নত প্রযুক্তির ড্রোন এবং সার্বক্ষণিক সিসিটিভি মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

‎মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, এই বিশেষ অভিযানে নিরপরাধ কোনো মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হয়, সে বিষয়ে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে এবং গোয়েন্দা প্রতিবেদনের আলোকে প্রতিটি অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় জনসম্পৃক্ততার ওপর জোর দিয়ে তিনি সাধারণ মানুষকে যেকোনো অপরাধী বা অবৈধ কর্মকাণ্ডের তথ্য দিয়ে পুলিশ ও প্রশাসনকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান। তথ্যদাতার পরিচয় গোপন রেখে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নিশ্চয়তাও দেন তিনি।

 

‎পরিশেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, রাষ্ট্র ও জনগণের জানমালের নিরাপত্তায় সরকার কোনো আপস করবে না। যারা অবৈধ অস্ত্রের মহড়া দিয়ে সমাজে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে কিংবা মাদকের কারবার চালিয়ে যাচ্ছে, তাদের শেকড় উপড়ে ফেলতে এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।

সভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন সচিববৃন্দ, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানগণ উপস্থিত থেকে অভিযানের বর্তমান চিত্র ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন।