১১:০৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সুনামগঞ্জে সুরমায় পুলিশের অভিযান: অবৈধ বালুভর্তি ৪টি নৌকা জব্দ, আটক ৪

হক বার্তা ডেস্ক রিপোর্টঃ
  • আপডেট সময়ঃ ০৫:৩৯:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ২১ বার পড়া হয়েছে।

‎সুনামগঞ্জের সুরমা নদীতে রাতের আঁধারে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। 

‎শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) ভোরে সদর উপজেলার ৩নং সুরমা ইউনিয়নের কুরুতলা এলাকায় এই অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে বালুভর্তি চারটি বড় ‘পঙ্গপাল’ কাঠের নৌকা জব্দসহ চারজনকে আটক করা হয়েছে।

‎দীর্ঘদিন ধরে একটি অসাধু চক্র প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে সুরমা নদীর বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে ড্রেজার ও পঙ্গপাল নৌকা দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছিল। এতে নদীর গতিপথ পরিবর্তনসহ ভাঙন আতঙ্কে ভুগছিলেন নদীপাড়ের মানুষ। আজ ফজরের নামাজের আগে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, কুরুতলা সংলগ্ন নদীর মাঝখান থেকে বালু উত্তোলনের মহোৎসব চলছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশের একটি চৌকস দল দ্রুত ঘটনাস্থলে অভিযানে যায়।

‎অভিযান চলাকালে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে বেশ কয়েকটি নৌকা দ্রুত পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও পুলিশ চারপাশ থেকে ঘিরে বালুভর্তি ৪টি বড় পঙ্গপাল নৌকা জব্দ করে। এসময় নৌকায় অবস্থানরত চারজন শ্রমিক ও বালু ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়।

‎আটককৃতরা হলেন- কুরুতলা গ্রামের মো. সিকান্দার আলীর ছেলে মো. রাজা মিয়া (২৭), সদরগড় এলাকার জয়নাল উদ্দিনের ছেলে মো. আমির হামজা (২৪), আমিরপুর গ্রামের মো. কাচা মিয়ার ছেলে মো. আব্দুর রহিম (২৮) এবং একই গ্রামের আব্দুন নূরের ছেলে মো. আনোয়ার হোসেন।

‎অভিযান প্রসঙ্গে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রতন শেখ জানান, “নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন পরিবেশ ও জানমালের জন্য চরম হুমকিস্বরূপ। সরকারের সম্পদ রক্ষায় আমাদের এই জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত থাকবে। যারা আইন অমান্য করে রাতের আঁধারে বালু চুরি করছে, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। আটককৃতদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং পলাতক নৌকাগুলো শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।”

‎এদিকে পুলিশের এই ঝটিকা অভিযানে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। তারা জানান, অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে নদীর পাড় ভেঙে কুরুতলাসহ আশপাশের গ্রামগুলো হুমকির মুখে রয়েছে। প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থান নিয়মিত বজায় রাখার দাবি জানিয়েছেন তারা।

ট্যাগসঃ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

সুনামগঞ্জে সুরমায় পুলিশের অভিযান: অবৈধ বালুভর্তি ৪টি নৌকা জব্দ, আটক ৪

আপডেট সময়ঃ ০৫:৩৯:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬

‎সুনামগঞ্জের সুরমা নদীতে রাতের আঁধারে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। 

‎শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) ভোরে সদর উপজেলার ৩নং সুরমা ইউনিয়নের কুরুতলা এলাকায় এই অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে বালুভর্তি চারটি বড় ‘পঙ্গপাল’ কাঠের নৌকা জব্দসহ চারজনকে আটক করা হয়েছে।

‎দীর্ঘদিন ধরে একটি অসাধু চক্র প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে সুরমা নদীর বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে ড্রেজার ও পঙ্গপাল নৌকা দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছিল। এতে নদীর গতিপথ পরিবর্তনসহ ভাঙন আতঙ্কে ভুগছিলেন নদীপাড়ের মানুষ। আজ ফজরের নামাজের আগে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, কুরুতলা সংলগ্ন নদীর মাঝখান থেকে বালু উত্তোলনের মহোৎসব চলছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশের একটি চৌকস দল দ্রুত ঘটনাস্থলে অভিযানে যায়।

‎অভিযান চলাকালে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে বেশ কয়েকটি নৌকা দ্রুত পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও পুলিশ চারপাশ থেকে ঘিরে বালুভর্তি ৪টি বড় পঙ্গপাল নৌকা জব্দ করে। এসময় নৌকায় অবস্থানরত চারজন শ্রমিক ও বালু ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়।

‎আটককৃতরা হলেন- কুরুতলা গ্রামের মো. সিকান্দার আলীর ছেলে মো. রাজা মিয়া (২৭), সদরগড় এলাকার জয়নাল উদ্দিনের ছেলে মো. আমির হামজা (২৪), আমিরপুর গ্রামের মো. কাচা মিয়ার ছেলে মো. আব্দুর রহিম (২৮) এবং একই গ্রামের আব্দুন নূরের ছেলে মো. আনোয়ার হোসেন।

‎অভিযান প্রসঙ্গে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রতন শেখ জানান, “নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন পরিবেশ ও জানমালের জন্য চরম হুমকিস্বরূপ। সরকারের সম্পদ রক্ষায় আমাদের এই জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত থাকবে। যারা আইন অমান্য করে রাতের আঁধারে বালু চুরি করছে, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। আটককৃতদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং পলাতক নৌকাগুলো শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।”

‎এদিকে পুলিশের এই ঝটিকা অভিযানে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। তারা জানান, অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে নদীর পাড় ভেঙে কুরুতলাসহ আশপাশের গ্রামগুলো হুমকির মুখে রয়েছে। প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থান নিয়মিত বজায় রাখার দাবি জানিয়েছেন তারা।