‘দেশ কারও একার নয়, ২০ কোটি মানুষের'
প্রত্যেকের নিজ নাগরিক দায়িত্বের কথা মনে করিয়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- আপডেট সময়ঃ ০৮:০৩:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬
- / ০ বার পড়া হয়েছে।
“আমরা যখন টেলিভিশনে বিদেশের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাস্তাঘাট দেখি, তখন কি আমাদের মনে কিছুটা ঈর্ষা হয় না? মনে প্রশ্ন জাগে না—আমাদের দেশটা কেন এমন সুন্দর হতে পারে না? আমার কিন্তু এমন ঈর্ষা হয়।”—নাগরিকদের সচেতনতা ও দায়িত্ববোধের গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে ঠিক এভাবেই নিজের মনের কথা প্রকাশ করলেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
তিনি স্পষ্ট ভাষায় মনে করিয়ে দিয়েছেন, এই বাংলাদেশ কোনো একক সরকার, রাজনৈতিক দল, পরিবার কিংবা ব্যক্তির নয়; বরং দেশের প্রতিটি ধূলিকণার মালিক এখানকার ২০ কোটি মানুষ। তাই রাষ্ট্রকে সুন্দর করে গড়ে তোলার দায়িত্বও প্রত্যেকের।
শনিবার (৩০ মে) বিকেলে রাজধানীর জুরাইনে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে স্থানীয় শীতোষ্ণ ও দুস্থ মানুষের মাঝে খাদ্য ও বস্ত্র বিতরণের জন্য এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল।
উপস্থিত জনতাকে উদ্দেশ্য করে প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত সহজ ও বাস্তবসম্মত একটি হিসাব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আমরা অনেকেই মনে করি, চলন্ত পথে সামান্য এক-আধ কেজি বা কয়েক গ্রাম আবর্জনা যেখানে-সেখানে ফেলে দিলে কী-ই বা ক্ষতি হবে! কিন্তু কোনো সমাবেশে যখন হাজার হাজার মানুষ জড়ো হয়, আর প্রত্যেকে যদি মাত্র এক কেজি করেও ময়লা যত্রতত্র ফেলে, তবে মুহূর্তের মধ্যেই সেখানে প্রায় ১০ হাজার কেজি বা ১০ টন বর্জ্যের স্তূপ জমে যায়।
তিনি পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের প্রতি মানবিক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, যারা আমাদের শহর পরিষ্কার করেন, তারাও মানুষ এবং খুব সাধারণ জীবনযাপন করেন। আমরা যদি যত্রতত্র ময়লা ফেলে তাদের কষ্ট বাড়িয়ে না দিই, তবে তারা সহজেই পুরো এলাকা পরিচ্ছন্ন করতে পারবেন। এর সুফল দিনশেষে আমাদের নিজেদের পরিবার, সন্তান ও বাবা-মাই ভোগ করবেন একটি সুস্থ ও সুন্দর পরিবেশ পাওয়ার মাধ্যমে।
বিদেশের পরিচ্ছন্নতার উদাহরণ টেনে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, বাইরের দেশগুলো কিন্তু কোনো জাদুর ছোঁয়ায় পরিষ্কার থাকে না। সেখানে সিটি কর্পোরেশনের কর্মীরা যেমন দায়িত্ব পালন করেন, তেমনি সাধারণ নাগরিকরাও যত্রতত্র ময়লা ফেলা থেকে বিরত থাকেন।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, নিজের চারপাশ পরিচ্ছন্ন রাখতে কাউকে দেশের প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, মেয়র কিংবা ওয়ার্ড কমিশনার হতে হয় না। একজন সাধারণ ও সচেতন নাগরিক হিসেবেই এই দায়িত্ব পালন করা সম্ভব।
উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ব্যবহার করা টিস্যু পেপারটি রাস্তায় না ফেলে পকেটে রেখে দেওয়া কিংবা বাদাম খাওয়ার পর খোসাগুলো একটি নির্দিষ্ট স্থানে জড়ো করার মতো ছোট ছোট অভ্যাসই বড় পরিবর্তন আনতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত সবার উদ্দেশ্যে একটি মনস্তাত্ত্বিক প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন। তিনি বলেন, পরিচ্ছন্ন একটি শার্টে হঠাৎ চা বা খাবারের দাগ লাগলে যেমন আমাদের নিজেদের কাছেই খারাপ লাগে এবং আমরা সেই ময়লা পোশাক পরে থাকতে চাই না; ঠিক একইভাবে আমরা যে এলাকায় বা দেশে বসবাস করছি, তা নোংরা থাকলে আমাদের ভালো থাকার কথা নয়।
বক্তব্যের শেষাংশে তিনি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশ আজ ২০ কোটি মানুষের এক বিশাল পরিবার। আসুন, আমরা সবাই যদি নিজ নিজ জায়গা থেকে একটু সচেতন হই এবং সম্মিলিতভাবে চেষ্টা করি, তবে ইনশাআল্লাহ আমরা আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিকে একটি সুন্দর, গোছানো এবং দৃষ্টিনন্দন রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে পারবো।




















