মধ্যনগরে বাঁধ ভেঙে হু হু করে ঢুকছে পানি:
তলিয়ে যাচ্ছে ইয়ারন বিলের সোনালি ফসল, দিশেহারা কৃষক
- আপডেট সময়ঃ ১০:০৩:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
- / ১৯ বার পড়া হয়েছে।
সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলায় প্রকৃতির রুদ্ররোষে কৃষকের স্বপ্ন এখন খড়কুটোর মতো ভেসে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। মঙ্গলবার ভোররাতে পাহাড়ি ঢলের প্রবল চাপে বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের হামিদপুর সংলগ্ন জামগড়া খালের বাঁধটি ভেঙে গেলে হাওরজুড়ে হাহাকার ছড়িয়ে পড়ে।
বাঁধের ভাঙা অংশ দিয়ে ইয়ারন বিলে পানি প্রবেশ করায় তলিয়ে যাচ্ছে শত শত বিঘা জমির পাকা ও আধাপাকা বোরো ধান।
মঙ্গলবার ভোররাত থেকে শুরু হওয়া এই আকস্মিক বিপর্যয়ে কৃষকরা চরম আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। স্থানীয়রা জানান, উজানের পাহাড়ি ঢলে মনাই নদীর পানি অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পাওয়ায় জামগড়া খালের ওপর নির্মিত এই বাঁধটিতে প্রচণ্ড চাপের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে পানির বেগ সইতে না পেরে বাঁধটি ধসে পড়ে এবং প্রবল স্রোতে হাওরের দিকে পানি ধেয়ে যেতে থাকে। খবরটি ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার কৃষকরা তাদের ফসল রক্ষার শেষ চেষ্টায় হাওরে ভিড় জমান।
উপজেলা কৃষি অফিসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ইকরাছইর হাওরের এরনবিল অংশে প্রায় ৫০ হেক্টর এবং নন-হাওর এলাকায় আরও ৬৪ হেক্টরসহ মোট ১১৪ হেক্টর জমিতে ধান চাষ করা হয়েছিল। এর মধ্যে এরনবিল অংশের প্রায় ৪০ হেক্টর জমির ধান ইতোমধ্যে কাটা শেষ হলেও বাকি জমিগুলো এখন সরাসরি ঝুঁকির মুখে।
কৃষি বিভাগের মতে, অন্তত ১০ হেক্টর জমির ধান সরাসরি পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। তবে মাঠ পর্যায়ের কৃষকদের ভাষ্যমতে, বাস্তব চিত্র আরও ভয়াবহ। হাওরের অনেক নিচু এলাকায় এখনও অর্ধেকের বেশি ধান কাটা বাকি রয়ে গেছে, যা রক্ষা করা এখন সময়ের সাথে যুদ্ধের শামিল হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের আর্তনাদ এখন ভারী করে তুলছে মধ্যনগরের বাতাস। হামিদপুর গ্রামের কৃষক মো. তরিকুল ইসলাম জানান, বাঁধ ভাঙার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তার ৮ কাটা জমির ধান পানির নিচে চলে গেছে। পরিবারের সারা বছরের আহারের সংস্থান নিয়ে চিন্তিত তরিকুল এখন নিরুপায় হয়ে আধাপাকা ধানই কেটে ঘরে তোলার চেষ্টা করছেন।
তিনি জানান, পানি যদি পাশের উঁচু জমিতেও প্রবেশ করে, তবে তার আরও ২২ কাটা জমির ফসল সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যাবে। একই আশঙ্কার কথা জানান জয়পুর গ্রামের কৃষক আমিনুল ইসলাম।
বৈরী আবহাওয়া আর বাঁধ ভাঙা পানি—এই দুইয়ের কবলে পড়ে তারা এখন সর্বস্বান্ত হওয়ার পথে।
এ বিষয়ে বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলা কৃষি উপসহকারী কর্মকর্তা আকমল হোসেন পরিস্থিতির সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মূলত পাহাড়ি ঢলের কারণেই মনাই নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বাঁধটি ভেঙে গেছে। কৃষি বিভাগ থেকে কৃষকদের দ্রুত ধান কেটে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে যাতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমিয়ে আনা যায়।
তৎক্ষণাৎ বাঁধ মেরামতের মতো কারিগরি বা আর্থিক সক্ষমতা স্থানীয় কৃষকদের না থাকায় তারা এখন কেবল বিধাতার কৃপার ওপর নির্ভর করছেন। দ্রুত পানি প্রবেশ বন্ধ করা না গেলে এই হাওরের অবশিষ্ট ফসল ঘরে তোলা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।


















