০৫:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

রাজধানীর ‎বনশ্রীতে স্কুলছাত্রী নীলি হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন: অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় খুন, ঘাতক গ্রেপ্তার

হক বার্তা ডেস্ক রিপোর্টঃ
  • আপডেট সময়ঃ ০৮:০৯:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ২৩ বার পড়া হয়েছে।

‎রাজধানীর বনশ্রীতে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ফাতেমা আক্তার নীলি (১৮) হত্যাকাণ্ডের নৃশংস ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। 

‎চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা মো. মিলন মল্লিককে (২৬) বাগেরহাট থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। র‍্যাব জানিয়েছে, অনৈতিক প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়া এবং প্রতিবাদ করায় ক্ষিপ্ত হয়ে মিলন এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটায়

‎গতকাল সোমবার বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য জানান র‍্যাব-৩-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন।

 

‎সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গ্রেপ্তারকৃত মিলন মল্লিক বনশ্রীর একটি হোটেলের (বাবার হোটেল) কর্মচারী হিসেবে কাজ করত। সেই সুবাদে ভুক্তভোগী নীলিদের পরিবারের সাথে তার পরিচয় ছিল। মিলন দীর্ঘ দিন ধরে নীলিকে বিভিন্নভাবে কুপ্রস্তাব ও অনৈতিক প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। নীলি এসব প্রস্তাবের প্রতিবাদ করায় এবং ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করায় মিলন তার ওপর চরম ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং তাকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করে।

‎র‍্যাব ঘটনাস্থলের আশেপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে তা নিবিড়ভাবে বিশ্লেষণ করেছে। ফুটেজ অনুযায়ী, গত শনিবার দুপুর ১টা ৩৬ মিনিটে মিলন প্রথমবার নীলিদের বাসায় প্রবেশ করে। ১টা ৪১ মিনিটে নীলির বড় বোন শোভা আক্তারের সঙ্গে সে বাসা থেকে বের হয়ে যায়। পরে শোভা জিমে চলে গেলে মিলন সুযোগের সন্ধানে থাকে।

‎দুপুর ২টা ২৫ মিনিটে সে পুনরায় একা ওই বাসায় প্রবেশ করে এবং প্রায় ২০ মিনিট সেখানে অবস্থান করে। দুপুর ২টা ৪৫ মিনিটে তাকে দ্রুত ঘর থেকে বেরিয়ে যেতে দেখা যায়। এই ২০ মিনিটেই সে তার পৈশাচিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে।

‎জিজ্ঞাসাবাদে ঘাতক মিলন জানায়, সে পূর্ব-পরিকল্পনা অনুযায়ী একটি নাইলনের দড়ি সঙ্গে নিয়ে বাসায় ঢুকেছিল। দ্বিতীয়বার যখন সে বাসায় যায়, তখন নীলি একাই ছিলেন। মিলন আবারো তাকে অনৈতিক প্রস্তাব দিলে নীলি চিৎকার করে ওঠেন। এ সময় মিলন সাথে থাকা নাইলনের দড়ি দিয়ে নীলির গলা চেপে ধরে তাকে শ্বাসরোধ করার চেষ্টা করে। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে নীলি আরও জোরে চিৎকার করার চেষ্টা করলে আশপাশের লোকজন জড়ো হওয়ার ভয়ে মিলন হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। সে দ্রুত রান্নাঘরে গিয়ে সেখানে থাকা ধারালো অস্ত্র দিয়ে নীলির গলা কেটে হত্যা নিশ্চিত করে পালিয়ে যায়।

‎হত্যাকাণ্ডের পরপরই মিলন ঢাকা ছেড়ে পালিয়ে বাগেরহাটে আত্মগোপন করে। র‍্যাব-৩ ও র‍্যাব-৬-এর একটি চৌকস দল তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে তার অবস্থান শনাক্ত করে। রোববার সকালে বাগেরহাট সদর থানার সিংগা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ঘাতক মিলন মল্লিককে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত মিলন বাগেরহাটের মাণ্ডা বাঁশখালী এলাকার মৃত সেকেন্দার মল্লিকের ছেলে।

 

‎র‍্যাব-৩-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন বলেন, “হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে মিলন মল্লিক বিস্তারিত স্বীকারোক্তি দিয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন এবং তাকে দ্রুত আদালতে সোপর্দ করা হবে।” মামলার তদন্ত দ্রুততম সময়ে শেষ করে অপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে পুলিশ ও প্রসিকিউশনকে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে র‍্যাব।

‎এই মর্মান্তিক ঘটনায় বনশ্রী এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতের সহপাঠী ও এলাকাবাসী মিলনের দৃষ্টান্তমূলক ফাঁসির দাবি জানিয়েছেন।

 

 

‎তথ্যসহায়তাঃমানবজমিন

ট্যাগসঃ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

রাজধানীর ‎বনশ্রীতে স্কুলছাত্রী নীলি হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন: অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় খুন, ঘাতক গ্রেপ্তার

আপডেট সময়ঃ ০৮:০৯:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬

‎রাজধানীর বনশ্রীতে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ফাতেমা আক্তার নীলি (১৮) হত্যাকাণ্ডের নৃশংস ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। 

‎চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা মো. মিলন মল্লিককে (২৬) বাগেরহাট থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। র‍্যাব জানিয়েছে, অনৈতিক প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়া এবং প্রতিবাদ করায় ক্ষিপ্ত হয়ে মিলন এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটায়

‎গতকাল সোমবার বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য জানান র‍্যাব-৩-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন।

 

‎সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গ্রেপ্তারকৃত মিলন মল্লিক বনশ্রীর একটি হোটেলের (বাবার হোটেল) কর্মচারী হিসেবে কাজ করত। সেই সুবাদে ভুক্তভোগী নীলিদের পরিবারের সাথে তার পরিচয় ছিল। মিলন দীর্ঘ দিন ধরে নীলিকে বিভিন্নভাবে কুপ্রস্তাব ও অনৈতিক প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। নীলি এসব প্রস্তাবের প্রতিবাদ করায় এবং ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করায় মিলন তার ওপর চরম ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং তাকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করে।

‎র‍্যাব ঘটনাস্থলের আশেপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে তা নিবিড়ভাবে বিশ্লেষণ করেছে। ফুটেজ অনুযায়ী, গত শনিবার দুপুর ১টা ৩৬ মিনিটে মিলন প্রথমবার নীলিদের বাসায় প্রবেশ করে। ১টা ৪১ মিনিটে নীলির বড় বোন শোভা আক্তারের সঙ্গে সে বাসা থেকে বের হয়ে যায়। পরে শোভা জিমে চলে গেলে মিলন সুযোগের সন্ধানে থাকে।

‎দুপুর ২টা ২৫ মিনিটে সে পুনরায় একা ওই বাসায় প্রবেশ করে এবং প্রায় ২০ মিনিট সেখানে অবস্থান করে। দুপুর ২টা ৪৫ মিনিটে তাকে দ্রুত ঘর থেকে বেরিয়ে যেতে দেখা যায়। এই ২০ মিনিটেই সে তার পৈশাচিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে।

‎জিজ্ঞাসাবাদে ঘাতক মিলন জানায়, সে পূর্ব-পরিকল্পনা অনুযায়ী একটি নাইলনের দড়ি সঙ্গে নিয়ে বাসায় ঢুকেছিল। দ্বিতীয়বার যখন সে বাসায় যায়, তখন নীলি একাই ছিলেন। মিলন আবারো তাকে অনৈতিক প্রস্তাব দিলে নীলি চিৎকার করে ওঠেন। এ সময় মিলন সাথে থাকা নাইলনের দড়ি দিয়ে নীলির গলা চেপে ধরে তাকে শ্বাসরোধ করার চেষ্টা করে। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে নীলি আরও জোরে চিৎকার করার চেষ্টা করলে আশপাশের লোকজন জড়ো হওয়ার ভয়ে মিলন হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। সে দ্রুত রান্নাঘরে গিয়ে সেখানে থাকা ধারালো অস্ত্র দিয়ে নীলির গলা কেটে হত্যা নিশ্চিত করে পালিয়ে যায়।

‎হত্যাকাণ্ডের পরপরই মিলন ঢাকা ছেড়ে পালিয়ে বাগেরহাটে আত্মগোপন করে। র‍্যাব-৩ ও র‍্যাব-৬-এর একটি চৌকস দল তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে তার অবস্থান শনাক্ত করে। রোববার সকালে বাগেরহাট সদর থানার সিংগা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ঘাতক মিলন মল্লিককে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত মিলন বাগেরহাটের মাণ্ডা বাঁশখালী এলাকার মৃত সেকেন্দার মল্লিকের ছেলে।

 

‎র‍্যাব-৩-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন বলেন, “হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে মিলন মল্লিক বিস্তারিত স্বীকারোক্তি দিয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন এবং তাকে দ্রুত আদালতে সোপর্দ করা হবে।” মামলার তদন্ত দ্রুততম সময়ে শেষ করে অপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে পুলিশ ও প্রসিকিউশনকে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে র‍্যাব।

‎এই মর্মান্তিক ঘটনায় বনশ্রী এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতের সহপাঠী ও এলাকাবাসী মিলনের দৃষ্টান্তমূলক ফাঁসির দাবি জানিয়েছেন।

 

 

‎তথ্যসহায়তাঃমানবজমিন