সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে রোগীর চাপ, সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন কর্তৃপক্ষ ও চিকিৎসরা
- আপডেট সময়ঃ ০৩:১০:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬
- / ২২ বার পড়া হয়েছে।
হকবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট;
৩০ আগস্ট ২০২৬
সুনামগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে হঠাৎ করেই বেড়েছে রোগীর চাপ। হাম, ডায়রিয়া, শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিনই বিপুলসংখ্যক রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। বিশেষ করে শিশু রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও চিকিৎসকরা।
শনিবার (৩০ আগস্ট) সকাল পর্যন্ত হাসপাতালটিতে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯১২ জনে। এর মধ্যে প্রায় তিন শতাধিক শিশু হাম ও ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে। শুধু হাম আক্রান্ত শিশুর সংখ্যাই ১০০ জনের বেশি বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।
হঠাৎ রোগীর সংখ্যা কয়েকগুণ বেড়ে যাওয়ায় হাসপাতালের ইনডোর ও আউটডোর—দুই বিভাগেই দেখা দিয়েছে তীব্র চাপ। সরকারি ছুটির দিনেও হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে ছিল উপচেপড়া ভিড়। রোগীর জায়গা সংকুলান না হওয়ায় হাসপাতালের বারান্দা ও মেঝেতেও অনেককে চিকিৎসা নিতে দেখা গেছে।
শিশু ওয়ার্ডে সবচেয়ে বেশি চাপ;
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ডায়রিয়া ও শিশু ওয়ার্ডে বর্তমানে প্রায় তিন শতাধিক শিশু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছে। তাদের মধ্যে শতাধিক শিশু হাম আক্রান্ত। পাশাপাশি শ্বাসকষ্ট ও অন্যান্য জটিলতা নিয়েও অনেক শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।
হাম একটি সংক্রামক রোগ হওয়ায় আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা ও পরিচর্যা করতে গিয়ে হাসপাতালের স্বাস্থ্যকর্মী এবং আউটসোর্সিং কর্মীদের মধ্যেও সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েকজন স্বাস্থ্যসেবী হাম আক্রান্ত হয়েছেন বলেও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।
চিকিৎসক সংকটে বাড়ছে দুর্ভোগ;
রোগীর চাপ সামাল দিতে গিয়ে সবচেয়ে বড় সংকট হিসেবে দেখা দিয়েছে চিকিৎসক ও জনবল ঘাটতি। হাসপাতাল সূত্র জানায়, ৭৪টি চিকিৎসক পদের মধ্যে ৫০টি পদই দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। অর্থাৎ হাসপাতালের প্রায় ৬৭ শতাংশ চিকিৎসক পদে বর্তমানে কোনো চিকিৎসক নেই।
এ ছাড়া ৬৪টি নার্সের পদও দীর্ঘদিন ধরে শূন্য পড়ে আছে। হাসপাতালের অনুমোদিত মোট ৪৭২ জন জনবলের বিপরীতে বর্তমানে ২২২টি পদ শূন্য রয়েছে।
জনবল সংকটের মধ্যেই স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি রোগী ভর্তি হওয়ায় চিকিৎসক ও নার্সদের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে। এতে কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
রোগীর চাপে শৃঙ্খলা ভেঙে পড়ার উপক্রম;
হাসপাতালে অতিরিক্ত রোগীর চাপের কারণে বিভিন্ন ওয়ার্ড ও বারান্দায় রোগী ও স্বজনদের ভিড় বেড়েছে। এতে হাসপাতালের স্বাভাবিক পরিবেশ ও শৃঙ্খলা বজায় রাখাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
সুনামগঞ্জ শহরের হাসননগর এলাকার বাসিন্দা মোজাহিদুল ইসলাম মজনু বলেন, “হাসপাতালে এখন স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় তিনগুণেরও বেশি রোগী ভর্তি রয়েছে। বারান্দাতেও জায়গা পাওয়া যাচ্ছে না। বিশেষ করে হামে আক্রান্ত শিশুদের নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। রোগীর অতিরিক্ত চাপের কারণে হাসপাতালের স্বাভাবিক শৃঙ্খলাও ব্যাহত হচ্ছে।” ‘অল্প চিকিৎসক দিয়ে এত রোগীর চাপ সামলানো কঠিন’।
সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের পরিচালক ডা. আহম্মদ হোসেন বলেন, শনিবার সকালে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ছিল ৯১২ জন। দিনের সঙ্গে সঙ্গে এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
তিনি বলেন, “এত বিপুলসংখ্যক রোগীর চাপ অল্পসংখ্যক চিকিৎসক দিয়ে সামলানো অত্যন্ত কঠিন। বর্তমানে হাম, ডায়রিয়া ও শিশুদের বিভিন্ন রোগের চাপ বেশি। হামে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে স্বাস্থ্যকর্মীরাও সংক্রমণের ঝুঁকিতে পড়ছেন।”
হাসপাতালের শূন্য পদগুলোতে দ্রুত চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, রোগীর চাপ স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কয়েকগুণ বেড়ে যাওয়ায় চিকিৎসাসেবা দিতে সংশ্লিষ্টদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।
দ্রুত জনবল নিয়োগের দাবি;
সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে একদিকে হাম, ডায়রিয়া ও শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে, অন্যদিকে দীর্ঘদিনের চিকিৎসক ও জনবল সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। বিশেষ করে শিশু রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় পর্যাপ্ত চিকিৎসক, নার্স ও সহায়ক জনবল নিশ্চিত করা জরুরি হয়ে পড়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, রোগীর চাপ অব্যাহত থাকলে হাসপাতালের বিদ্যমান জনবল দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া আরও কঠিন হয়ে পড়বে। তাই দ্রুত শূন্য পদে চিকিৎসক, নার্সসহ প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ এবং রোগীদের জন্য পর্যাপ্ত চিকিৎসা ও সুরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি।










