হরমুজ প্রণালিতে পারদ চড়ছেঃ
ওমান উপসাগরে তেলবাহী ট্যাঙ্কারে রহস্যময় বিস্ফোরণ
- আপডেট সময়ঃ ০৮:০৮:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬
- / ২৯ বার পড়া হয়েছে।
ভূ-রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল ওমান উপসাগরে একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।
এতে জাহাজটির পানির নিচের অংশ (ওয়াটারলাইন) মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে যখন ওই অঞ্চলে বিশ্বশক্তির তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে, ঠিক তখনই এই হামলার ঘটনা ঘটল।
এই বিস্ফোরণকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় নতুন করে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা করা হচ্ছে।
যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশন্স (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, ওমানের রাজধানী মাস্কাট থেকে আনুমানিক ৬০ নটিক্যাল মাইল পূর্বে এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। প্রাথমিক অনুসন্ধান শেষে সংস্থাটি এটিকে একটি ‘বাহ্যিক বিস্ফোরণ’ বা বাইরে থেকে করা কোনো হামলা বলে নিশ্চিত করেছে। তবে কে বা কারা, কিংবা কী ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করে এই বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে—তা এখনও রহস্যে ঘেরা।
আক্রান্ত জাহাজটির ক্যাপ্টেনের (মাস্টার) দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিস্ফোরণের ধাক্কায় ট্যাঙ্কারে থাকা কিছু অপরিশোধিত জ্বালানি তেল সাগরে ছড়িয়ে পড়েছে, যা পরিবেশগত উদ্বেগের কারণ হতে পারে।
তবে আশার কথা হলো, জাহাজের মূল কাঠামোটি এখনো বড় কোনো বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে এবং এর সব ক্রু বা নাবিক সম্পূর্ণ নিরাপদ ও অক্ষত রয়েছেন।
বিশ্বের মোট তেল উৎপাদনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সরবরাহ করা হয় এই সংকীর্ণ ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে। বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের এই লাইফলাইনটি সাম্প্রতিক সময়ে অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে। অভিযোগ উঠেছে, এই নৌপথ অবরুদ্ধ করার উদ্দেশ্যে ইরান এর আশেপাশের জলসীমায় সামুদ্রিক মাইন পুঁতে রাখছে।
পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নেয় যখন এই বিস্ফোরণের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে মার্কিন সামরিক বাহিনী এক নাটকীয় পদক্ষেপ নেয়।
ইরানের বেশ কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি এবং মাইন স্থাপনের কাজে নিয়োজিত নৌযানগুলোকে লক্ষ্য করে রাতভর তীব্র বিমান হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী।
ওয়াশিংটনের সেই হামলার রেশ কাটতে না কাটতেই ওমান উপকূলে এই ট্যাঙ্কার বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটল, যা পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তাকে এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।











