০৭:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৪ মে ২০২৬
সুনামগঞ্জে স্বস্তিঃ

সন্ত্রাস দমন আইনের মামলায় উচ্চ আদালত থেকে ২১ আইনজীবীর আগাম জামিন

নিজস্ব সংবাদদাতাঃ
  • আপডেট সময়ঃ ১১:৩৫:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬
  • / ৮৯ বার পড়া হয়েছে।

‎সুনামগঞ্জে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দায়ের করা সন্ত্রাস দমন আইনের মামলায় বড় ধরনের আইনি বিজয় পেয়েছেন আওয়ামী লীগ সমর্থক আইনজীবীরা। 

উচ্চ আদালত থেকে আগাম জামিন পেয়েছেন বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের ২১ জন সদস্য। রবিবার (৩ মে) হাইকোর্টের বিচারপতি শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন এবং বিচারপতি জাকির হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত দ্বৈত বেঞ্চ (বেঞ্চ নং ১৯) শুনানি শেষে এই জামিন আদেশ মঞ্জুর করেন।

‎হাইকোর্টে জামিন শুনানির সময় আসামিপক্ষে আইনি লড়াই পরিচালনা করেন দেশের প্রথিতযশা আইনজীবী অ্যাডভোকেট জেডআই খান পান্না। তার সাথে শুনানিতে আরও অংশ নেন ব্যারিস্টার এনামুল কবির ইমন, ব্যারিস্টার কিশোর কুমার মন্ডল, ব্যারিস্টার ফারজানা শীলা এবং ব্যারিস্টার অনুকূল তালুকদার ডাল্টন।

আইনজীবীরা আদালতে যুক্তি দেখান যে, রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া এবং শ্রদ্ধা নিবেদন কোনোভাবেই সন্ত্রাসবাদের আওতায় পড়ে না। দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত ২১ আইনজীবীর জামিন মঞ্জুর করে আদেশ দেন।

‎ঘটনার সূত্রপাত গত ২৬ মার্চ, মহান স্বাধীনতা দিবসে। ওই দিন সুনামগঞ্জ কালেক্টরেট শহীদ মিনারে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের ব্যানারে একটি মিছিল সহকারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে যান দল সমর্থিত আইনজীবীরা। তবে এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পরবর্তীতে পুলিশের পক্ষ থেকে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়।

সুনামগঞ্জ সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আনোয়ারুল হক বাদী হয়ে উক্ত আইনজীবীদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। সাধারণ শ্রদ্ধা নিবেদনের ঘটনায় এমন গুরুতর ধারায় মামলা হওয়ায় সে সময় স্থানীয় রাজনৈতিক ও আইনি অঙ্গনে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছিল।

‎এই একই মামলায় ইতিপূর্বে সুনামগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক প্রভাবশালী নেতা ও আইনজীবী অ্যাডভোকেট শামীম আহমদ এবং সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি মনিষ কান্তি দে মিন্টুকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তারা দুজনই বেশ কিছুদিন জেল খেটে বর্তমানে জামিনে রয়েছেন। আজ ২১ জন আইনজীবীর আগাম জামিন পাওয়ার মধ্য দিয়ে এই মামলায় অভিযুক্তদের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত হলো।

‎উচ্চ আদালতের এই আদেশের পর সুনামগঞ্জ আইনজীবী সমিতির আওয়ামী লীগ পন্থী সদস্যদের মধ্যে স্বস্তি ও উদ্দীপনা দেখা গেছে। জামিন পাওয়া আইনজীবীরা জানিয়েছেন, তারা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং পেশাগত ও রাজনৈতিক দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এমন মামলার শিকার হওয়া দুঃখজনক। তবে উচ্চ আদালতের রায়ে তারা ন্যায়বিচার পেয়েছেন বলে মনে করছেন।

‎এই জামিন আদেশের ফলে দীর্ঘদিনের উৎকণ্ঠার অবসান ঘটল এবং সংশ্লিষ্ট আইনজীবীদের স্বাভাবিক পেশাগত জীবনে ফেরার পথ সুগম হলো। সুনামগঞ্জের সচেতন মহল মনে করছেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা নয় বরং সত্য ও ন্যায়ের ভিত্তিতেই আইনি প্রক্রিয়া পরিচালিত হওয়া প্রয়োজন।

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

সুনামগঞ্জে স্বস্তিঃ

সন্ত্রাস দমন আইনের মামলায় উচ্চ আদালত থেকে ২১ আইনজীবীর আগাম জামিন

আপডেট সময়ঃ ১১:৩৫:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬

‎সুনামগঞ্জে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দায়ের করা সন্ত্রাস দমন আইনের মামলায় বড় ধরনের আইনি বিজয় পেয়েছেন আওয়ামী লীগ সমর্থক আইনজীবীরা। 

উচ্চ আদালত থেকে আগাম জামিন পেয়েছেন বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের ২১ জন সদস্য। রবিবার (৩ মে) হাইকোর্টের বিচারপতি শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন এবং বিচারপতি জাকির হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত দ্বৈত বেঞ্চ (বেঞ্চ নং ১৯) শুনানি শেষে এই জামিন আদেশ মঞ্জুর করেন।

‎হাইকোর্টে জামিন শুনানির সময় আসামিপক্ষে আইনি লড়াই পরিচালনা করেন দেশের প্রথিতযশা আইনজীবী অ্যাডভোকেট জেডআই খান পান্না। তার সাথে শুনানিতে আরও অংশ নেন ব্যারিস্টার এনামুল কবির ইমন, ব্যারিস্টার কিশোর কুমার মন্ডল, ব্যারিস্টার ফারজানা শীলা এবং ব্যারিস্টার অনুকূল তালুকদার ডাল্টন।

আইনজীবীরা আদালতে যুক্তি দেখান যে, রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া এবং শ্রদ্ধা নিবেদন কোনোভাবেই সন্ত্রাসবাদের আওতায় পড়ে না। দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত ২১ আইনজীবীর জামিন মঞ্জুর করে আদেশ দেন।

‎ঘটনার সূত্রপাত গত ২৬ মার্চ, মহান স্বাধীনতা দিবসে। ওই দিন সুনামগঞ্জ কালেক্টরেট শহীদ মিনারে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের ব্যানারে একটি মিছিল সহকারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে যান দল সমর্থিত আইনজীবীরা। তবে এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পরবর্তীতে পুলিশের পক্ষ থেকে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়।

সুনামগঞ্জ সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আনোয়ারুল হক বাদী হয়ে উক্ত আইনজীবীদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। সাধারণ শ্রদ্ধা নিবেদনের ঘটনায় এমন গুরুতর ধারায় মামলা হওয়ায় সে সময় স্থানীয় রাজনৈতিক ও আইনি অঙ্গনে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছিল।

‎এই একই মামলায় ইতিপূর্বে সুনামগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক প্রভাবশালী নেতা ও আইনজীবী অ্যাডভোকেট শামীম আহমদ এবং সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি মনিষ কান্তি দে মিন্টুকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তারা দুজনই বেশ কিছুদিন জেল খেটে বর্তমানে জামিনে রয়েছেন। আজ ২১ জন আইনজীবীর আগাম জামিন পাওয়ার মধ্য দিয়ে এই মামলায় অভিযুক্তদের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত হলো।

‎উচ্চ আদালতের এই আদেশের পর সুনামগঞ্জ আইনজীবী সমিতির আওয়ামী লীগ পন্থী সদস্যদের মধ্যে স্বস্তি ও উদ্দীপনা দেখা গেছে। জামিন পাওয়া আইনজীবীরা জানিয়েছেন, তারা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং পেশাগত ও রাজনৈতিক দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এমন মামলার শিকার হওয়া দুঃখজনক। তবে উচ্চ আদালতের রায়ে তারা ন্যায়বিচার পেয়েছেন বলে মনে করছেন।

‎এই জামিন আদেশের ফলে দীর্ঘদিনের উৎকণ্ঠার অবসান ঘটল এবং সংশ্লিষ্ট আইনজীবীদের স্বাভাবিক পেশাগত জীবনে ফেরার পথ সুগম হলো। সুনামগঞ্জের সচেতন মহল মনে করছেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা নয় বরং সত্য ও ন্যায়ের ভিত্তিতেই আইনি প্রক্রিয়া পরিচালিত হওয়া প্রয়োজন।