তাহিরপুরে ৩ লাখ টাকার শুঁটকির চালান চুরি: চোরাই মালসহ পেশাদার চোর গ্রেফতার
- আপডেট সময়ঃ ১২:৫৩:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬
- / ১৮ বার পড়া হয়েছে।
সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে এক শুঁটকি ব্যবসায়ীর বসতবাড়িতে রাখা প্রায় তিন লাখ টাকা মূল্যের শুঁটকির চালান চুরির ঘটনা ঘটেছে।
এই চুরির ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মামুন মিয়া (২৫) নামে এক পেশাদার চোরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে চুরি হওয়া মালামালের আংশিক উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) ভোরে পুলিশি অভিযানে তাকে গ্রেফতার করা হয় এবং ওই দিনই আদালতের মাধ্যমে সুনামগঞ্জ জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গ্রেফতারকৃত মামুন উপজেলার পৈলনপুর গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বাদাঘাট বাজারের শুঁটকি ব্যবসায়ী ইসমাইল মিয়া ব্যবসার উদ্দেশ্যে গত ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে নীলফামারীর সৈয়দপুর থেকে ৬০টি বড় মাটির মটকাভর্তি সিদল শুঁটকি নিয়ে আসেন। তিনি এই শুঁটকির চালানটি তার নিজ গ্রাম পৈলনপুরে বসতবাড়ির উঠোনের একটি ফাঁকা স্থানে মজুত করে পর্যায়ক্রমে বিক্রি করে আসছিলেন।
গত বুধবার (১৪ জানুয়ারি) দিবাগত মধ্যরাত থেকে ভোররাতের কোনো এক সময়ে একটি সংঘবদ্ধ চোরচক্র ইসমাইলের বাড়িতে হানা দেয়। তারা কয়েক ধাপে উঠোন থেকে তিন লাখ টাকা মূল্যের ২০টি মাটির মটকাভর্তি শুঁটকি চুরি করে নিয়ে যায়। চোরচক্রটি এসব শুঁটকি জেলা শহর সুনামগঞ্জসহ বিভিন্ন হাটে কম মূল্যে ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে দেয়।
চুরির বিষয়টি টের পাওয়ার পর ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ইসমাইল বুধবার রাতে অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে তাহিরপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার পরপরই বাদাঘাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের একটি দল অভিযানে নামে।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ প্রথমে সুনামগঞ্জ জেলা শহরের এক শুঁটকি ব্যবসায়ীর হেফাজত থেকে চুরি হওয়া ৩টি মটকা উদ্ধার করে। পরে ওই ব্যবসায়ীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার ভোরে অভিযান চালিয়ে চোরচক্রের সদস্য মামুন মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়।
এ বিষয়ে তাহিরপুর থানার বাদাঘাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই হাফিজুল ইসলাম বলেন, “শুঁটকি চুরির অভিযোগ পাওয়ার পরপরই আমরা তৎপরতা শুরু করি। প্রাথমিক অভিযানে ৩ মটকা শুঁটকি উদ্ধারসহ একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত মামুন একজন পেশাদার চোর।”
তিনি আরও জানান, এই চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। এছাড়া চুরি হওয়া বাকি ১৭ মটকা শুঁটকি দ্রুত উদ্ধারের জন্য পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তাহিরপুর থানার পুলিশ জানায়, চুরির ঘটনার পর থেকেই তারা বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয়দের সহায়তায় এবং প্রযুক্তির সাহায্যে চোরচক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
এদিকে, শুঁটকি ব্যবসায়ী ইসমাইল মিয়া তার ব্যবসার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এবং চুরি হওয়া মালামাল ফিরে পেতে পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তিনি আশাবাদী যে, পুলিশ দ্রুত বাকি শুঁটকি উদ্ধার করবে এবং চোরদের আইনের আওতায় আনবে।
স্থানীয় জনগণও পুলিশের এই তৎপরতায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে এবং তারা আশা করছে যে, এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আর না ঘটে।











