০১:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
ফলোআপ - ৩

‎সুনামগঞ্জে গৃহবধূ সুমী হত্যা মামলা: স্বামী কিশাল শেখর ১ দিনের রিমান্ডে, রহস্য উদ্ঘাটনে মরিয়া সদর পুলিশ

স্টাফ রিপোর্টারঃ
  • আপডেট সময়ঃ ১০:৩৩:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ৩৪ বার পড়া হয়েছে।

‎সুনামগঞ্জ পৌর শহরে গৃহবধূ সুমী দাস চৌধুরীর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় দায়েরকৃত হত্যা মামলায় গ্রেপ্তারকৃত স্বামী কিশাল শেখর দাশের (২৪) এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। 

‎মামলার সুষ্ঠু তদন্ত এবং মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশের আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত এই আদেশ দেন

‎আজ সুনামগঞ্জ সদর আমলী আদালতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ৫ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে আসামিকে হাজির করেন। শুনানিকালে তদন্ত কর্মকর্তা যুক্তি দেখান যে, সুমীর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং এই ঘটনার নেপথ্যে অন্য কারো ইন্ধন বা সম্পৃক্ততা আছে কি না, তা জানার জন্য আসামিকে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।

‎অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ডের বিরোধিতা করে দাবি করেন, আসামি পুলিশ হেফাজতেই আছেন, তাই নতুন করে রিমান্ডের প্রয়োজন নেই। উভয় পক্ষের দীর্ঘ শুনানি শেষে বিজ্ঞ বিচারক এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

‎মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) আসাদুজ্জামান গণমাধ্যমকে বলেন, “এটি একটি স্পর্শকাতর মামলা। গৃহবধূ সুমীর মৃত্যু কীভাবে হয়েছে এবং এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড কি না, তা নিশ্চিত হওয়া জরুরি। জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে আমরা জানার চেষ্টা করব ঘটনার সময় ঠিক কী ঘটেছিল এবং এর পেছনে আর কোন কোন মোটিভ কাজ করেছে।”

‎মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, নিহত সুমী দাস চৌধুরী (২১) হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার দত্তগ্রামের ধনরঞ্জন চৌধুরীর মেয়ে। মাত্র ৭ মাস আগে সুনামগঞ্জ পৌর শহরের কুলেন্দু শেখর দাশের ছেলে কিশাল শেখর দাশের সাথে তার পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়।

গত ৭ জানুয়ারি বুধবার সন্ধ্যায় সুমীর রহস্যজনক মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। স্থানীয়ভাবে ঘটনাটি ‘আত্মহত্যা’ বলে প্রচার করা হলেও নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে একে ‘পরিকল্পিত হত্যা’ বলে দাবি করা হচ্ছে।

‎এ ঘটনায় সুমীর স্বামী কিশাল শেখর দাশ, শ্বশুর কুলেন্দু শেখর দাশ ও শাশুড়ি রীপা দাশসহ মোট ৩ জনকে অভিযুক্ত করে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

‎বিয়ের মাত্র সাত মাসের মাথায় এই তরুণী গৃহবধূর এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন কারণে সুমীর ওপর মানসিক বা শারীরিক চাপ থাকতে পারে। পুলিশের এই রিমান্ডের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে বলে আশা করছেন নিহতের স্বজনরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

ফলোআপ - ৩

‎সুনামগঞ্জে গৃহবধূ সুমী হত্যা মামলা: স্বামী কিশাল শেখর ১ দিনের রিমান্ডে, রহস্য উদ্ঘাটনে মরিয়া সদর পুলিশ

আপডেট সময়ঃ ১০:৩৩:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬

‎সুনামগঞ্জ পৌর শহরে গৃহবধূ সুমী দাস চৌধুরীর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় দায়েরকৃত হত্যা মামলায় গ্রেপ্তারকৃত স্বামী কিশাল শেখর দাশের (২৪) এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। 

‎মামলার সুষ্ঠু তদন্ত এবং মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশের আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত এই আদেশ দেন

‎আজ সুনামগঞ্জ সদর আমলী আদালতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ৫ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে আসামিকে হাজির করেন। শুনানিকালে তদন্ত কর্মকর্তা যুক্তি দেখান যে, সুমীর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং এই ঘটনার নেপথ্যে অন্য কারো ইন্ধন বা সম্পৃক্ততা আছে কি না, তা জানার জন্য আসামিকে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।

‎অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ডের বিরোধিতা করে দাবি করেন, আসামি পুলিশ হেফাজতেই আছেন, তাই নতুন করে রিমান্ডের প্রয়োজন নেই। উভয় পক্ষের দীর্ঘ শুনানি শেষে বিজ্ঞ বিচারক এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

‎মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) আসাদুজ্জামান গণমাধ্যমকে বলেন, “এটি একটি স্পর্শকাতর মামলা। গৃহবধূ সুমীর মৃত্যু কীভাবে হয়েছে এবং এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড কি না, তা নিশ্চিত হওয়া জরুরি। জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে আমরা জানার চেষ্টা করব ঘটনার সময় ঠিক কী ঘটেছিল এবং এর পেছনে আর কোন কোন মোটিভ কাজ করেছে।”

‎মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, নিহত সুমী দাস চৌধুরী (২১) হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার দত্তগ্রামের ধনরঞ্জন চৌধুরীর মেয়ে। মাত্র ৭ মাস আগে সুনামগঞ্জ পৌর শহরের কুলেন্দু শেখর দাশের ছেলে কিশাল শেখর দাশের সাথে তার পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়।

গত ৭ জানুয়ারি বুধবার সন্ধ্যায় সুমীর রহস্যজনক মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। স্থানীয়ভাবে ঘটনাটি ‘আত্মহত্যা’ বলে প্রচার করা হলেও নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে একে ‘পরিকল্পিত হত্যা’ বলে দাবি করা হচ্ছে।

‎এ ঘটনায় সুমীর স্বামী কিশাল শেখর দাশ, শ্বশুর কুলেন্দু শেখর দাশ ও শাশুড়ি রীপা দাশসহ মোট ৩ জনকে অভিযুক্ত করে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

‎বিয়ের মাত্র সাত মাসের মাথায় এই তরুণী গৃহবধূর এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন কারণে সুমীর ওপর মানসিক বা শারীরিক চাপ থাকতে পারে। পুলিশের এই রিমান্ডের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে বলে আশা করছেন নিহতের স্বজনরা।