ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২: জোটের সংহতি রক্ষায় জামায়াত প্রার্থীর সরে দাঁড়ালো, একক লড়াইয়ে আশরাফ উদ্দিন মাহদি
- আপডেট সময়ঃ ০৬:০৯:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬
- / ১৬ বার পড়া হয়েছে।
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-০২ (সরাইল–আশুগঞ্জ) আসনে ভোটের সমীকরণে নাটকীয় পরিবর্তন এসেছে।
১০ দলীয় জোটের ঐক্য সুসংহত করতে এবং ভোট ভাগাভাগি রোধে বড় ত্যাগ স্বীকার করেছেন জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী মাওলানা মোবারক হোসাইন।
মঙ্গলবার তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে তার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সমর্থিত জোটের একক প্রার্থী মাওলানা আশরাফ উদ্দিন মাহদির প্রতি পূর্ণ সমর্থন ঘোষণা করেন।
মঙ্গলবার দুপুরে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে মনোনয়ন প্রত্যাহারের পর জোটের স্থানীয় নেতাদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা দেখা গেছে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ১০ দলীয় জোটের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এবং বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিজয়ের পথ প্রশস্ত করতেই মাওলানা মোবারক হোসাইন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
জোটের নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, আসন্ন নির্বাচনে যেসব আসনে রাজনৈতিক পরিবর্তনের জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে, তার মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনটি তালিকার শীর্ষে। এই আসনে জোটের একক প্রার্থী নিশ্চিত হওয়ায় নির্বাচনী লড়াই এখন ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে।
১০ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী ও এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক মাওলানা আশরাফ উদ্দিন মাহদি এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, এই আসনের মাটি ও মানুষের সঙ্গে তার পরিবারের গভীর সম্পর্ক রয়েছে।
তিনি বলেন:”এই জনপদ একসময় আমার নানা, প্রখ্যাত আলেম ও রাজনীতিবিদ মুফতি ফজলুল হক আমিনীর বিচরণক্ষেত্র ছিল। তিনি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে এখান থেকে বিপুল ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। আমি কেবল তার উত্তরসূরি হিসেবে নয়, বরং তার অসমাপ্ত জনকল্যাণমূলক কাজগুলো বাস্তবায়ন করতেই আজ জনগণের দুয়ারে এসেছি।”
নির্বাচনী প্রচারণার গতিপ্রকৃতি নিয়ে মাওলানা মাহদি বলেন, সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অপরাজনীতিতে ক্লান্ত। তিনি অভিযোগ করেন, গত কয়েক বছরে যারা রাজনীতিকে সহিংসতা, পেশিশক্তি এবং কৌতুকের মঞ্চে পরিণত করেছে, সচেতন ভোটাররা এবার ব্যালট বিপ্লবের মাধ্যমে তাদের প্রত্যাখ্যান করবে।
তিনি আরও যোগ করেন, “সরাইল ও আশুগঞ্জবাসী এবার আর কালোটাকা বা পেশিশক্তির কাছে মাথা নত করবে না। তারা একটি পরিচ্ছন্ন, আদর্শবাদী ও জবাবদিহিমূলক রাজনীতি চায়। মাওলানা মোবারক হোসাইনের এই আত্মত্যাগ আমাদের জোটকে এক অপরাজেয় শক্তিতে পরিণত করেছে।”
মাওলানা মোবারক হোসাইনের মনোনয়ন প্রত্যাহারের খবর ছড়িয়ে পড়লে সরাইল ও আশুগঞ্জের তৃণমূল নেতা-কর্মীদের মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্য দেখা দেয়। স্থানীয় বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াতের একটি বড় ভোট ব্যাংক এই আসনে জয়-পরাজয় নির্ধারণে ভূমিকা রাখে। এখন জামায়াত প্রার্থী সরে দাঁড়িয়ে এনসিপি প্রার্থীকে সমর্থন দেয়ায় মাহদির পাল্লা অনেকটা ভারী হলো। সাধারণ ভোটাররা এই সমঝোতাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন এবং একে “পরিবর্তনের বার্তা” হিসেবে গণ্য করছেন।
নির্বাচনী মাঠের সর্বশেষ অবস্থা অনুযায়ী, ১০ দলীয় জোট এখন এই আসনে সর্বশক্তি নিয়ে প্রচারণায় নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে।











